X
বুধবার, ০৮ মে ২০২৪
২৪ বৈশাখ ১৪৩১

বিদ্যুৎ আইন: জনভোগান্তির আশঙ্কা!

সঞ্চিতা সীতু
২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৯:৩৩আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১২:৪৩

বিদ্যুৎ বিদ্যুৎ আইনে শাস্তির ক্ষেত্রে জরিমানার সঙ্গে কারাদণ্ডের বিধান সংযোজন করায় গ্রাহকরা হয়রানির শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান যুক্ত হলে গ্রাহক হয়রানি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে সংসদীয় কমিটি আবাসিক গ্রাহকদের শাস্তির ক্ষেত্রে এই বিধান যুক্ত করতে চাপ দেয়। এতে করে বিদ্যুৎ বিল ২০১৭-তে আবাসিক গ্রাহকের বিদ্যুৎ চুরির ক্ষেত্রে জরিমানার সঙ্গে কারাদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ড দেওয়ার ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

এই আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি প্রবিধানমালা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি আইনটি সংশোধন করা যায় কিনা, তাও বিবেচনার পরামর্শ এসেছে।

বিদ্যুৎ আইনের ১২ পৃষ্ঠায় অপরাধ এবং দণ্ড বিষয়ক সপ্তম অধ্যায়ে ধারা-১-এ বলা হয়েছে, কোনও গ্রাহক বিদ্যুৎ চুরি করলে অনধিক তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা চুরি করা বিদ্যুতের দ্বিগুণ বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। ধারা-২-এ বলা হয়েছে, শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ চুরির ক্ষেত্রে অনধিক তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা চুরি করা বিদ্যুতের দ্বিগুণ বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনও বিদ্যুৎ চোরকে নিরাপত্তা দেওয়া আইনের কাজ নয়। তবে বৃহৎ পরিসরে যেন কোনও গ্রাহক হয়রানির শিকার না হয়, সেই দিকটিও আইন প্রণেতাদের খেয়াল রাখতে হবে। এখনও বিতরণ ব্যবস্থার পুরো নিয়ন্ত্রণ বিতরণ কোম্পানির কাছে। এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রায়ই গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ ওঠে।

সম্প্রতি ঢাকার বনশ্রীতে বিভিন্ন গ্রাহকের সঙ্গে যোগসাজশ করে ডিপিডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১০ লাখ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ চুরি করেছে। ডিপিডিসির তদন্তই বলছে, তাদের অফিসে সার্ভার থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য ফেলে দিয়ে এই চুরি করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, একজনের বিদ্যুৎ বিল অন্যের কাঁধে চাপিয়ে মূল বিদ্যুৎ বিল আদায় ঠিক রাখা হয়। বিতরণ কোম্পানির প্রতিনিধিরা এসব করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়। কিন্তু গ্রাহকের কিছু করার থাকে না। এ ক্ষেত্রে তাদের শাস্তির বিষয়টি আইনে স্পষ্ট করা হয়নি। এমনকি গ্রাহক হয়রানির শিকার হলেও মামলা করার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এজন্য আইনে ‘উভয় দণ্ড’ শব্দের স্থলে যেকোনও দণ্ড দেওয়ার পক্ষে ছিল বিদ্যুৎ বিভাগ।

বিদ্যুৎ আইন প্রণয়ন কমিটিতে থাকা একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম, এতে গ্রাহক হয়রানির মাত্রা বাড়তে পারে। বিশেষ করে আবাসিক গ্রাহকের ক্ষেত্রে এই হয়রানি বাড়বে বলে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করার পরও আমাদের কথা শোনা হয়নি।’

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমার নিজের এ ধরনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমার এক আত্মীয়কে এমন বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে দেখা গেছে, যাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে তার কোনও দোষই নেই। কিন্তু এভাবে কেউ একবার হয়রানির শিকার হলে তো আর কিছু করার থাকে না।’

আইনের ১৬ পৃষ্ঠায় ৪৮-এর ২ উপধারায় বলা হয়েছে, অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী কোনও ব্যক্তি এই আইনের অধীনে তার বিরুদ্ধে গৃহীত কোনও কার্যক্রম সম্পর্কে কোনও দেওয়ানি বা ফৌজদারি আদালতে মামলা দায়ের করতে পারবে না। ৪৯-এর ২ উপধারায় মামলার বিচারের ক্ষেত্রে (ক)-তে বলা হয়েছে, আইনের অধীনে অপরাধ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বিচার করবেন। (খ)-তে বলা হয়েছে, প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আইনে বর্ণিত যেকোনও অপরাধের জন্য অর্থদণ্ড আরোপ করতে পারবেন।

এ বিষয়ে কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা শামসুল আলম বলেন, ‘বিদ্যুৎ চুরি করলে শাস্তি তো পেতেই হবে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ভোক্তা প্রতিনিধিদের তদন্ত থাকা দরকার। ভোক্তা সংস্থার প্রতিনিধিদের মাধ্যমে যাচাই করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। গ্রাহক একা চুরি করে না, বিতরণ কোম্পানির কেউ না কেউ এর সঙ্গে জড়িত থাকে। এ ধরনের আইন বাস্তবায়নের জন্য একটি নীতিমালা থাকা দরকার।’

ক্যাবের এই জ্বালানি উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘এ নীতিমালার ওপর নির্ভর করে আদালতে মামলা করা যেতে পারে। বিচারিক আদালতে আইন প্রয়োগের প্রক্রিয়াটা কী হবে, সেটা পরিষ্কার করতে হবে। অপরাধ না করে কেউ যেন শাস্তি না পায়, সেজন্য একটা প্রবিধানমালা থাকা দরকার।’ তিনি বলেন,  ‘ভোক্তা পর্যায়ে এই আইনের কারণে ভোক্তারা যদি ভোগান্তির শিকার হন, তাহলে প্রয়োজনে আইন সংশোধন করা যেতে পারে।’

এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বি ডি রহমত উল্লাহ বলেন, ‘প্রকৃত দোষীদের যাচাই-বাছাই করেই এ আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। একজন গ্রাহকের পক্ষে একা বিদ্যুৎ চুরি করা সম্ভব নয়। এরসঙ্গে অবশ্যই সংশ্লিষ্টরা জড়িত থাকে। অন্যদিকে এই আইনের মাধ্যমে অনেক গ্রাহকের লঘু পাপে গুরুদণ্ড হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আইন তার নিজের গতিতে চলবে। কিন্তু আইনটি সুষ্ঠুভাবে প্রয়োগের জন্য নীতিমালা থাকা দরকার। তা না হলে এই আইনের মাধ্যমে নিরপরাধ ব্যক্তিও হয়তো শাস্তি পাবেন।’

আরও পড়ুন:
বাংলা ব্যবহার: ডিএসসিসির উদ্যোগ, বাস্তবায়নে ডিএনসিসি

/টিআর/আর-এসএনএইচ/চেক-এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাজস্থানকে হারিয়ে প্লে অফের আশা বাঁচিয়ে রাখলো দিল্লি
রাজস্থানকে হারিয়ে প্লে অফের আশা বাঁচিয়ে রাখলো দিল্লি
ঢাকা আসছেন মার্কিন অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু
ঢাকা আসছেন মার্কিন অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু
প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচন আজ
প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচন আজ
নির্দেশ উপেক্ষিত হলেও কৌশলে সফল আ.লীগ
উপজেলা নির্বাচননির্দেশ উপেক্ষিত হলেও কৌশলে সফল আ.লীগ
সর্বাধিক পঠিত
ভিটামিন ডি কমে গেলে কীভাবে বুঝবেন?
ভিটামিন ডি কমে গেলে কীভাবে বুঝবেন?
ব্যারিস্টার সুমনকে একহাত নিলেন চুন্নু
ব্যারিস্টার সুমনকে একহাত নিলেন চুন্নু
ছুড়ে দেওয়া সব তীর সাদরে গ্রহণ করলাম: ভাবনা
ছুড়ে দেওয়া সব তীর সাদরে গ্রহণ করলাম: ভাবনা
শনিবার স্কুল খোলা রাখার প্রতিবাদে শিক্ষকদের কর্মবিরতি ঘোষণা
শনিবার স্কুল খোলা রাখার প্রতিবাদে শিক্ষকদের কর্মবিরতি ঘোষণা
আসছে ব্যয় কমানোর বাজেট
আসছে ব্যয় কমানোর বাজেট