গরিবের চাল, তবুও কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ টাকা

গোলাম মওলা
২৬ জুন ২০২০, ২২:০৯আপডেট : ২৬ জুন ২০২০, ২২:১৩

চাল করোনায় মানুষের আয় কমে গেছে। বিশেষ করে আয় কমে যাওয়ায় কষ্ট বেড়েছে গরিব মানুষের। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম।

সরকারের তথ্য বলছে, গত একবছরে গরিবের মোটা চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা। সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবি’র হিসাবে গত একবছরে এই মোটা চালের দাম বেড়েছে ১৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ২০১৯ সালের ২৫ জুন মোটা চালের (ভালো) দাম ছিল প্রতিকেজি ৩৮ টাকা। শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে একই চাল বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি ৪৮ টাকা করে।

রাজধানীর মুগদা এলাকার বস্তিতে থাকা নবী উল্লাহ নবী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে হাতে কাজ নেই, আয় কমে গেছে, অথচ চালের দাম ঠিকই বেড়েছে।’ তিনি বলেন, ‘গরিবের মোটা চালও কিনতে হচ্ছে ৪৮ টাকা কেজি। রাজধানীর গোপীবাগ এলাকায় একটি ভবনের সিঁড়ি পরিষ্কারের কাজ করেন নাজমা বেগম। তিনি বলেন, ‘যে চাল গত বছর ৩৭-৩৮ টাকায় কিনেছি, এখন সেই চাল কিনতে হচ্ছে ৫০ টাকা দিয়ে।’ যদিও এই একবছরে তার আয়  বাড়েনি, উল্টো অন্যান্য খরচ বেড়েছে বলে তিনি জানান।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভালো মানের মোটা চালের দাম ৫০ টাকা হলেও  নিম্নমানের মোটা চাল এখনও ৩৮ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টিসিবি অবশ্য বলছে, গত একবছরে এই নিম্নমানের চালের দামও বেড়েছে কেজিতে চার টাকা। গত বছরের ২৫ জুন যে চাল বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি ৩৪ টাকা, এখন সেই চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৮ টাকা কেজি।

মোটা চালের দাম বাড়ার বিষয়ে ঈশ্বরদীর চাল ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার যে চাল সংগ্রহ করে সেটা মূলত মোটা চাল। বেশ কিছুদিন ধরে এই চাল সরকারের পক্ষ থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ কারণে মোটা চালের চাহিদা বেড়েছে। ফলে এই চালের দামও বেড়ে গেছে।’

দাম বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের এদিকে ফার্মের মুরগির ডিমের দামও বাড়ছে হু হু করে। গত একমাসে প্রতি হালি ডিমের দাম বেড়েছে ৮ থেকে টাকা।  টিসিবির হিসাবে একমাসের ব্যবধানে ডিমের দাম বেড়েছে ২৮ দশমিক ৩০ শতাংশ। এক মাস আগে প্রতি হালি  ডিম বিক্রি হয়েছে ২৫ থেকে ২৮ টাকা। শুক্রবার সেই ডিমের হালি বিক্রি হয়েছে ৩৩ থেকে ৩৫ টাকায়।

এছাড়া বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে আলু, পটল, বেগুন বরবটি, ঢেঁড়স, ধুন্দল, ঝিঙা, করলা, পেঁপেসহ প্রায় সব ধরনের সবজি। তবে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে।

সবজির বাজারে দেখা যায়, বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকা। গাজরের কেজি মানভেদে ৮০ থেকে ১২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। পাকা টমেটো ও বরবটি প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। চিচিঙ্গার কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, করলা ৫০ থেকে ৭০ টাকা, ঝিঙা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কচুর লতি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, কচুর মুখী ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাকরোল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকা। কাঁচামরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

দেশি পেঁয়াজের কেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। আমদানি করা পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা।

এদিকে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মুরগি, গরু ও খাসির মাংস। বয়লার মুরগির কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা। পাকিস্তানি কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি। দেশি মুরগি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি। গরুর মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা। আর খাসির মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা।

 

/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম