মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বক্ষণে অপসারিত হলেন অগ্রণী ব্যাংকের এমডি

গোলাম মওলা
২৯ জুন ২০১৬, ২০:৫০আপডেট : ২৯ জুন ২০১৬, ২১:০২

অগ্রণী ব্যাংকের এমডি সৈয়দ আবদুল হামিদ শেষ রক্ষা হলো না রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ আবদুল হামিদের। অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তাকে অপসারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানির আইনের ৪৬ ধারায় আইন লঙ্ঘন ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র ২ কর্মদিবস আগে তাকে অপসারণ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার বিকেলে গভর্নর ফজলে কবির তাকে অপসারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
আরও পড়তে পারেন: রাজনৈতিক দলগুলোর ইফতারে বৈষম্য
ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, সরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গভর্নর ৪৬ ধারা অনুযায়ী অপসারণ করতে পারেন।
এর আগে সৈয়দ আবদুল হামিদের দেওয়া অবৈধ ঋণ সুবিধার ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকে স্থায়ী কমিটির শুনানি শেষ হয়। স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনে আবদুল হামিদকে অপসারণের সুপারিশ করা হয়।
এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঋণ অনিয়ম ও দুর্নীতিতে সম্পৃক্ত থাকায় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারকের শর্ত যথাযথভাবে প্রতিপালন না করায় সৈয়দ আবদুল হামিদকে অপসারণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গভর্নর অনুমোদন দিয়েছেন বিকেলে। অফিস সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় চিঠি পাঠানো সম্ভব হয়নি। আগামীকাল সকালে চিঠি পাঠানো হবে।
এ প্রসঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড.জায়েদ বখত বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তিনি এখন পর্যন্ত (সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা) সৈয়দ আব্দুল হামিদকে অপসারণ করার চিঠি পাননি।

আগামী ১১  জুলাই অগ্রণী ব্যাংকের এমডি হিসেবে সৈয়দ আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

এর আগে ঋণ অনিয়ম ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার কথা বলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বেসিক ব্যাংকের এমডি কাজী ফখরুলকে অপসারণ করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,সৈয়দ আবদুল হামিদের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতে বিতর্কিত ব্যবসায়িক গোষ্ঠী মুন গ্রুপকে ৩০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে অগ্রণী ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তদন্ত করে দেখেছে, রাজধানীর কল্যাণপুর ও দিলকুশা এবং ঢাকার বাইরে বরগুনায় বহুতল ভবন তৈরির জন্য ঋণ নিতে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে মুন গ্রুপ।

জানা গেছে, ঋণ নীতিমালা ও ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা বাস্তবায়নের মিথ্যা তথ্য দিয়ে অর্পিত ক্ষমতা অনুযায়ী ব্যাংকের ঋণসুবিধা ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন সৈয়দ আবদুল হামিদ। নীতিমালা অনুযায়ী, ২৫ লাখ থেকে ১ কোটি পর্যন্ত ঋণ অনুমোদন, পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন করতে পারেন এমডি। তবে অর্পিত ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ৭৯২ কোটি টাকা ঋণসুবিধা দিয়েছেন তিনি।

অগ্রণী ব্যাংকের ঋণ নীতিমালা-২০১৩ অনুযায়ী, যেসব ক্ষমতার বিষয়ে ঋণ নীতিমালায় উল্লেখ নেই, তা অর্পিত ক্ষমতা আইন-২০০২ অনুযায়ী চলবে। অর্পিত ক্ষমতা আইন ২০১৩ সালের পরিচালনা পর্ষদে পর্যালোচনা ও অনুমোদন করা হয়েছে।

তবে ২০১৩ সাল থেকে গত মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকটির পর্ষদ সভার নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত অর্পিত ক্ষমতা-২০০২ নতুন করে পর্যালোচনা ও অনুমোদন করা হয়নি। অর্পিত ক্ষমতা ২০১৩ সালে অনুমোদন করা হয়েছে, এ ঘোষণা দেওয়ার পরও সৈয়দ আবদুল হামিদ ঋণের জামানত পরিবর্তন, নবায়ন ও পুনর্গঠন করে গেছেন।

আরও পড়তে পারেন: রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে: নজিবুর রহমান
জানা গেছে, ২০১১ সালে অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ প্রধান শাখা থেকে তানাকা ট্রেডকম ইন্টারন্যাশনালকে ১২০ কোটি টাকার ঋণসুবিধা দেয়। এরপর পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই এমডি নিজে জামানত পরিবর্তন করে দেন। যদিও এ ক্ষমতা তার ছিল না। এরপর ২০১৫ সালে ১১ কোটি টাকা ঋণ নবায়ন করে দেন এমডি, পাশাপাশি ৪৬ কোটি টাকা ঋণখেলাপি হওয়ার পরও নিয়মিত দেখানো হয়। লালদীঘি ইস্ট শাখার গ্রাহক মুহিব স্টিলের ৪২ কোটি টাকা ঋণ এমডি নিজেই নবায়ন করে দেন। মাহিদ অ্যাপারেল লিমিটেডের ৪০ কোটি টাকার ঋণপত্র ১০ শতাংশ মার্জিনে পর্ষদ অনুমোদন দিলেও এমডি নিজেই বিনা মার্জিনে ঋণপত্র খুলে দেন।

ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১৩ লঙ্ঘন করে মিউচুয়াল কনসার্ন লিমিটেডের ২০০ কোটি টাকা ঋণপত্র সীমা দু’বার নবায়ন করেন এমডি। এছাড়া সানমুন গ্রুপের কর্ণধার মিজানুর রহমান মিজান ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ঋণসুবিধা দিয়ে ব্যাংককে ঝুঁকিতে ফেলেছেন।

এছাড়া, ব্যাংকটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান খানকে পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশনা দিলে তা পরিপালন করে ব্যাংকটি। কিন্তু পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই তাকে আবার দায়িত্বে ফিরিয়ে আনেন আবদুল হামিদ।

প্রসঙ্গত, গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংককে উপেক্ষা করে অর্থ মন্ত্রণালয় সৈয়দ আবদুল হামিদের চাকরির মেয়াদ এক বছর বাড়ায়। ওই সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক একাধিকবার অগ্রণী ব্যাংকের এমডির অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র জানালেও তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। উল্টো তাকে চতুর্থবারের মতো এমডি হিসেবে নিয়োগের পক্ষে সুপারিশ করে।

  /জিএম/এমএসএম /

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম