ক্ষমতা অর্জন ও অন্যের ওপর প্রভাব বিস্তারের কৌশল নিয়ে লেখা বই ‘দ্য ৪৮ লজ অব পাওয়ার’। যুক্তরাষ্ট্রের লেখক ও নাট্যকার রবার্ট গ্রিনের লেখা এই নন-ফিকশন বইয়ে ক্ষমতা ধরে রাখা ও অন্যের ওপর প্রভাব বিস্তারের কৌশল তুলে ধরা হয়েছে। প্রলোভন ও প্রতারণার কৌশল আয়ত্ত করার তিন হাজার বছরের জ্ঞান রয়েছে বইটিতে। ইতিহাসের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও কৌশলবিদদের অভিজ্ঞতা থেকে বিভিন্ন নীতি তুলে ধরেছেন রবার্ট গ্রিন। এ ক্ষেত্রে নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি, সান জু ও হেনরি কিসিঞ্জারের মতো ব্যক্তিত্বের চিন্তাভাবনা ও কৌশল বইটির ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রবার্ট গ্রিনের ‘দ্য ৪৮ লজ অব পাওয়ার’-এর উপর ভিত্তি করে ক্লাউডে এআই দিয়ে বেশ কিছু পেজ বা ব্যবহারকারীরা শিক্ষামূলক ভিডিও বানাচ্ছেন, যা বর্তমানে শীর্ষে আলোচনায় রয়েছে।
বইটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নীতিগুলোর একটি হলো প্রথম নিয়ম-‘কখনও নিজের মনিব বা প্রধানকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না’। এই নীতির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ঊর্ধ্বতনের চেয়ে ভালো কোনও ধারণা বা প্রস্তাব থাকলে সেটি নিজের নামে না চালিয়ে তার কৃতিত্ব ঊর্ধ্বতনকেই দিতে হবে। গ্রিনের মতে, নিজের ক্ষমতা আড়াল করতে পারাও একধরনের শক্তি, দুর্বলতা নয়।
বইটির ১২তম নিয়মে বলা হয়েছে, ‘শিকারকে নিরস্ত্র করতে সততা ও উদারতা ব্যবহার করুন’। এই নীতির ব্যাখ্যায় রবার্ট গ্রিন ট্রোজান হর্সের উদাহরণ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে কোনও কিছুর প্রকৃত উদ্দেশ্য আড়াল করে অন্যকে প্রভাবিত করার কৌশল তুলে ধরা হয়েছে।
১৩তম নিয়মে বলা হয়েছে, ‘সাহায্য চাইতে হলে মানুষের নিজস্ব স্বার্থের কথা তুলে ধরুন, তাদের দয়া বা কৃতজ্ঞতার ওপর নির্ভর করবেন না’। গ্রিনের ব্যাখ্যায়, অন্যের কাছে সাহায্য চাওয়া জীবনের অনিবার্য ও বাস্তব একটি বিষয়। তবে ইতিবাচক সাড়া পেতে হলে বোঝাতে হবে, আপনাকে সাহায্য করার মধ্য দিয়ে ওই ব্যক্তির নিজেরও বেশি লাভ হবে।
রবার্ট গ্রিনের অন্যান্য আন্তর্জাতিক বেস্টসেলার বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘দ্য ৩৩ স্ট্র্যাটেজিস অব ওয়ার’, ‘দ্য ৫০থ ল’, ‘দ্য আর্ট অব সিডাকশন’, ‘মাস্টারি’ এবং ‘দ্য লজ অব হিউম্যান নেচার’।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলেতে পড়াশোনার পর উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ধ্রুপদি সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন গ্রিন। স্নাতক শেষ করে তিনি ইউরোপে চলে যান। ১৯৯৮ সালে ইতালিতে অবস্থানকালে প্রকাশ করেন ‘দ্য ৪৮ লজ অব পাওয়ার’। বইটির ১২ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছে এবং ২৪টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
সূত্র: আরব নিউজ