বসুন্ধরার সোনার ব্যবসায় বেসরকারি ব্যাংককেও রাখার পরামর্শ 

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৯:০৪আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৯:০৪

বসুন্ধরা গ্রুপের সোনা পরিশোধনাগার প্রকল্পের সিন্ডিকেশন ঋণে সরকারি ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংকগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ পরামর্শ দেন গভর্নর ফজলে কবির। এ সময় অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, ব্যাংকগুলো এ প্রকল্পে মোট ব্যয়ের ৬০ শতাংশ টাকা দেবে, বাকি ৪০ শতাংশ বসুন্ধরা গ্রুপ মূলধন হিসেবে দেবে।

প্রসঙ্গত, দেশে প্রথমবারের মতো সোনা পরিশোধনাগার কারখানা নির্মাণ করবে বসুন্ধরা গ্রুপ। বসুন্ধরা গোল্ড রিফাইনারি লিমিটেড নামের এই পরিশোধনাগার নির্মাণে প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। যার অর্থায়ন করতে চায় রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ ব্যাংক।

তবে প্রকল্পটি নতুন হওয়ায় এই বিনিয়োগে ঝুঁকি বেশি। ঝুঁকি কমাতে সিন্ডিকেট ঋণে বেসরকারি ব্যাংকগুলোকেও সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে প্রজেক্টের মেশিনারি কেনা বাবদ ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এখানে ব্যাংক ও গ্রাহকের বিনিয়োগের পরিমাণ ৬০ এবং ৪০ শতাংশ হারে নির্ধারণ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে ব্যাংকগুলোর দাবি ছিল ৭০ ও ৩০ শতাংশ।

জানা গেছে, ৩০০ ফুট ঢাকা-পূর্বাচল হাইওয়ের পাশে ভাটারা থানার জোয়ার সাহারা মৌজায় ৪৭০ শতক জমিতে গড়ে তোলা হবে বসুন্ধরা গোল্ড রিফাইনারি লিমিটেড। সেখানে ভূমি উন্নয়ন শেষে এখন নির্মাণকাজ চলছে।

বসুন্ধরার এই কারখানা চালু হলে সোনা পরিশোধনের যুগে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ। অপরিশোধিত ও আংশিক পরিশোধিত সোনা আমদানির পর তা দিয়ে কারখানাটিতে সোনার বার ও কয়েন উৎপাদন করা হবে। সেগুলো রফতানির পাশাপাশি দেশেও অলংকার তৈরিতে ব্যবহৃত হবে।

জানা গেছে, সোনা পরিশোধনাগার কারখানা নির্মাণ সিন্ডিকেট ঋণের নেতৃত্বে রয়েছে রাষ্ট্রমালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংক। সবচেয়ে বেশি ঋণ দিচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও জনতা ব্যাংক। সিন্ডিকেট বা ঋণজোটের অপর দুই ব্যাংক হলো সরকারি খাতের রূপালী ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল)।

নিয়ম অনুযায়ী সরকারি ব্যাংকগুলো এই প্রকল্পে তাদের মোট সম্পদের ১০ শতাংশের বেশি বিনিয়োগ করতে পারবে না। কারণ খেলাপি ঋণের হার বেশি হওয়ায় বাৎসরিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী মোট সম্পদের ১০ শতাংশের বেশি একক গ্রাহককে দেওয়ার অনুমতি নেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর। তবে যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার কম তারা একজন গ্রাহকের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

বসুন্ধরা গোল্ড রিফাইনারি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান। তিনি সম্প্রতি বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সভাপতি হয়েছেন।

/জিএম/ইউএস/
সম্পর্কিত
আমের মৌসুমে রাজশাহী অঞ্চলে শনিবারও ব্যাংক খোলা
সংসদে অর্থমন্ত্রীসংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে ৭৫৯০৩ কোটি টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক
চার বছর পর আবার রিজার্ভ ছাড়ালো ৩৬ বিলিয়ন
সর্বশেষ খবর
টিভিতে আজকের খেলা (২৯ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা (২৯ জুন, ২০২৬)
ভুল স্বীকার করলে জামায়াতের রাজনীতি সহজ হবে: মির্জা ফখরুল
ভুল স্বীকার করলে জামায়াতের রাজনীতি সহজ হবে: মির্জা ফখরুল
গাড়ি ভাড়াটা এখনও দিতে পারিনি, মাসের শেষ: সংসদে নাহিদ ইসলাম
গাড়ি ভাড়াটা এখনও দিতে পারিনি, মাসের শেষ: সংসদে নাহিদ ইসলাম
ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে কানাডা
ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে কানাডা
সর্বাধিক পঠিত
১০০০ ও ৫০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব সংসদে
১০০০ ও ৫০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব সংসদে
চলতি বছরেই দেশে ফিরবো: এনডিটিভিকে শেখ হাসিনা
চলতি বছরেই দেশে ফিরবো: এনডিটিভিকে শেখ হাসিনা
দেশে ভূমিকম্প অনুভূত
দেশে ভূমিকম্প অনুভূত
একসঙ্গে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ শিক্ষক চাকরিচ্যুত
একসঙ্গে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ শিক্ষক চাকরিচ্যুত
ইরানের কোনও অস্তিত্ব থাকবে না: ট্রাম্প
ইরানের কোনও অস্তিত্ব থাকবে না: ট্রাম্প