শরতের আকাশে মেঘ, গত তিনদিনই দুপুরের পর রাজধানীতে বৃষ্টি হয়েছে। কোথাও টানা, কোথাও আবার অল্প সময়ের ঝুম বৃষ্টি। তবু গরমের অস্বস্তি কাটছে না। বৃষ্টির পর কিছুটা স্বস্তি মিললেও তা স্থায়ী হচ্ছে না। বৃষ্টি থামার পরই আবার ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করতে হচ্ছে নগরবাসীকে।
আজ বুধবার, ২৫ ভাদ্র। শরতের প্রায় মাঝামাঝি সময় চলছে। সাধারণত এ সময়ে বৃষ্টির প্রবণতা থাকলেও বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা খুব বেশি কমছে না। বরং বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকায় তাপমাত্রা যতটা দেখা যাচ্ছে; মানুষের কাছে তার চেয়ে বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, শুধু বৃষ্টি হলেই গরমের অস্বস্তি কমে না। বৃষ্টির পর বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে গেলে আর্দ্রতা বেশি থাকে। এতে শরীরের ঘাম সহজে শুকাতে পারে না। ফলে শরীরের তাপ বের হতে সময় লাগে এবং গরম বেশি অনুভূত হয়। বিশেষ করে বাতাসের গতি কম থাকলে এই অস্বস্তি আরও বাড়ে।
বৃষ্টির পরও কেন গরম
রাজধানীতে বৃষ্টির পর অনেকেই ভেবেছিলেন তাপমাত্রা কমে স্বস্তি ফিরবে। কিন্তু বৃষ্টি থামার পর আর্দ্র বাতাস ও কম বাতাস চলাচলের কারণে গরমের অনুভূতি আবার বেড়ে যাচ্ছে। দিনের বেলায় বাইরে বের হওয়া মানুষকে ঘামে ভিজতে হচ্ছে। বাসাবাড়িতেও ফ্যানের বাতাসে স্বস্তি মিলছে না অনেকের।
আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব বাংলাদেশে কমে আসতে শুরু করেছে।
আবহাওয়া অধিদফতর আরও জানায়, পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে।
বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই সময় বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ বেশি। অন্যদিকে একের পর এক লঘুচাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি হলেও তা এত যথেষ্ট নয় যে, গরম কমে আসবে। সব মিলিয়ে এই সময় বৃষ্টির পর পর আবারও ভ্যাপসা গরম লাগতে শুরু করে। এই গরম আরও কিছুদিন থাকতে পারে।’ শীতকাল না আসা পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টিও হবে, আবার ভ্যাপসা গরমও থেকে যেতে পারে বলে তিনি জানান।
কতটা বৃষ্টি হয়েছে
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে রাজশাহী ও বরিশালে ২৫ মিলিমিটার। ঢাকায় হয়েছে ৯ মিলিমিটার। এছাড়া শ্রীমঙ্গলে ২৩, কুমারখালীতে ১৫, চুয়াডাঙ্গা ও খুলনায় ১৩, মোংলা ও তাড়াশে ১১, যশোর ও রামগতিতে ১০, চাদপুরে ৮, তেতুলিয়া ৭, টেকনাফে ৫, আরিচায় ৬, সিলেট, নেত্রকোনা, হাতিয়া ও মাদারিপুরে ৩,কক্সবাজার ও বগুড়ায় ২, বান্দারবান, চট্টগ্রাম, সীতাকুণ্ড, রাঙ্গামাটি, দিনাজপুর, টাঙ্গাইলে ১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকড করা হয়েছে। এর বাইরে আমবাগানে, সৈয়দপুর ও গোপালগঞ্জে সামান্য বৃষ্টি হয়েছে।
তাপমাত্রা খুব বেশি কমেনি
গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চট্টগ্রামের রামগতিতে ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৪, রাজশাহীতে ৩৪ দশমিক ৫, রংপুরে ৩৫, ময়মনসিংহে ৩৫ দশমিক ২, সিলেটে ৩১ দশমিক ৮, চট্টগ্রামে ৩২ দশমিক ৫, খুলনায় ৩৩ দশমিক ৫ এবং বরিশালে ৩২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে বৃষ্টি হলেও তাপমাত্রায় বড় ধরনের পতন দেখা যায়নি।
মানুষের ভোগান্তি
বৃষ্টি হলেও গরমের অস্বস্তি থেকে মুক্তি না পাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন খেটে খাওয়া মানুষেরা। রিকশাচালক, পথের হকার ও নির্মাণশ্রমিকদের দীর্ঘ সময় বাইরে থাকতে হচ্ছে। বৃষ্টির সময় কিছুটা স্বস্তি মিললেও বৃষ্টি থামার পর ভ্যাপসা গরমে আবারও ঘামতে হচ্ছে তাদের।
রাজধানীর গুলশান এলাকায় রিকশা চালান মাসুদ বেপারী বলেন, ‘‘বৃষ্টি হলে মনে হয় গরম কমবে। কিন্তু বৃষ্টি থামার পর আবার গরম লাগে। বাতাসও কম। রাস্তায় রিকশা চালানো খুব কষ্ট হয় তখন। দুপুর গরমের মধ্যে বৃষ্টি হলে আরাম হয়। কিন্তু এরপর যে গরম পড়ে, সেটা সহ্য করা কঠিন।’’
অন্য ধরনের ভোগান্তির কথা জানালেন, রাজধানীর কাওরান বাজারের হকার ইকবাল আলী। তিনি বলেন, ‘‘বৃষ্টি হলে আরাম লাগে ঠিকই, কিন্তু কেনাবেচা বন্ধ হয়ে যায়। বৃষ্টির পর যখন কেনাবেচা শুরু করি, তখন শুরু হয় গরমের কষ্ট। কোনোদিকেই শান্তিতে নাই।’’