চট্টগ্রামে কোরিয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (কেইপিজেড) পুরো দুই হাজার ৫০০ একর জমিতে বিনিয়োগ করতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া। পাশাপাশি তারা কেইপিজেডে তথ্য ও প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চায়।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসে এই দাবি জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত আন সং দু। বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬ সালের ক্ষমতায় থাকাকালে চট্টগ্রামে কেইপিজেডকে দুই হাজার ৬০০ একর জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এসে এই জমি সাবলিজ দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ তুলে আগের চুক্তি বাতিল করে। কোরীয় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে এবং এখনও সেই মামলা বিচারাধীন। এখন সরকার তাদের ৫০০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে কোরীয় কর্তৃপক্ষ পুরো ২৬০০ একরই চায়। কম হলেও অন্তত ২৫০০ একর জমি দেওয়ার দাবি তুলেছে তারা।
বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘কেইপিজেডে বেশি ব্যবসা দক্ষিণ কোরিয়ার, এটা নিয়ে সমস্যা আছে। এখনও সমাধান হয়নি। এ ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে, আমরা বলেছি ৫০০ একরের বিনিয়োগ করেন। এরপর বাকিটা পর্যায়ক্রমে আমরা দেবো। তারা একসঙ্গে দুই হাজার ৫০০ একর জমি চায়। সেখানে ইতোমধ্যে অনেক শিল্প গড়ে উঠেছে, বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি। আমরা চাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিষ্পত্তি হবে, তত তাড়াতাড়ি সেখানকার বিনিয়োগকারীরা আসতে পারবেন। এটি আলোচনার মধ্যে রয়েছে।’
দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত জানান, বর্তমানে কেইপিজেডে ২২ ফ্যাক্টরি আছে। এগুলোতে প্রায় ৫৫ হাজার লোক কর্মরত। বছরে এখন থেকে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার পরিমাণ পণ্য রফতানি হয়। তারা এখন বাংলাদেশের আইসিটি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতেও আগ্রহী।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র এবং অন্যতম ব্যবসায়ীর অংশীদার। দক্ষিণ কোরিয়া চার হাজার ৮০০ আইটেমের বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেয়। বাংলাদেশে উৎপাতিদ প্রায় ৯০ শতাংশ পণ্যই এই সুবিধা পায়। সরকার এই সহযোগিতা আরও বাড়াতে চায়।
/এসআই/এফএস/








