
চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই- নভেম্বর) সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ২১ হাজার ১৭২ কোটি টাকার। এর মধ্যে গত নভেম্বর মাসে জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে সরকার নিট ঋণ নিয়েছে ৩ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। রবিবার (৭ জানুয়ারি) এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি মেটাতে এই খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার কথা ৩০ হাজার ১৫০ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালের নভেম্বরে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল ৪ হাজার ৪০২ কোটি টাকার। এই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমেছে ৫৪৪ কোটি টাকার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদায়ী বছরের নভেম্বর মাসে ৩ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্রের বিক্রি হয়েছে। যা ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসের চেয়ে ৫৪৪ কোটি টাকা কম।
অবশ্য চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে অর্থাৎ জুলাই-নভেম্বর সময়ে গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়েছে ৮৫৩ কোটি টাকা। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই- নভেম্বর) সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল ২০ হাজার ৩১৯ কোটি টাকা।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক ড. জায়েদ বখত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ব্যাংক ঋণের সুদ হার কম হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষজন সঞ্চয়পত্রকেই নিরাপদ বিনিয়োগ মনে করে। এছাড়া পুঁজিবাজারে এখনও আস্থা ফেরেনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের চতুর্থ মাস অক্টোবরে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের বিক্রি বাড়লেও আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মতো নভেম্বর মাসে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমে গেছে। নভেম্বর মাসে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকার―যা অক্টোবর মাসের চেয়ে ৭৬৩ কোটি টাকা কম। অক্টোবর মাসে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার ঋণ নিয়েছিল ৪ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। এর আগে সেপ্টেম্বরে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার নিট ঋণ নিয়েছিল তিন হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। আগস্টে নিয়েছিল ৩ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা। আর অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ঋণ নিয়েছিল ৫ হাজার ৫৩ কোটি টাকা।
প্রসঙ্গত, আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের মূল ও মুনাফা পরিশোধের পর যে পরিমাণ অর্থ অবশিষ্ট থাকে, তাকেই নিট বিনিয়োগ বলা হয়। বিনিয়োগের ওই অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে। সেখান থেকে সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজে লাগায়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থবছরের পাঁচ মাসে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের এক-তৃতীয়াংশই ছিল পরিবার সঞ্চয়পত্র।
উল্লেখ্য, সঞ্চয়পত্রের দিকে মানুষের আগ্রহের বড় কারণ ব্যাংক আমানতের সুদের হার কম। ব্যাংকে বর্তমানে আমানতে সুদের হার চার থেকে ছয় শতাংশের মধ্যে। তবে বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্পের সুদ হার ১১ থেকে ১২ শতাংশের কাছাকাছি। এই অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার আগে গত মে মাসে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো সংক্রান্ত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বক্তব্য সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করে। সুদের হার কমে যেতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকে অনেকেই অর্থবছরের শেষদিকে এসে সঞ্চয়পত্র কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। এমনকি চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও রেকর্ড পরিমাণ সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়।
অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয় ৭৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
পাঁচ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষে পাওয়া যায় ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ সুদ। পাঁচ বছর মেয়াদি পেনশন সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের সুদের হার এখন ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। তিন বছর মেয়াদি মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। তিন বছর মেয়াদি ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বর্তমানে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ।








