জঙ্গিদের ব্যাংকিং সুবিধা বন্ধ করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে: গভর্নর

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৬ জুলাই ২০১৬, ১৮:৫৭আপডেট : ২৬ জুলাই ২০১৬, ২০:৫৬


গভর্নর ফজলে কবির জঙ্গিরা যাতে ব্যাংকিং সুবিধা নিতে না পারে সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম সম্মেলন কক্ষে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা অনুষ্ঠানে গভর্নর একথা জানান।
ফজলে কবির বলেন, ইতোমধ্যে আমরা সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে বৈঠক করেছি। চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যে প্রত্যেক ব্যাংককে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জঙ্গিরা যাতে কোনভাবেই ব্যাংকের সুবিধা নিতে না পারে সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক সচেষ্ট বলেও জানান গভর্নর।
নতুন মুদ্রানীতি প্রসঙ্গে ফজলে কবির বলেন, টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক, পরিবেশবান্ধব প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের কার্যক্রমে সহায়তার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি পরিমিত ও স্থিতিশীল রাখা নতুন মুদ্রানীতির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। গত কয়েক বছর দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকায় রফতানির পাশাপাশি মূলধনি যন্ত্রপাতিসহ আমদানি বেড়েছে। বিশেষ করে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় সরকারি আমদানিও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ অবস্থায় নতুন মুদ্রানীতিতে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ আর সরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ। ঋণের এই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য পূরণ করা গেলে তা বাজেটে ঘোষিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সহায়ক হবে বলেও মনে করেন ফজলে কবির।
তিনি বলেন, গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রেমিটেন্স প্রবাহ ২ দশমিক ৫ শতাংশের মতো কমেছে। কিন্তু টাকার মান ধরে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংককে এই সময়ে বাজার থেকে বিদেশি মুদ্রা কিনে নিতে হয়েছে। ফলে রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। বেসরকারি খাতে দেওয়া ঋণ যাতে অনুৎপাদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ খাতে ব্যবহার না করে উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার হয়- তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘নিবিড় নজরদারি’ করবে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে মুদ্রানীতি ঘোষণা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মুহাম্মদ রাজী হাসান, এস কে সুর চৌধুরীসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিবছর দুইবার মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে থাকে। একটি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই মাসে এবং অন্যটি দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জানুয়ারি মাসে। সাধারণত মুদ্রার গতিবিধি প্রক্ষেপণ করে এই মুদ্রানীতি। মুদ্রানীতির অন্যতম কাজগুলো হলো মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করা, ঋণের প্রক্ষেপণের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি ঋণের যোগান ধার্য করা এবং মুদ্রার প্রচলন নিয়ন্ত্রণ করা।

/জিএম/এমও/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম