আইফোনের ব্যাটারি দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে সময়ের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই কার্যক্ষমতা হারায়। দ্রুত চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া কিংবা ফোন গরম হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলেই অনেকে ব্যাটারি বদলের সিদ্ধান্ত নেন। তবে শুধু এসব লক্ষণের ভিত্তিতে নয়, ব্যাটারি হেলথের তথ্যের পাশাপাশি আইফোনের ব্যবহারে কিছু নির্দিষ্ট পরিবর্তন দেখা দিলেও ব্যাটারি পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়।
আইফোনের যেকোনও মডেলের ব্যাটারির বর্তমান অবস্থা জানতে সেটিংস > ব্যাটারি > ব্যাটারি হেলথ অপশনে যেতে হবে। সেখানে ‘ম্যাক্সিমাম ক্যাপাসিটি’ অপশনে নতুন অবস্থার তুলনায় আইফোনের ব্যাটারি বর্তমানে সর্বোচ্চ কত শতাংশ চার্জ ধারণ করতে পারছে, তা দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, এই মান ৮০ শতাংশ দেখালে বোঝায়, ব্যাটারিটি নতুন অবস্থায় যে পরিমাণ চার্জ ধারণ করতে পারত, এখন তার সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ ধারণ করতে পারছে। এই হার ৮০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে অ্যাপল ব্যাটারিটিকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হিসেবে বিবেচনা করে। এমন অবস্থায় আইফোনে ব্যাটারি পরিবর্তনের পরামর্শও দেখানো হতে পারে।
তবে ব্যাটারি হেলথ ৮০ শতাংশের ওপরে থাকলেও, নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ দেখা দিলে সেটি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। স্বাভাবিক ব্যবহারে আগের তুলনায় অনেক দ্রুত চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া, দিনে একাধিকবার ফোন চার্জ দেওয়া প্রয়োজনীয়তা কিংবা অল্প ব্যবহারের পরও ব্যাটারির চার্জ দ্রুত কমে যাওয়া এর মধ্যে অন্যতম। বিশেষ করে আগে যে সময় পর্যন্ত ফোন ব্যবহার করা যেত, এখন তার তুলনায় অনেক কম সময় চললে ব্যাটারির সক্ষমতা কমে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।
চার্জ থাকা অবস্থায় হঠাৎ আইফোন বন্ধ হয়ে যাওয়াও ব্যাটারি সমস্যার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য সতর্ক সংকেত। যেমন, আইফোনে ২০ বা ৩০ শতাংশ চার্জ অবশিষ্ট থাকার পরও যদি সেটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ব্যাটারি ফোনের প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করতে পারছে না বলে বোঝা যায়। একইভাবে, স্বাভাবিক ব্যবহারের সময় ফোন অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে যাওয়া কিংবা আগের তুলনায় চার্জ হতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি সময় লাগাও ব্যাটারির কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে।
ব্যাটারি দুর্বল হয়ে গেলে আইফোনের পারফরম্যান্সেও প্রভাব পড়তে পারে। ব্যাটারি পর্যাপ্ত শক্তি সরবরাহ করতে না পারলে আকস্মিকভাবে ফোন বন্ধ হয়ে যাওয়া ঠেকাতে আইওএস কিছু ক্ষেত্রে প্রসেসরের কার্যক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ফলে অ্যাপ চালু হতে বেশি সময় লাগা, ফোন ধীর মনে হওয়া বা ভারী কাজের সময় পারফরম্যান্স কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তবে ব্যাটারি ফুলে গিয়ে আইফোনের পর্দা বা পেছনের অংশ সামান্য উঠে আসা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেতগুলোর একটি। এ অবস্থায় ফোন ব্যবহার বা নিজে ব্যাটারি খুলে ফেলার চেষ্টা না করে দ্রুত পেশাদার সার্ভিসকেন্দ্রে যোগাযোগ করা উচিত। কারণ ক্ষতিগ্রস্ত বা ফুলে যাওয়া লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তাই শুধু ব্যাটারি হেলথের শতাংশ নয়, চার্জ দ্রুত কমে যাওয়া, হঠাৎ বন্ধ হওয়া, অতিরিক্ত গরম হওয়া, ধীরগতির চার্জিং বা পারফরম্যান্স কমে যাওয়ার মতো লক্ষণও খেয়াল রাখা জরুরি। এসব সমস্যা দেখা দিলে ব্যাটারি বদলানোর আগে কোনও অ্যাপের অতিরিক্ত ব্যাটারি ব্যবহার বা সফটওয়্যারজনিত সমস্যা রয়েছে কি না, তাও পরীক্ষা করা উচিত।
সূত্র: এনগ্যাজেট