পকেটে চামড়ার মানিব্যাগ বা পার্স নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর দিন শেষ না হলেও ডিজিটাল ওয়ালেট মানুষের জীবনকে অনেকটাই সহজ করে তুলেছে। নির্দিষ্ট দোকানের কেনাকাটা থেকে শুরু করে দ্রুত লেনদেন বা গোপনীয়তা রক্ষা; সব ক্ষেত্রেই এখন ডিজিটাল ওয়ালেটের গুরুত্ব বাড়ছে। কাজের সুবিধার্থে একে মূলত চার ভাগে ভাগ করা যায়।
ক্লোজড ওয়ালেট
এই ধরনের ডিজিটাল ওয়ালেট নির্দিষ্ট কোম্পানি বা দোকান পরিচালনা করে। গ্রাহকেরা এতে টাকা জমা রেখে কেবল সেই নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের পণ্য বা সেবা কিনতে পারেন। যেমন- স্টারবাক্স ওয়ালেট, উবার ক্যাশ, অ্যামাজন পে, ওয়ালমার্ট পে ও টার্গেট ওয়ালেট।
সেমি-ক্লোজড ওয়ালেট
যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে এই ধরনের ওয়ালেট বেশ জনপ্রিয়। এর মাধ্যমে অনুমোদিত বিভিন্ন দোকান, অনলাইন বিক্রেতা, রাইড শেয়ারিং ও ডেলিভারি সেবায় কেনাকাটা করা যায়। যেমন- ভারতের পেটিএম, ফিলিপাইনের জিক্যাশ এবং মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রচলিত গ্র্যাবপে।
ওপেন ওয়ালেট
এটি মূলত আপনার আসল মানিব্যাগেরই একটি ডিজিটাল সংস্করণ। এতে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড জমা রাখার পাশাপাশি অবস্থানভেদে ড্রাইভিং লাইসেন্স বা পাসপোর্টও রাখা যায়। অ্যাপল ওয়ালেট, স্যামসাং ওয়ালেট, গুগল, পেপ্যাল ও ভেনমো হলো এর সেরা উদাহরণ। এগুলো দিয়ে দোকানে ট্যাপ করে কেনাকাটা করা বা স্বজনদের টাকা পাঠানো যায়। নিরাপত্তার জন্য এতে ফেস আইডি বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানের মতো প্রযুক্তি থাকে।
ক্রিপ্টো ওয়ালেট
ডিজিটাল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি (যেমন- বিটকয়েন, ইথেরিয়াম) লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত এই ওয়ালেট দুই ধরনের হয় হট ও কোল্ড।
হট ওয়ালেট: ইন্টারনেট-সংযুক্ত ফোন বা কম্পিউটারের মাধ্যমে চালানো হয়। দ্রুত লেনদেনের জন্য আদর্শ হলেও এটি অনলাইন হামলার ঝুঁকিতে থাকে।
কোল্ড ওয়ালেট: এটি ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত থাকে না। ইউএসবি ড্রাইভ বা স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে অফলাইনে থাকে বলে এটি অনেক বেশি নিরাপদ।
তবে কার্ড বা নগদ টাকা ছাড়া কেবল ফোন নিয়ে কেনাকাটায় বের হওয়ার আগে ডিভাইসটিতে পর্যাপ্ত অর্থ আছে কি না, তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সূত্র: এনগ্যাজেট