সরবরাহ বাড়ায় রাজধানীর কাঁচা বাজারে সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমেছে। তবে দাম বেড়েছে শসার। কাঁচা মরিচের কেজি এখনও ২০০ টাকা। পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। গত সপ্তাহের ১০ থেকে ২০ টাকার বাড়তি দাম এখনও মুরগির বাজারে। মাছ বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর রায় সাহেব বাজার, নারিন্দা কাঁচা বাজার ও দক্ষিণ মুহসেন্দি বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, সপ্তাহ ভেদে অধিকাংশ সবজির দাম ১০ টাকা কমেছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে বেগুনের দাম। গত সপ্তাহে কাঁচা মরিচের দাম ৩০০ টাকা থাকলেও বর্তমান দাম ২০০ টাকা। তবে শসার দাম বেড়েছে ৪০ টাকা। গত সপ্তাহে ১০০ থেকে ১২০ টাকার বেগুন বর্তমানে ৬০ টাকা, পেঁপে ১০ টাকা কমে ৩০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, পটোল, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা, ঝিঙার দাম ১০ টাকা কমে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, চায়না গাজর ২০ টাকা কমে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, দেশি গাজর বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে। শসার বর্তমান দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। দেশি কাঁচা মরিচ ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, ইন্ডিয়ান মরিচ ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া টমেটো ১৪০, বরবটি ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা, কলা বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা হালি।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আল আমিন খান বলেন, বাজারে অবস্থা করুণ। যেটাতে হাত দেবে সেটার দামই বেশি। তবে গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ কিছুটা দাম কম আছে।
নারিন্দা কাঁচা বাজারের বিক্রেতা রুবেল হোসেন বলেন, এ সপ্তাহে কাঁচা মরিচের পাল্লা ৮৫০ টাকা, কয়েক দিন আগেও ১ হাজার টাকার বেশি ছিল। আজ শসার চালান কম, সে জন্য দাম বেশি। আর শুক্র, শনিবার সালাদ জাতীয় জিনিসের দাম আড়তেই বেড়ে যায়। পাইকারদের একটা হিসাব আছে। তারা জানে বন্ধের দিন এসব বেশি চলে। সে জন্য দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
পাঁচ টাকা বেড়েছে পেঁয়াজের দাম
গত সপ্তাহের ৫৫ টাকা কেজি পেঁয়াজ এখন ৬০ টাকা হয়েছে। আদা ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা, ছোট রসুন ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, বড় রসুন ২০০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১৪০ টাকা, মোটা মসুর ডাল ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে মাছ, কিছুটা বাড়তি দাম মুরগির
গত সপ্তাহের মতো প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর সোনালি মুরগির দাম ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি। দুই সপ্তাহ আগেও ব্রয়লার মুরগির দাম ১৬০ থেকে ১৫০ টাকা ছিল। সোনালি মুরগির দাম ছিল ২৮০-২৯০ টাকা। তবে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।
রুই মাছ ২ কেজি থেকে আড়াই কেজির ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেড় থেকে ২ কেজির রুই মাছের দাম ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকা, এক থেকে দেড় কেজির দাম ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা, এক কেজির কমগুলোর দাম ২৮০ টাকা। পোয়া মাছ ৬০০ টাকা, মৃগেল মাছ ২৮০ টাকা, তেলাপিয়া আড়াইশ টাকা, এক কেজি থেকে কিছুটা বেশি পাঙাশের দাম ১৮০ টাকা, দেড় কেজির বেশি পাঙাশের দাম ২৫০ টাকা। শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে সাড়ে পাঁচশ টাকা থেকে ৬০০ টাকা কেজিতে। চিংড়ি মাছ ৯০০ থেকে ১৪০০ টাকা, ইলিশ মাছ ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মাসুম বলেন, মাছের দাম অনেক বেশি। মুরগি ও সবজির দাম কিছুটা কমা-বাড়ার মধ্যে থাকলেও মাছের দাম কমে না। ২২০ থেকে আড়াইশ টাকায় আগে রুই মাছ কিনতাম। এখন তেলাপিয়া আর পাঙাশও এ দামে পাই না।
রায় সাহেব বাজারের বিক্রেতা শাহ আলম বলেন, বাজারে মাছে দাম বাড়েনি। আগের দামই আছে। যেদিন ক্রেতা বেশি থাকে, দাম বাড়ে। ক্রেতা কম থাকলে দাম কমে।









