আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ গাড়িতে থাকা মাইক্রোফোন, ক্যামেরা ও জিপিএস ট্র্যাকারের মতো স্মার্ট ফিচারগুলো ব্যবহার করে শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্রগুলো ড্রাইভার ও যাত্রীদের ওপর নজরদারি চালাতে পারে বলে সতর্ক করেছে ডাচ গোয়েন্দা সংস্থা।
ডাচ জেনারেল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি সার্ভিস (এআইভিডি) বুধবার প্রকাশিত এক নথিতে আধুনিক যানবাহনে গোয়েন্দাগিরির ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানায়। সংস্থাটি নির্দিষ্ট কোনও দেশের নাম না বললেও, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে চীনা ইলেকট্রিক গাড়ির চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই সতর্কবার্তা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এআইভিডি জানায়, আধুনিক গাড়িগুলো দিন দিন আরও স্মার্ট হচ্ছে এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রচুর তথ্য সংগ্রহ করছে। তারা উল্লেখ করে, একদিকে এটি ব্যবহারিক সুবিধা দিলেও, অন্যদিকে এই সিস্টেমগুলো যাত্রী, গাড়ি ও আশেপাশের বস্তুর প্রচুর তথ্য সংগ্রহ করে। রাষ্ট্রীয় সংস্থাসহ বিভিন্ন পক্ষ এসব তথ্যে প্রবেশাধিকার পেতে পারে।
সংস্থাটি সতর্ক করে যে কিছু গাড়িতে দূর থেকে মাইক্রোফোন ও ক্যামেরা চালু করা সামর্থ্য রয়েছে, যার মাধ্যমে দুষ্কৃতকারীরা কথোপকথনে আড়িপাততে এবং ছবি তুলতে পারে। এ কারণে সংবেদনশীল স্থানে যাওয়ার সময় গাড়ির ভেতর গোপনীয় কথোপকথন না চালানো এবং বহিঃস্থ ক্যামেরা ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। এ ছাড়া ব্লুটুথ, ওয়াইফাই বা চার্জিং সিস্টেমের মাধ্যমে ফোন যুক্ত করলে ডিভাইস থেকে ডেটা চুরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের সোসাইটি অব মোটর ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে নিবন্ধিত নতুন গাড়ির ১৫ শতাংশই চীনা ব্র্যান্ডের। দেশটির এমপিরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, চীনের জাতীয় গোয়েন্দা আইন অনুযায়ী দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য দিতে বাধ্য। ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দেশটির স্পর্শকাতর সামরিক ঘাটিগুলোতে চীনা যন্ত্রাংশ থাকা গাড়ি নিষিদ্ধ করেছে এবং ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলো কর্মীদের চীনা গাড়িতে ফোন সংযুক্ত না করার পরামর্শ দিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে চীনের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ বন্ধ করতে বিরল সতর্কবার্তা দিয়েছে এমআইফাইভ। লন্ডনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এই অভিযোগকে ‘কল্পিত ও সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান