ইসলামী ব্যাংকগুলোতে ঝুঁকি বাড়ছে: মুডিস

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট 
২৬ আগস্ট ২০২৫, ১০:৫৯আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৫, ১০:৫৯

বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংকগুলো রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক এবং নতুন আর্থিক প্রতিবেদন মানদণ্ডের কারণে আরও বড় চাপে পড়তে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা মুডিস। 

সোমবার (২৫ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, দীর্ঘদিনের শাসন দুর্বলতা এবং দুর্বল মূলধন কাঠামো আমানতকারীদের আস্থা নষ্ট করেছে, যা ভবিষ্যতে প্রবৃদ্ধিকে সীমিত করবে।

পোশাক খাতের ওপর অতিনির্ভরতা

মুডিস জানিয়েছে, বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংকগুলো তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর অত্যধিক নির্ভরশীল—যা দেশের রফতানির ৮০ শতাংশের বেশি এবং এর প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হয়। কিন্তু নতুন শুল্ক অনিশ্চয়তা ব্যবসায়ীদের আস্থাহীনতা তৈরি করছে এবং সমগ্র আরএমজি ভ্যালু চেইনকে প্রভাবিত করছে। এর ফলে ঋণগ্রহীতাদের পরিশোধ সক্ষমতা কমছে এবং ব্যাংকগুলোর ঋণ ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

খেলাপি ঋণের উল্লম্ফন

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অতিদেয় বিনিয়োগ (খেলাপি ঋণ) শ্রেণিবিন্যাসের নিয়ম কঠোর হওয়ার পর থেকে ইসলামী ব্যাংকগুলোতে খেলাপির হার হঠাৎ বেড়ে গেছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ছিল ১০ শতাংশ আর ২০২৫ সালের মার্চে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭ শতাংশ।

অপরদিকে প্রচলিত ব্যাংকগুলোর খেলাপির হার এ সময়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ শতাংশ।

মুডিস বলছে, কিছু ইসলামী ব্যাংক ইতোমধ্যেই চলতি বছরের প্রথমার্ধে লোকসান দেখিয়েছে, যা খাতটির আর্থিক অস্থিরতাকে আরও স্পষ্ট করছে।

নতুন হিসাব মানের চাপ

২০২৬ সাল থেকে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান (আইএফআরএস-৯) কার্যকর হবে, যা ঋণ ক্ষতি আগে স্বীকৃতি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি করবে। 

মুডিস মনে করছে, এটি শুরুতে ইসলামী ব্যাংকগুলোর মুনাফায় বড় ধাক্কা দেবে।

শাসন সংকট ও আমানত পতন

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে। তবুও জনগণের আস্থা ফিরতে সময় লাগবে। ইতোমধ্যেই দুর্বল শাসন কাঠামোর ব্যাংকগুলোতে আমানত কমেছে এবং প্রবাসী আয়ও হ্রাস পেয়েছে, যা তারল্য সংকট আরও ঘনীভূত করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা

তারল্য ঘাটতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য দুটি স্কিম চালু করেছে—ইসলামী ব্যাংক তারল্য সুবিধা (আইবিএলএফ) এবং মুদারাবাহ লিকুইডিটি সাপোর্ট (এমএলএস)।

২০২২-২৩ অর্থবছরে আইবিএলএফ থেকে ৯৬ হাজার কোটি টাকা এবং এমএলএস থেকে ২০০ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আইবিএলএফ বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, আর এমএলএস হয় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

মুডিস জানায়, ২০২৪ অর্থবছরে এ সহায়তার পরিমাণ ছিল বাংলাদেশের জিডিপির ৩ দশমিক ৮ শতাংশ, যা ইসলামী ব্যাংক খাতের মোট সম্পদের প্রায় ২২ দশমিক ১ শতাংশ।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

সবশেষে সংস্থাটি বলেছে, ঝুঁকি সত্ত্বেও বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা ও নীতিগত প্রতিশ্রুতি খাতটির দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারে। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে ইসলামী ব্যাংকগুলোর অর্থায়ন প্রবৃদ্ধি বাড়বে এবং ব্যাংক খাতের মোট অংশীদারত্ব ২৭ শতাংশ থেকে আরও ওপরে উঠতে পারে।

/জিএম/এমকেএইচ/
সম্পর্কিত
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে টানাটানির সুযোগ দেওয়া হবে না: শফিকুর রহমান
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ ৭ দাবিতে আজও বিক্ষোভ 
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ ৭ দাবিতে সমাবেশ
সর্বশেষ খবর
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
মূল্যস্ফীতির আগুনে পুড়ছে মানুষ, বাড়ছে বিদ্যুতের দাম এরপর কী
মূল্যস্ফীতির আগুনে পুড়ছে মানুষ, বাড়ছে বিদ্যুতের দাম এরপর কী
থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ, ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার
থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ, ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার
কট্টরপন্থি ইহুদিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
কট্টরপন্থি ইহুদিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম