ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো (এনবিএফআই) ইচ্ছে মতো ঋণের সুদ নিচ্ছে। কোনও কোনও প্রতিষ্ঠান ১৬ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত সুদ নির্ধারণ করছে। এতে বিপাকে পড়ছেন ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও ঋণগ্রহীতারা। তাই যৌক্তিক পর্যায় নামিয়ে আনতে ব্যাংকের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানেরও ঋণের সুদহার বেঁধে দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
রবিবার (২৭ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের ৪২০তম বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পর্ষদ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোর সর্বোচ্চ ঋণের সুদ হার ৯ শতাংশ হলেও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের সুদহার বেঁধে দেওয়া ছিল না। তারা তাদের ইচ্ছে মতো সুদহার নির্ধারণ করছে। কোনও কোনও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ, আবার অনেকে ১৮ শতাংশও সুদ নিচ্ছে। এটি বাজারের জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানত ও ঋণ, লিজ ও বিনিয়োগের সুদ বা মুনাফার হার যৌক্তিক পর্যায়ে আনার বিষয়ে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড বিষয়টির সঙ্গে একমত হয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া বোর্ড রফতানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) এর আকার সাময়িক বাড়ানোর বিষয়ও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান সিরাজুল ইসলাম।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বোর্ড সভায় সভাপতিত্ব করেন। এসময় বোর্ড সদস্যসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঋণের সুদ হার ৯ শতাংশ বেঁধে দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। যা ওই বছরের এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়। এর ফলে নতুন ও পুরোনো সব ধরনের ঋণে সুদ হার হয় ৯ শতাংশে নেমে আসে। একই বছর ২৪ সেপ্টেম্বর ক্রেডিট কার্ডের সর্বোচ্চ সুদহার বেঁধে দেওয়া হয়। দেশের কোনও ব্যাংকই ক্রেডিট কার্ডে ২০ শতাংশের বেশি সুদ আদায় করতে পারবে না। যা ২০২০ সালের ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়।








