শ্রমিকের সংজ্ঞা ও শ্রম সংশোধন অধ্যাদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি বিকেএমইএর

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট 
০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৫আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৫

সংশোধিত শ্রম আইন অধ্যাদেশ–২০২৫ এর কয়েকটি ধারা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)। সংগঠনটির অভিযোগ, অধ্যাদেশে ‘শ্রমিক’ শব্দের সংজ্ঞায় কর্মকর্তা–কর্মচারীকে অন্তর্ভুক্ত করায় শিল্প খাতে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

রবিবার (৫ এপ্রিল) বিকেএমইএর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এসব কথা বলেন। এ সময় বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আমল পোদ্দার এবং সহসভাপতি শামীম আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, সংশোধিত অধিকাংশ ধারা গ্রহণযোগ্য হলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাস্তবায়নের আগে জরুরি ভিত্তিতে পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন। তার অভিযোগ, মালিক, শ্রমিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে নেওয়া সব সিদ্ধান্ত সংশোধিত অধ্যাদেশে প্রতিফলিত হয়নি।

তিনি বলেন, আগের আইনে প্রশাসনিক, তদারকি বা ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের কর্মীরা ‘শ্রমিক’ সংজ্ঞার বাইরে ছিলেন। কিন্তু নতুন সংশোধনে বেতনভুক্ত কর্মকর্তা–কর্মচারীদেরও শ্রমিক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা কারখানায় অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। এ বিষয়টি ত্রিপক্ষীয় পরামর্শক পরিষদের (টিসিসি) সিদ্ধান্তের প্রতিফলন নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

চাকরি অবসানের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত সময়সীমা নিয়েও আপত্তি জানায় বিকেএমইএ। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, স্থায়ী শ্রমিকরা তিন বছর পর্যন্ত প্রতি বছরের জন্য সাত দিনের মজুরি, তিন থেকে ১০ বছরের জন্য ১৫ দিনের মজুরি এবং ১০ বছরের বেশি চাকরির ক্ষেত্রে ৩০ দিনের মজুরি পাবেন। তবে টিসিসিতে তিন থেকে পাঁচ বছরের কম সময়ের জন্য সাত দিনের মজুরি এবং পাঁচ থেকে ১০ বছরের কম সময়ের জন্য ১৫ দিনের মজুরির প্রস্তাব ছিল বলে তিনি জানান। সংশোধিত সময়সীমাকে ‘অযৌক্তিক’ বলেও উল্লেখ করেন বিকেএমইএ সভাপতি।

সমষ্টিগত দরকষাকষির প্রতিনিধি (সিবিএ) নির্বাচনের বিধান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, একটি কারখানায় একটি ট্রেড ইউনিয়নকেই দরকষাকষির প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যাবে এবং সিবিএ হতে হলে নির্বাচনের মাধ্যমে অন্তত ৫১ শতাংশ শ্রমিকের সমর্থন পেতে হবে।

এছাড়া গ্র্যাচুইটি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, মাতৃত্বকালীন সুবিধা এবং কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠনের বিধানসহ কয়েকটি ধারা পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব দেন বিকেএমইএ সভাপতি।

তিনি বলেন, সংশোধন প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ আলোচনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। শুরুতে প্রায় ৩০০ প্রস্তাব থেকে তা কমিয়ে ১০১টিতে আনা হয়। পরে কারিগরি কমিটির পর্যালোচনার মাধ্যমে এটি চূড়ান্ত করা হয়। এর মধ্যে ৭৯টি ধারা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছিল।

তবে শেষ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের পূর্বসম্মতি ছাড়াই কয়েকটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ কারণে অধ্যাদেশটি সংসদে তোলার আগে পুনরায় পর্যালোচনার দাবি জানান বিকেএমইএ নেতারা।

এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘‘১২৪টি সংশোধিত ধারার মধ্যে মাত্র চার–পাঁচটি বিষয়ে আমাদের আপত্তি রয়েছে। বাকি ধারা শ্রমিকবান্ধব হিসেবে আমরা সমর্থন করি। তবে শিল্পের ক্ষতি হতে পারে—এমন ধারা এড়িয়ে যৌক্তিক প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নেওয়া উচিত।’

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ নভেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংশোধিত শ্রম আইন অধ্যাদেশ জারি করে।

 

/জিএম/এমএএল/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল দিলে সেটা তারেক রহমান পাবেন’
‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল দিলে সেটা তারেক রহমান পাবেন’
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
ঢাকায় পৌঁছেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান 
ঢাকায় পৌঁছেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান 
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি