শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) থেকে সারাদেশে শুরু হয়েছে আয়কর সপ্তাহ, চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতিবছরের মতো এ বছরও এর আয়োজন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। আয়কর সপ্তাহ উপলক্ষে দেশের সব কর অঞ্চলে আয়কর মেলাও চলবে। ফলে যারা আয়কর মেলায় রিটার্ন জমা দিতে পারেননি, তাদের জন্য কর অঞ্চলগুলোতে খুব সহজেই রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
গত ১ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত আয়কর মেলায় করদাতাদের ব্যাপক সাড়া পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেয় এনবিআর। এ উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কচিকাঁচার মেলা প্রাঙ্গণে সপ্তাহব্যাপী কর মেলার উদ্বোধন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোজাম্মেল হক খান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। ঢাকা কর অঞ্চল-৪ এ মেলার আয়োজন করে। আয়কর দেওয়াকে উৎসাহ দিতে ও এ প্রক্রিয়াকে আরও জনবান্ধব করতে এনবিআর ২০১৬ সালে দেশে প্রথমবারের মতো কর মেলার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোজাম্মেল হক খান বলেন, ‘আমরা ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়তে চাই। এর মধ্যে ২০৩০ এসডিজি বাস্তবায়ন করতে হবে। করদাতারা কর দিয়ে গৌরববোধ করেন। কর দেওয়া ও কর নেওয়ার মধ্যে সম্মানের বিষয় জড়িত। দেশের উন্নয়নে আমার দায়িত্ব আছে, যা আইন দ্বারা স্বীকৃত।’
মেলা প্রসঙ্গে এনবিআর জানায়, করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের সুবিধার্থে কর অঞ্চলগুলোয় আয়কর মেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর। এখানেও মেলার পরিবেশে সব ধরনের করসেবা পাওয়া যাবে। দেশের সব কর অঞ্চলে এই মেলা চললেও শুধুমাত্র রাজধানীর কর অঞ্চলগুলোয় আয়কর রিটার্ন জমা দিয়ে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত ট্যাক্স কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন করদাতারা।
এ বছর রাজধানীসহ দেশের ৫৬টি জেলা শহরে, ৩৪টি উপজেলা, ৭১টি উপজেলায় (ভ্রাম্যমাণ) আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হয়। ওই মেলায় ২ হাজার ২১৭ কোটি টাকার আয়কর আদায় হয়েছে। রিটার্ন জমা দিয়েছেন সাড়ে ৩ লাখ করদাতা। মেলা থেকে সেবা নিয়েছেন ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ।
সভাপতির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা সেবার মান বাড়িয়েছি, পরিবেশ উন্নত করছি। প্রতিটি কর অঞ্চলে আমাদের বিশেষ টিম প্রতিদিন মনিটরিং করবে। যে কর অঞ্চলের সেবার মান ভাল থাকবে, সে কর অঞ্চলকে আমরা সম্মানিত করব।’
কর অঞ্চল-৪ এর কমিশনার রাধে শ্যাম রায় জানান, দ্বিতীয়বারের মত শুরু হওয়া আয়কর সপ্তাহ ২৪ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত সেবা দেওয়া হবে। তবে নির্ধারিত সময় পরও সেবা গ্রহীতারা এলে তাদের সেবা দেওয়া হবে।








