বিশ্ববাজারে ফের বেড়েছে তেলের দাম। বুধবার (৪ মার্চ) তেলের দাম বেড়েছে তিন শতাংশ পর্যন্ত। ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট সংকট ও সরবরাহে বিঘ্ন হওয়ায় তেলের দাম বাড়ছেই। খবর রয়টার্সের।
প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, আগের কয়েকদিনের তুলনায় আজ তেলের দামের বৃদ্ধির গতি কিছুটা কম। কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকৃত জাহাজগুলোর নিরাপত্তায় সহায়তা দিতে পারে।
বুধবার (৪ মার্চ) গ্রিনিচ মান অনুযায়ী ০৬৫৯ সময়ে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি দুই দশমিক ৬৭ ডলার বা তিন দশমিক তিন শতাংশ বেড়ে ৮৪ দশমিক শূন্য সাত ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে মঙ্গলবার মার্কেট বন্ধ হওয়ার শেষ সময়ে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছিলো।
বুধবার সকালে ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটির (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম বেড়েছে দুই দশমিক ২৪ ডলার বা তিন শতাংশ। ওই সময়ে ব্যারেল প্রতি ডব্লিউটিআই ক্রুড অয়েল বিক্রি হয় ৭৬ দশমিক আট মার্কিন ডলারে, যা গত জুনের পর সর্বোচ্চ। সবশেষ দুই সেশনে দুই বেঞ্চমার্কে তেলের দাম বেড়েছে পাঁচ শতাংশেরও বেশি।
অনলাইন মাল্টি-অ্যাসেট ট্রেডিং পরিষেবা এবং মুদ্রা ডেটা ও বিশ্লেষণ প্রদানকারী সংস্থা ওএএনডিএর বিশেষজ্ঞ কেলভিন ওং বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতেই তেলের দাম বাড়ছে। উত্তেজনা কমার স্পষ্ট সংকেতই বর্তমান ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে কমাতে পারে। তবে, এমন কোনও সংকেত বর্তমানে নেই।”
মঙ্গলবার ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোগুলোতে হামলা চারিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের জ্বালানি অবকাঠামোতে তেহরানের হামলার জবাবেই গতকালের হামলা।
ওপেক’র দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল উৎপাদক ইরাক সংরক্ষণ সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং রফতানি পথের অভাবের কারণে দৈনিক প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কমিয়েছে, যা তাদের মোট উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক। ইরাকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “যদি রফতানি পুনরায় শুরু না হয়, তবে কয়েক দিনের মধ্যেই আমাদের উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।” ইরাক প্রতিদিন প্রায় ৩০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে।
রয়টার্স বলছে, ইরান হরমুজ প্রণালিতে ট্যাঙ্কারগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে, যার মাধ্যমে বিশ্বের মোট তেলের এবং তরলায়িত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক পঞ্চমাংশ সরবরাহ হয়। বর্তমানে এ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকৃত জাহাজগুলোর নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলেছেন ট্রাম্প। বিষয়টিকে সাধুবাদ জানালেও মার্কেট বিশ্লেষকরা বলছেন, এক রাতেই এ সমস্যার সমাধান হবে না। এর জন্য সময় লাগবে।









