X
বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২
২৩ আষাঢ় ১৪২৯

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কৌশলী সরকার

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২২, ১২:১০

সরকার যে কোনও মূল্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। মূল্যস্ফীতির হার যেন কোনোভাবেই ৬ দশমিক ৫ শতাংশের উপরে না ওঠে তা নিয়ন্ত্রণে কিছু কৌশলের কথা ভাবছে সরকার। এগুলোর মধ্যে রয়েছে— কর্মসৃজন, প্রণোদনা প্যাকেজ ও খোলাবাজারে বিক্রি (ওএমএস) কার্যক্রম গ্রহণ। যদিও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিষয়টিকে জটিল করে তুলেছে। তারপরও চেষ্টার কমতি নেই অর্থ বিভাগের। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়া ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ সারা বিশ্বের অর্থনীতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। এতে সারা বিশ্বেই নিত্যপণ্যসহ সকল প্রকার পণ্যের দাম বাড়ছে। সব জিনিসের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা ভেবে বিভিন্ন নিত্যপণ্যে ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কিন্তু কতক্ষণ? ভর্তুকির লাগাম টানতে মূল্য সমন্বয় করার কথাও ভাবা হচ্ছে। তবে এ ভর্তুকির লাগাম টানতে মূল্য সমন্বয় করা হলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

জানা গেছে, এসব কারণে দেশের দারিদ্র্যপীড়িত এলাকা শনাক্ত করে সেসব এলাকায় বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দেশের দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় যদি কর্মসৃজন করা যায়, তাহলে মানুষের আয় বাড়বে। এতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও বাড়বে। ভর্তুকির বিপরীতে মূল্য সমন্বয় করলেও চাপ পড়বে না। এতে মূল্যস্ফীতির চাপ কমবে।

অপরদিকে দারিদ্র্যপীড়িত সীমিত এলাকার সাধারণ মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে নিত্যপণ্য সরবরাহ করা হলে সেক্ষেত্রেও মূল্যস্ফীতির চাপ কম থাকবে। একই কারণে এসব এলাকায় সরকারের ওএমএস কার্যক্রম পরিচালনার কথাও ভাবা হচ্ছে। এতে একদিকে ভর্তুকির পরিমাণ কমবে, ফলে মূল্য সমন্বয় না করলেও হয়তো চলবে। করলেও চাপ কম থাকবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দেশের যে ৬০টি উপজেলায় দারিদ্র্যের হার ৩০ শতাংশের ওপরে, সেসব অঞ্চলে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণের কথা ভাবছে সরকারের নীতিনির্ধারকরা। অতিদারিদ্র্যপ্রবণ এসব অঞ্চলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসৃজন করবে এমন একটি লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা প্যাকেজ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া মূল্যস্ফীতির হার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বা তার বেশি হলে সারা দেশে সীমিত সময়ের জন্য ওএমএস কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের।

সূত্র আরও জানায়, সরকার মনে করে ভর্তুকির চাপ কমাতে হলে অবশ্যই গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো উচিৎ। কিন্তু তা করা হলে অর্থনীতিতে এর প্রভাব কেমন পড়বে এবং সেটা কীভাবে পূরণ করা সম্ভব হবে সেগুলো নিয়েও পর্যালোচনা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য বা সেবার দাম বাড়লে দেশেও দাম বাড়ানো হয়। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের দাম ক্ষেত্রবিশেষে দ্বিগুণ হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চলতি বাজেটে এসব ক্ষেত্রে যে পরিমাণ ভর্তুকি রাখা হয়েছে, তা কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে। এতে বাজেট ব্যবস্থাপনা জটিল হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এছাড়া আর্থিক খাত একটি বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়তে পারে।

জানা গেছে, চলমান ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে বেড়ে যাওয়া জ্বালানি তেল, সার, গ্যাসের বর্ধিত মূল্য সমন্বয় করতে হচ্ছে সরকারকে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী বছরের জন্য ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে বড় ধরনের বরাদ্দ বাড়াতে হচ্ছে। ফলে উল্লেখিত তিনটি খাতে নতুন বাজেটের ৪৯ শতাংশই ব্যয় হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। টাকার অংকে এটি ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা। আগামী ৯ জুন জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অর্থ বিভাগ এরই মধ্যে বাজেটে রূপরেখা প্রণয়ন করেছে। যা সম্প্রতি বাজেট ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ কমিটির সভায় চূড়ান্ত হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ৫৩ শতাংশ সেচ কাজে ডিজেল ব্যবহার করা হয়। যার দাম এরই মধ্যে বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া ৪৭ শতাংশ সেচ কাজে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়। যার দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যুতের দাম বাড়লে কৃষকরা ব্যাপক চাপে পড়বেন। যা জনজীবনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এতে বাড়বে মূল্যস্ফীতি। তাই শুধু কৃষকদের জন্য একটি পৃথক লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা প্যাকেজ গ্রহণ করার কথা ভাবছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি দিলেও এর মূল্য সমন্বয় না করায় সরকারের ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে ব্যয় বেড়েছে। নতুন বাজেটে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণে বরাদ্দ থাকছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ৪ শতাংশের সমান। চলতি বছরের তুলনায় এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে ২৭ হাজার ৯১০ কোটি টাকা। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছর ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ বাবদ বরাদ্দ দেওয়া আছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা।

জানা গেছে, অর্থনীতির নানা দিক থেকে চাপের মধ্যে আছে সরকার। ফলে ব্যয় সংকোচন নীতি কৌশল নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কিছু বরাদ্দ খাত আছে যেখানে ব্যয় কাটছাঁট করা সম্ভব নয়। এর একটি হচ্ছে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন-ভাতা। আগামী বছরে এখাতে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৭৬ হাজার ৪১২ কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা বেশি। চলতি বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ আছে ৬৯ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার জনবান্ধব সরকার। সাধারণ মানুষের সুবিধার বিষয়টি বিবেচনা করেই বাজেট প্রণয়নের কাজ চলছে। অবশ্যই মূল্যস্ফীতি নাগালের মধ্যেই থাকবে। আমরা সেভাবেই কাজ করছি।

/এমএস/ইউএস/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
জনসনের পতনে উচ্ছ্বসিত রাশিয়া
জনসনের পতনে উচ্ছ্বসিত রাশিয়া
ট্রাক-পিকআপে বাড়ির পথে
ট্রাক-পিকআপে বাড়ির পথে
পশুর হাটে দাম বেশি, বেচাকেনা কম
পশুর হাটে দাম বেশি, বেচাকেনা কম
সীতাকুণ্ডে আগুন: পরিচয় মিলেছে আরও ৮ লাশের
সীতাকুণ্ডে আগুন: পরিচয় মিলেছে আরও ৮ লাশের
এ বিভাগের সর্বশেষ
সয়াবিনের দামেই রাইস ব্র্যান তেল বিক্রি করছে টিসিবি
সয়াবিনের দামেই রাইস ব্র্যান তেল বিক্রি করছে টিসিবি
দাম বেড়েছে গুঁড়ো দুধের, বেশিরভাগ অপরিবর্তিত
দাম বেড়েছে গুঁড়ো দুধের, বেশিরভাগ অপরিবর্তিত
বেড়েছে কয়েকটি পণ্যের দাম
বেড়েছে কয়েকটি পণ্যের দাম
নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছেই
নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছেই
সব পণ্যের দাম বাড়তি
সব পণ্যের দাম বাড়তি