বর্তমানে ছবি, ভিডিও, গুরুত্বপূর্ণ নথি কিংবা অফিসের ফাইল সংরক্ষণের জন্য অনেকেই ফ্রি ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহার করেন। মোবাইল ফোন পরিবর্তন হলেও যাতে তথ্য হারিয়ে না যায় কিংবা যেকোনো সময়, যেকোনো স্থান থেকে ফাইলে প্রবেশ করা যায়, সে কারণে এই সেবার জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে।
গুগল ড্রাইভ, মাইক্রোসফট ওয়ানড্রাইভ, ড্রপবক্স, আইক্লাউডসহ বিভিন্ন ক্লাউড সেবা নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যন্ত বিনামূল্যে সংরক্ষণ সুবিধা দেয়। তবে শুধু ফাইল আপলোড করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। সচেতনতার অভাবে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস, গুরুত্বপূর্ণ নথি হারিয়ে যাওয়া কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবেশের মতো ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
তাই ফ্রি ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহার করার আগে কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে জানা জরুরি।
ক্লাউড স্টোরেজ আসলে কী
ক্লাউড স্টোরেজ হলো এমন একটি অনলাইন সেবা, যেখানে আপনার ফাইল কোনও একটি ডিভাইসে নয়, বরং ইন্টারনেটভিত্তিক সার্ভারে সংরক্ষিত থাকে। ফলে একই অ্যাকাউন্টে লগইন করলে মোবাইল, কম্পিউটার বা ট্যাবলেট, সব ডিভাইস থেকেই সেই ফাইলে প্রবেশ করা যায়।
এ কারণে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ নথি, পড়াশোনার উপকরণ, অফিসের ডকুমেন্ট কিংবা ব্যক্তিগত ছবি ক্লাউডে সংরক্ষণ করেন।
ফ্রি স্টোরেজের সীমা সম্পর্কে জানুন
বেশির ভাগ ক্লাউড সেবায় নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যন্ত বিনা মূল্যে সংরক্ষণের সুযোগ থাকে। এই সীমা অতিক্রম করলে অতিরিক্ত জায়গা ব্যবহারের জন্য অর্থ পরিশোধ করতে হতে পারে।
তাই শুরুতেই কোন সেবায় কতটুকু স্টোরেজ দেওয়া হচ্ছে এবং আপনার প্রয়োজন কতটুকু, সেটি বিবেচনা করে প্ল্যাটফর্ম নির্বাচন করা উচিত।
শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ও দুই ধাপের নিরাপত্তা চালু রাখুন
ক্লাউড অ্যাকাউন্টে সাধারণত ব্যক্তিগত বা গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সংরক্ষিত থাকে। তাই দুর্বল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে পুরো অ্যাকাউন্ট ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
একটি শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং সম্ভব হলে দুই ধাপের নিরাপত্তা (টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন) চালু রাখুন। এতে পাসওয়ার্ড ফাঁস হলেও অন্য কারও জন্য অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা কঠিন হবে।
শেয়ার করার আগে অনুমতি যাচাই করুন
কোনো ফাইল অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার সময় অনেকেই অসাবধানতাবশত এমন অনুমতি দিয়ে দেন, যাতে লিংক পেলেই যে কেউ ফাইলটি দেখতে বা সম্পাদনা করতে পারেন।
যদি নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য ফাইল পাঠাতে চান, তাহলে শেয়ারিং সেটিংসে কারা ফাইলটি দেখতে বা সম্পাদনা করতে পারবেন, তা আগে যাচাই করুন। অপ্রয়োজনীয় উন্মুক্ত অনুমতি ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সব ফাইল ক্লাউডে রাখা উচিত নয়
ক্লাউড স্টোরেজ নিরাপদ হলেও অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য, যেমন জাতীয় পরিচয়পত্রের স্ক্যান কপি, পাসপোর্ট, ব্যাংকিং তথ্য বা গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নথি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
এসব ফাইল সংরক্ষণ করলেও সেগুলো এনক্রিপ্ট করা বা অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।
অপ্রয়োজনীয় ফাইল নিয়মিত মুছে ফেলুন
অনেক সময় বছরের পর বছর অপ্রয়োজনীয় ছবি, পুরোনো ডকুমেন্ট বা বড় আকারের ভিডিও ক্লাউডে জমতে থাকে। এতে স্টোরেজ দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায় এবং গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সংরক্ষণের জায়গা কমে যায়।
তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর অপ্রয়োজনীয় ফাইল পর্যালোচনা করে মুছে ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
পাবলিক ডিভাইস ব্যবহারে সতর্ক থাকুন
সাইবার ক্যাফে, অফিস বা অন্যের কম্পিউটার থেকে ক্লাউড অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করলে কাজ শেষে অবশ্যই সাইন আউট করুন।
এ ছাড়া ব্রাউজারে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ না করাই ভালো। অন্যথায় পরবর্তী ব্যবহারকারী আপনার অ্যাকাউন্টে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারেন।
সন্দেহজনক ই-মেইল বা লিংক এড়িয়ে চলুন
ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে অনেক সময় ভুয়া ই-মেইল পাঠানো হয়, যেখানে বলা হয় আপনার স্টোরেজ পূর্ণ হয়ে গেছে বা অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে। এসব বার্তায় থাকা লিংকে ক্লিক করলে ভুয়া ওয়েবসাইটে নিয়ে গিয়ে লগইন তথ্য চুরি করা হতে পারে।
তাই ক্লাউড সেবার বিষয়ে কোনো বার্তা পেলে ঠিকানাটি যাচাই করুন এবং প্রয়োজনে সরাসরি সংশ্লিষ্ট সেবার ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহার করুন।
নিরাপদ ব্যবহারের জন্য যা করবেন
ফ্রি ক্লাউড স্টোরেজ দৈনন্দিন কাজকে অনেক সহজ করে তুলেছে। তবে সুবিধার পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, দুই ধাপের নিরাপত্তা চালু রাখা, শেয়ারিং অনুমতি যাচাই করা এবং সন্দেহজনক লিংক এড়িয়ে চলার মতো ছোট ছোট অভ্যাস আপনার তথ্যকে বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে।