এআইয়ের পরামর্শে ওষুধ খেয়ে প্রকৌশলীর মৃত্যু, মামলা করলো পরিবার

ওয়াশিংটনের সিয়াটলে ৩১ বছর বয়সী এক সফটওয়্যার প্রকৌশলীর মৃত্যু হয়েছে। চ্যাটজিপিটি তাকে মৃগীরোগের ওষুধ ধীরে ধীরে কমিয়ে বন্ধ করার পরামর্শ দেয় এবং এ পরিকল্পনা চিকিৎসকদের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখতে বলে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। নিহত বোয়েন ওয়ানের বাবা-মা ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাদের অভিযোগ, লাইসেন্স ছাড়াই চিকিৎসাচর্চা করেছে চ্যাটবটটি। বোয়েনের মৃত্যুর কারণ মৃগীরোগে আকস্মিক অপ্রত্যাশিত মৃত্যু।

বোয়েনের মৃত্যুর পর তার বাবা কুন ওয়ান মেয়ের চ্যাটজিপিটি অ্যাপ খুলে এমন পরিকল্পনা দেখতে পান, যেখানে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তার ল্যামোট্রিজিন ওষুধের মাত্রা ৪০০ মিলিগ্রাম থেকে শূন্যে নামিয়ে আনার কথা ছিল। নিউইয়র্ক টাইমস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন মেডিসিন রিজিওনাল এপিলেপসি সেন্টারের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ নিকোলাস পুলোস বোয়েনের চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। তিনি চ্যাটবটের পরামর্শকে অবহেলাজনিত চিকিৎসা বলেছেন। তার ভাষ্য, বোয়েনের মতো রোগীর ক্ষেত্রে ওষুধ কমানোর কথা তিনি কখনও ভাবতেনই না।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ওষুধ ছাড়ার বিপজ্জনক উপসর্গগুলোকে চ্যাটবট গুরুত্বহীন করে দেখিয়েছে এবং তার চিকিৎসকদের বাধা হিসেবে উপস্থাপন করেছে। ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র ড্রু পুসাতেরি ঘটনাটিকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি বলেছেন। তিনি দাবি করেন, এতে জিপিটি-৪ ও ব্যবহৃত হয়েছে, যা আগের মডেল এবং এখন আর পাওয়া যায় না। তার মতে, জরুরি মনোযোগের প্রয়োজন কখন, তা শনাক্ত করায় নতুন মডেলগুলো আরও ভালো।

বোয়েনের বাবা-মায়ের দেওয়া চ্যাট লগে দেখা যায়, চ্যাটবটের উত্তর তার প্রশ্নের সঙ্গে কতটা মিলে গিয়েছিল। বোয়েন দ্রুত ওষুধের মাত্রা ৩০০ বা এমনকি ২০০ মিলিগ্রামে নামিয়ে আনার কথা জিজ্ঞেস করলে চ্যাটবট পরিকল্পনাটিকে যুক্তিসংগত বলে এবং কমানোর সময়সূচি তৈরি করে দেয়। এমনকি চিকিৎসকের কাছ থেকে ওষুধ কমানোর বিষয়টি লুকিয়ে রাখাকে সে কার্যকর এড়িয়ে চলার কৌশল বলে বর্ণনা করে। বোয়েন বিভ্রান্তি ও চেতনা হারানোর মুহূর্তের কথা জানালে চ্যাটবট তাকে আশ্বস্ত করে যে তার মস্তিষ্ক কেবল নতুন অবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে।

২০২১ সালে খিঁচুনি ফিরে এলে অ্যামাজন থেকে অসুস্থতাজনিত ছুটিতে যান বোয়েন। ক্রমে আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তিনি এবং ২০২৩ সালে চ্যাটজিপিটির দ্বারস্থ হন। ২০২৫ সালের মধ্যে সপ্তাহে তার বার্তা বিনিময় দাঁড়ায় দেড় হাজারেরও বেশি। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে ছাঁটাই ও ভিসার চাপের মুখে তিনি আবারও ওষুধের মাত্রা কমানোর বিষয়ে জানতে চান, এবার প্রথমে ৩০০, তারপর ২০০ মিলিগ্রামে। চ্যাটবট আবারও এটিকে যুক্তিসংগত বলে এবং শিগগিরই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা বন্ধ করে দেয়।

নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বোয়েন অন্তত ১৫৮ বার উদ্বেগ জানিয়েছেন। তার বাবা পরে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওষুধ শূন্যে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা খুঁজে পান। শেষ বার্তাগুলোয় কথা জড়িয়ে যাওয়া ও ঘুমের সমস্যা সত্ত্বেও চ্যাটবট তাকে ০ মিলিগ্রামেই থাকতে বলে। ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার একটু পরে তিনি শেষ বার্তা পাঠান। পরে বন্ধুরা তাকে নিস্তেজ অবস্থায় পান।

সূত্র: উইয়ন নিউজ