এবার ফারমার্স ব্যাংকের এমডিকে অপসারণ

গোলাম মওলা
১৯ ডিসেম্বর ২০১৭, ১১:২৮আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৭:৫২

এ কে এম শামীম যত্রতত্র  ঋণ বিতরণ সংক্রান্ত অনিয়মে পরিচালনা পর্ষদকে সহায়তা করার অভিযোগে এবার ফারমার্স ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ কে এম শামীমকে অপসারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার সকালে বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কার সাহা। তিনি বলেন, ‘ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৬ ধারা অনুযায়ী তাকে অপসারণ করা হয়েছে।’
জানা গেছে, ঋণ বিতরণ সংক্রান্ত অনিয়মে পরিচালনা পর্ষদকে সহায়তা করার অভিযোগে এ কে এম শামীমকে গত ১৩ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্থায়ী কমিটিতে ডাকা হয়েছিল। এই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাকে পদ থেকে অপসারণ করা হলো। এর আগে গত ২৬ নভেম্বর এ কে এম শামীমকে অপসারণে নোটিশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দিলেও তা সন্তোষজনক না হওয়ায় তাকে এই কমিটিতে ডাকা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, এর আগে একই প্রক্রিয়ায় গত ৬ ডিসেম্বর অপসারণ হয়েছিলেন এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের এমডি দেওয়ান মুজিবর রহমান, গত বছরের ৩০ জুন অপসারণ হয়েছিলেন রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের এমডি সৈয়দ আবদুল হামিদ ও ২০১৪ সালের ২৫ মে অপসারণ করা হয়েছিল বেসিক ব্যাংকের এমডি কাজী ফখরুল ইসলামকে।  

আরও জানা গেছে, তারল্যসংকটে পড়ে নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে ব্যাংকটি। এ ছাড়া গ্রাহকরা চেক দিয়েও টাকা পাচ্ছেন না। এসব কারণে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম শামীমকে কেন অপসারণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) ব্যাংকটিতে রাখা তাদের মেয়াদোত্তীর্ণ আমানত সুদাসলে তুলতে গেলে কয়েক দফায় চেক ডিজঅনার হওয়ার ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে ২৭ নভেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ ছেড়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকারী হিসাব-সংক্রন্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মহীউদ্দীন খান আলমগীর। তিনি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মাহাবুবুল হক চিশতীকেও পদত্যাগ করতে হয়েছে।








উল্লেখ্য, রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন পাওয়া নতুন ৯ ব্যাংকের একটি ফারমার্স ব্যাংক। ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরুর পরই ঋণ অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে ব্যাংকটি। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শনে ব্যাংকটির প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ঋণ অনিয়ম ধরা পড়ে। গত সেপ্টেম্বর শেষে ফারমার্স ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ৩৭৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ বিতরণ করা ঋণের ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশই খেলাপি। মার্চ-জুন সময়ে ব্যাংকটি খেলাপি গ্রাহকদের থেকে মাত্র ৭ কোটি টাকা আদায় করেছে। শীর্ষ ১০ খেলাপি গ্রাহকের কাছেই ব্যাংকটির পাওনা ১৩৪ কোটি টাকা।


আরও পড়ুন:
অপসারণ হতে পারেন ফারমার্স ব্যাংকের এমডিও!
ফারমার্স ব্যাংকের দুরবস্থার জন্য পরিচালনা পর্ষদকে দুষলেন এমডি

 

/জিএম/এসএনএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী