২৪ প্রণোদনা চূড়ান্ত, ভারতের জন্য আলাদা অর্থনৈতিক অঞ্চল

ট্রানজিট চুক্তির পর বিনিয়োগে আগ্রহ বেড়েছে ভারতের

গোলাম মওলা
২৫ জানুয়ারি ২০১৬, ১৬:১৭আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০১৬, ১৮:৪২

ট্রানজিট চুক্তির পর বিনিয়োগে আগ্রহ বেড়েছে ভারতের দীর্ঘ দিন দেশের বিনিয়োগ পরিবেশে রুগ্ন ভাব দেখা যাচ্ছে। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ জিডিপির ২২ শতাংশের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে গত কয়েক বছর ধরে। সরকারি খাতে বিনিয়োগ আটকে আছে ৭-৮ শতাংশে। এ অবস্থায় ভিশন ২০২১’র ৮ শতাংশ জিডিপি অর্জন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আর তাই অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের টানতে চেষ্টা করছে সরকার। আর এ উদ্যোগে বিনিয়োগের লাইমলাইটে আছে প্রতিবেশী ভারত।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বকে (পিপিপি) জনপ্রিয় করে সহজ করা হয়েছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রবেশ এবং বহির্গমন। বিনিয়োগকৃত অর্থ ও মুনাফা সহজেই নিজেদের দেশে নিয়ে যেতে পারবেন বিদেশিরা। আর এটাকেই বড় সুযোগ হিসেবে তুলে ধরে বড় শিল্প গ্রুপ ও ব্র্যান্ডগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ঘোষণা করা হয়েছে দুই ডজনের বেশি প্রণোদনা।
বিশেষ করে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের জন্য গড়ে তোলা হচ্ছে আলাদা অর্থনৈতিক অঞ্চল। দেশটির বড় প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ও আদানি গ্রুপ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ-বন্দর ও অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে রিলায়েন্স। বিদ্যুৎ, এলপিজি ও বন্দর নির্মাণ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী আদানি গ্রুপ। তাদের বিনিয়োগ ছাড়িয়ে যেতে পারে ৮ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের ৬ জুন ভারতের এই বৃহৎ দুই শিল্প গ্রুপের  সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের এমওইউ স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সচিব জহুরুল ইসলাম এবং স্ব- স্ব কোম্পানির পক্ষে আদানি পাওয়ার লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ভিনেত এস জাইন এবং রিলায়েন্স পাওয়ার লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বামী কে গুপ্তা। এর বাইরে আবাসন ও যানবাহন তৈরিতে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে সাহারা ও টাটা গ্রুপ। সম্প্রতি বিনিয়োগ নিবন্ধন করেছে টায়ার নির্মাতা সিয়াট।

প্রসঙ্গত, ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছয় বিলিয়ন ডলারের বেশি হলেও এতদিন বাংলাদেশে ভারতীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের যৌথ বিনিয়োগ ছিল হাতেগোনা। তবে ট্রানজিট চুক্তির পর সরাসরি ও যৌথ বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন ভারতীয় শিল্প উদ্যোক্তারা।

আরও কিছু ভারতীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের পোশাক, স্বাস্থ্য ও সমুদ্র খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত এনটিপিসির সঙ্গে এরইমধ্যে চুক্তি হয়েছে। গ্যাস অনুসন্ধানে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে আসছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত ওএনসিজি ভিদেশ লিমিটেড (ওভিএল) ও অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেড।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টার প্রেস নেটওয়ার্কের (আইপিএন) সিনিয়র গবেষক আনোয়ারুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধুরাষ্ট্র ভারত। বর্তমান সরকার বিনিয়োগ বাড়াতে নানা প্রণোদনা দিতে চাইছে। এ অবস্থায় ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা সাড়া দেবেন এটাই স্বাভাবিক।

তিনি আরও বলেন, তিন কারণে ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চাইবে। প্রথমত, তারা সহজেই বিনিয়োগকৃত অর্থ ও মুনাফা নিয়ে যেতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, ভৌগোলিক নৈকট্য ও সস্তা শ্রম, যা কাজে লাগিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতের ৭টি রাজ্যের পাশাপাশি শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া ৪০টি দেশে রফতানি করতে পারবেন তারা। তৃতীয়ত, বাংলাদেশের আইনকানুন এখন বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে সহজ। বিনিয়োগকারীদের জন্য এ দেশে প্রবেশ ও বহির্গমন সহজ করা হয়েছে।

বিষয়টি তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের প্রবেশ এবং বহির্গমন সহজ করা হয়েছে এবং আপনাদের বিনিয়োগের সর্বোত্তম মুনাফা অর্জনই আমাদের কাম্য। বাংলাদেশে আপনাদের বিনিয়োগের সুরক্ষা ও বৃদ্ধি সুনিশ্চিত। রবিবার, বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড পলিসি সামিট ২০১৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রণোদনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা বেসরকারি বিনিয়োগে রাজস্ব এবং রাজস্ব-বহির্ভূত আকর্ষণীয় প্রণোদনা দিচ্ছি। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাস্তবভিত্তিক বিনিয়োগ প্রস্তাবনা বাস্তবায়নে সব ধরনের সহায়তা দিতে সরকার প্রস্তুত।

বিদেশি বিনিয়োগ

এ প্রসঙ্গে  বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে। এ কারণে অনেক খ্যাতনামা কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আসছে।

এদিকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ দিতে পিপিপি প্রকল্পের অনুমোদন, অর্থায়ন, আয় ও লভ্যাংশ বিদেশে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে ২৪ ধরনের প্রণোদনা চূড়ান্ত করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে প্রণোদনাগুলো পিপিপি আইন, ২০১৫-তে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আর তা বাস্তবায়য়ে বিধি-বিধান প্রণয়নের কাজ করছে অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিনিয়োগ বোর্ড, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান।

এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রণোদনার বিষয়টি সারা পৃথিবীতেই আছে। বাস্তবতা হলো প্রণোদনা এখানে সামান্য ভূমিকা রাখে। বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ জরুরি। পণ্য উৎপাদনের পর তা বিপণন এবং পরিবহনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। ড. মির্জ্জা আজিজুল আরও বলেন, সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ৩২ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে। কয়েক বছরের বিনিয়োগের যে ধারা চলে আসছে, তাতে এই পরিমাণ বিনিয়োগ প্রায় অসম্ভব।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ ছিল মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২১ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এখন সেটা মাত্র দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২২ দশমিক ০৭ শতাংশ। বেসরকারি বিনিয়োগ বছরের পর বছর একই জায়গায় স্থবির।

প্রসঙ্গত, ২০০৯-২০১০ অর্থবছরের বাজেটে প্রথম পিপিপির আওতায় তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরের বছরগুলোতেও একইভাবে অর্থ বরাদ্দ করা হলেও বেসরকারি খাত বিনিয়োগে উৎসাহী না হওয়ায় তা খরচ করা যায়নি।

ঘোষিত প্রণোদনা:

ভ্যাটমুক্ত: ১) পিপিপির  প্রকল্পে সব ধরনের সেবা খাতে ফি শতভাগ ভ্যাটমুক্ত। ২) আমদানি পণ্যে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত সুবিধা। ৩) বিদেশি প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণের সুদ করমুক্ত থাকবে। ৪) জিরো কুপন বন্ডে বিনিয়োগ করমুক্ত  ৫) আর্থিক ও আইনি সেবা ফি ভ্যাটমুক্ত ৬) নকশা, নির্মাণসহ অন্যান্য ফি ভ্যাটমুক্ত ৭) কাঁচামাল আমদানি, যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানি সম্পূর্ণ ভ্যাটমুক্ত। ৮) পিপিপি অবকাঠামো ব্যবহারের সেবা ফি ভ্যাটমুক্ত ৯)  অবকাঠামো ব্যবহারের চার্জ ভ্যাটমুক্ত থাকবে। ১০) কাঁচামাল, মূলধনী যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক, আমদানি অনুমোদন ফি থেকে অব্যাহতি পাবে। ১১) কাঁচামাল, মূলধনী যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে সারচার্জ থেকে অব্যাহতি। ১২) সাধারণ বিনিয়োগকারীদের যেখানে ‘একক গ্রাহক ঋণসীমা’ মেনে চলার বিধান রয়েছে, পিপিপির ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না। ১৩) বিদেশ থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ নেওয়ার পাশাপাশি দেশের ব্যাংক থেকে টাকাও ঋণ নিতে পারবেন বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা। ১৪) পুনর্বিনিয়োগ করা প্রত্যাবাসনযোগ্য ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশ নতুন বৈদেশিক বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হবে। ১৫) বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই ১০০ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদান: অনিবাসী বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশে নিবাসী বিদেশি নাগরিকরা বাংলাদেশ ব্যাংকের আগাম অনুমোদন ছাড়াই লভ্যাংশের সম্পূর্ণ অংশ বা শতভাগ অর্থ বিদেশে প্রত্যাবাসন করতে পারবেন। ১৬)  অনিবাসী বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশে নিবাসী বিদেশি নাগরিকরা বাংলাদেশ ব্যাংকের আগাম অনুমোদন ছাড়াই তাদের আয়ের ৭৫ শতাংশ অর্থ বিদেশে প্রত্যাবাসন করতে পারবেন। এতদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া বিদেশে অর্থ প্রত্যাবাসনের সুযোগ ছিল না। ১৭) পিপিরি আওতায় বিনিয়োগকারীর ঋণের জন্য অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত নিষ্পত্তি করবে। ১৮) সুদহার নির্ধারণ করে দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক: দেশীয় উৎস থেকে নেওয়া ঋণের নির্দিষ্ট সুদ হার প্রযোজ্য হবে না। প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যতিক্রমী ঝুঁকিগুলো বিবেচনায় সুদহার নির্ধারণ করে দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১৯) বিদেশের সম্পদ জামানত রেখে দেশ থেকে ঋণ নেওয়া যাবে। ২০) এ ছাড়া বৈদেশিক গ্যারান্টির বিপরীতে ঋণ গ্রহণের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২১) বিদেশি ও প্রবাসী কর্মী ও অংশীদাররা বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব সংরক্ষণ করতে পারবেন, ওই হিসাবে তারা তাদের আয়কে বৈদেশিক মুদ্রায় রূপান্তর করে আমানতও রাখতে পারবেন। আন্তর্জাতিক বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে টাকা স্বাধীনভাবে বৈদেশিক মুদ্রায় রূপান্তর করা যাবে। ২২) নিয়ম অনুযায়ী, বিনিয়োগের পরিমাণ ১০ কোটি টাকার বেশি হলে তা পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিতে নিবন্ধনের শর্ত রয়েছে। সে শর্ত থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে পিপিপিতে অংশ নেওয়া বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের। ২৩) প্রবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে বীমার শর্ত শিথিল করা হয়েছে। এত দিন বিনিয়োগের শতভাগ বীমা বাংলাদেশ সাধারণ বীমা করপোরেশনে করার বাধ্যবাধকতা ছিল। এখন থেকে ৫০ শতাংশ সাধারণ বীমা করপোরেশনে করার পর বাকি অংশ বিদেশের যেকোনও প্রতিষ্ঠানে করার সুযোগ উন্মুক্ত করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পিপিপিতে প্রণোদনা বাড়িয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহী করার উদ্যোগ খুবই ইতিবাচক।

স্বাস্থ্যে বিনিয়োগে আগ্রহী ভারত: বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী ভারতীয় দুটি প্রতিষ্ঠান। ভারতের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স ও আইএএমএসএমই’র আট সদস্যের প্রতিনিধিদল সম্প্রতি সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে দেখা করে আগ্রহের কথা জানান। আইএএমএসএমই’র চেয়ারম্যান রাজীব ঢাওলা ও এশিয়ান ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান পদ্মভূষণ ডা. নরেন্দ্র কুমার পান্ডে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। তারা বাংলাদেশে হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন।

তৈরি পোশাক:

দেশের তৈরি পোশাক খাতে যৌথভাবে বিনিয়োগ করতে চান ভারতের ব্যবসায়ীরা। তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এ আগ্রহ প্রকাশ করেছে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) প্রতিনিধিদল। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএ ভবনে গত অক্টোবরে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাছির, মাহমুদ হাসান খান, পরিচালক শহিদুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে আসা ১২ সদস্যের সিআইআই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ভারতের করোনা নিটওয়্যারের যুগ্ম ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস কাথিরেশ।

এ প্রসঙ্গে বিজিএমই-এর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ভারতের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে একক বা যৌথভাবে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বাংলাদেশে ভারতের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ ক্রমেই বাড়ছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে ভারতের এফডিআই (প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ) বেড়েছে ৪৫ দশমিক ৫২ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের  তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে গত বছরের ৩০ জুন শেষে ভারতের এফডিআই দাঁড়িয়েছে আট কোটি ২৭ লাখ ৯০ হাজার ডলারে। আগের বছর একই সময় ছিল পাঁচ কোটি ৬৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার। ২০১১-১২ অর্থবছরে ছিল দুই কোটি ৭৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। ২০১২-১৩ অর্থবছরে ছিল চার কোটি ২০ লাখ ৯০ হাজার ডলার।

বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ থেকে ২০১২ এই এক দশকে এ অঞ্চলে বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়িয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে ভারত। এ সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের মোট বিনিয়োগের ২৩ দশমিক ৮৮ শতাংশই এসেছে বাংলাদেশে।

 

/এফএ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম