যাত্রাপথে চলমান গাড়িতে অবস্থানরত অবস্থায় ফোনের পর্দায় দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকলে অনেকের মধ্যেই মাথা ঘোরা, বমিভাব বা অস্বস্তির প্রবণতা দেখা যায়। চোখের সাপেক্ষে ফোনের পর্দা স্থিরাবস্থায় দেখা গেলেও, মানবশরীর ও কানের ভারসাম্যব্যবস্থা গাড়ির গতি, বাঁক ও থামার পরিবর্তন বুঝতে পারে। চোখ ও শরীরের মস্তিষ্কে প্রেরিত সংকেতের গড়মিলের কারণেই মূলত কিছু যাত্রী মোশন সিকনেস অনুভব করে থাকেন। তবে এই সমস্যা কমাতে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে রয়েছে গুগলের ‘মোশন অ্যাসিস্ট’ সুবিধা।
গুগলের এই সুবিধাটি চালু করলে ফোনের পর্দার দুই পাশে ছোট ছোট বুদবুদের মতো চিহ্ন দেখা যায়। ফোনের মোশন সেন্সর গাড়ির গতিবিধি শনাক্ত করে এসব আকৃতিকে রিয়েল-টাইমে সেই অনুযায়ী নড়াচড়া করায়। গাড়ি বাঁক নিলে, গতি বাড়ালে বা ব্রেক করলে পর্দার প্রান্তে থাকা চিহ্নগুলোর অবস্থানও পরিবর্তিত হয়। এর মাধ্যমে চোখে দেখা দৃশ্য ও শরীরের অনুভূত গতির মধ্যে পার্থক্য কমিয়ে মস্তিষ্ককে দুই ধরনের সংকেতের সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে সহায়তা করাই এই ফিচারের মূল উদ্দেশ্য। পর্দার মাঝখানের অংশে এসব চিহ্ন না থাকায় ব্যবহারকারী অনায়াসে ফোনে নিজের কাজ করতে পারবেন।
মোশন অ্যাসিস্ট ব্যবহার করতে ফোনে অ্যান্ড্রয়েড ১৭ বা পরবর্তী সংস্করণ এবং আপডেটেড গুগল প্লে সার্ভিস থাকতে হবে। ফিচারটি প্রথমে পিক্সেল ফোনে চালু হলেও পরে অন্যান্য অ্যান্ড্রয়েড ফোনেও এই সুবিধাটি ধাপে ধাপে নিয়ে আসে গুগল। স্যামসাং ফোনে সুবিধাটি ব্যবহার করতে চাইলে ওয়ান ইউআই ৯ প্রয়োজন হতে পারে। ফোনভেদে সেটিংসের নাম বা অবস্থান কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে মোশন অ্যাসিস্ট চালু করতে প্রথমে ‘সেটিংস’ অ্যাপে গিয়ে সার্চ বক্সে ‘মোশন অ্যাসিস্ট’ লিখে খুঁজতে হবে। ফোনটি ফিচারটি সমর্থন করলে সার্চ ফলাফল থেকে ‘মোশন অ্যাসিস্ট’ নির্বাচন করে সেটি চালু করা যাবে। তবে সব অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সুবিধাটি পাওয়া যাবে না। ফোনের মডেল, অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ ও নির্মাতার সফটওয়্যারের ওপর ভিত্তি করে ফিচারটি নাও থাকতে পারে। তাই সেটিংসে সার্চ করার পর ‘মোশন অ্যাসিস্ট’ অপশন না পাওয়া গেলে ওই ফোনে বর্তমানে সুবিধাটি সমর্থিত নয় বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে।
গাড়িতে উঠলেই ফিচারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু করতে ‘স্টার্ট ইন আ মুভিং ভেহিকল’ অপশনটি সক্রিয় করা যাবে। তবে ফোন সব সময় গাড়ির গতিবিধি সঠিকভাবে শনাক্ত করতে নাও পারে। এ কারণে দ্রুত ব্যবহারের জন্য ‘কুইক সেটিংস’-এ মোশন অ্যাসিস্টের টাইল যুক্ত করে রাখা যেতে পারে। এতে যেকোনো পর্দা থেকে দ্রুত ফিচারটি চালু বা বন্ধ করা সম্ভব হবে।
এ ছাড়া ‘কাস্টমাইজ’ অপশন থেকে পর্দার দুই পাশে প্রদর্শিত আকৃতিগুলোর রং, আকার ও স্বচ্ছতার মাত্রা পরিবর্তন করা যাবে। ‘র্যান্ডমাইজেশন’ চালু করলে নির্দিষ্ট সময় পরপর এসব আকৃতির রং ও ধরন স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হবে। তবে মোশন অ্যাসিস্ট মূলত গাড়ির যাত্রীদের জন্য তৈরি। তাই গাড়ি চালানোর সময় চালকের এটি ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।