আসন্ন ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা বাড়ছে বলে জানা গেছে। এ খাতে বর্তমানে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ দশমিক ৩ শতাংশ বরাদ্দ থাকলেও আগামী অর্থবছরে এই বরাদ্দ জিডিপির ৩ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হতে পারে। তবে নতুন অর্থবছরের বাজেটে এই প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা গড়ে ৫ থেকে ১০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব থাকছে যা মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছে। বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানিয়েছেন। সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির এক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ খাতে বরাদ্দ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর আভাস দিয়েছেন। অতীতের মতো উপকারভোগী শনাক্ত করতে স্থানীয় সরকারের হাতে বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদের হাতেই দায়িত্ব থাকবে বলে জানা গেছে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সারাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর মোট সংখ্যা ৪২ লাখের বেশি। আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নতুন করে আরও সাড়ে ৫ লাখ মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ লক্ষ্যে একটি প্রস্তাবও দিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো। এ খাতে বরাদ্দও বাড়াতে বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে নতুন বাজেটে উপকারভোগীর সংখ্যা ৫০ লাখে নিয়ে যাওয়ার একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ। এতে অতিরিক্ত কত টাকার প্রয়োজন হবে সে হিসেব-নিকেশও করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। উপকারভোগী শনাক্তে গ্রামাঞ্চলকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
জানা গেছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক ভাতা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ও বিধবাভাতা কর্মসূচি দেখছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাস্তবায়ন করছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। ভিজিডি, দরিদ্র মায়ের মাতৃত্বকালীন ভাতা, কর্মজীবী স্তনদানকারী মায়েদের (ল্যাকটেটিং)ভাতা মাঠপর্যায়ে বিতরণ ও বাস্তবায়ন করছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এছাড়া আগামী বাজেটে ভিজিডি, দরিদ্র মায়ের মাতৃত্বকালীন ভাতা ও কর্মজীবী (ল্যাকটেটিং) স্তনদানকারী মায়েদের ভাতার উপকারভোগীর সংখ্যা বিদ্যমানের চেয়ে আরও সাড়ে ৫ লাখ বাড়াতে অর্থ সচিবকে ডিও লেটার (আধা সরকারি পত্র) দিয়েছেন মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা বাড়ানো প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে নিয়ে যেতে হলে অবশ্যই দারিদ্র্য নিরসন হওয়া প্রয়োজন। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় দেশে দরিদ্রের সংখ্যা কমে আসবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীরও বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।
তবে সরকারি এই কর্মসূচির আওতায় চলমান প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম পুনর্মূল্যায়নের বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ-সচিব মাহবুব আহমেদ। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোর ব্যাপারেও ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন বলে বৈঠকের একটি সূত্রে জানা গেছে।
/এসআই /এএইচ/
আরও খবর পড়ুন-







