সরকার জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত যোদ্ধাদের যে কোনও সহায়তায় পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন শিল্পসচিব মো. ওবায়দুর রহমান। তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কারণেই আমি আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছি। তাই তাদের পাশে থাকা আমার কর্তব্য।”
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টে (বিআইএম) এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস’ বিষয়ক তিন দিনের উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল আকবর, এসএমই ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারজানা খান এবং ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সামসি আরা জামান।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটসের বিভিন্ন বিষয়ের উপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেন। এতে বেসিক্স অব কালার, টাই অ্যান্ড ডাই, টি-শার্ট পেইন্টিং, মধুবনী ও রাশিয়ান আর্ট, পটারি ও গ্লাস পেইন্টিং, জুট ব্যাগ ডিজাইন, আফ্রিকান আর্ট, স্টেনসিল ওয়ার্ক, জুয়েলারি নির্মাণসহ পণ্যের কাঁচামাল সংগ্রহ ও মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি শেখানো হয়।
অনুষ্ঠানে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, “জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধাদের দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আরও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে ১ কোটি ১৮ লাখ কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিল্প খাতে মোট কর্মসংস্থানের ৮৫ শতাংশই এসএমই খাতে, যেখানে কর্মরত জনবল তিন কোটিরও বেশি।”
শ্রমনিবিড় ও স্বল্প পুঁজিনির্ভর এই খাত জাতীয় আয় বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এসএমই ফাউন্ডেশন জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২, এসএমই নীতিমালা ২০১৯ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ২০৩০ বাস্তবায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে আসছে। এ পর্যন্ত ফাউন্ডেশনের সেবা পেয়েছেন প্রায় ২০ লাখ উদ্যোক্তা, যাদের ৬০ শতাংশই নারী।









