শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক চিহ্নিত ও সুপারিশকৃত, উদ্যোক্তার নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে রুগ্ন, নন-টেক্সটাইল খাতের (গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল খাত ব্যতীত) শিল্পের মধ্যে ৫০ লাখ টাকার বেশি মূল ঋণ বিশিষ্ট ঋণ হিসাব সমন্বয় বা ঋণ হিসাব বন্ধে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বুধবার (২৬ অক্টোবর) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এখন থেকে ৫০ লাখ টাকার বেশি মূল ঋণ বিশিষ্ট অনিষ্পন্ন ঋণ হিসাবসমূহ অবসায়নের লক্ষ্যে নিম্নোক্ত এক্সিট পলিসি অনুসরণীয় হবে:
(ক) ব্যাংক কর্তৃক এক্সিট সুবিধা প্রদানের তারিখ হতে সর্বোচ্চ ৩ বছর সময়ের মধ্যে কিস্তি ভিত্তিতে ঋণ হিসাব সমন্বিত হবে। তবে, স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় করে কোনও ঋণ সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে ওই ৩ বছরের মধ্যে এককালীন ঋণ পরিশোধের সুযোগ প্রদান করতে পারবে। উভয় ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ সমন্বিত না হলে এ সুবিধা বাতিল বলে গণ্য হবে।
(খ) আলোচ্য এক্সিট সুবিধার আওতায় কিস্তিভিত্তিক/এককালীন যে কোনও ধরনের পরিশোধসূচি প্রদান করা হোক না কেন, সম্পূর্ণ ঋণ সমন্বয় না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ঋণ হিসাবকে শ্রেণিকৃত হিসেবে প্রদর্শন করতে হবে।
(গ) বিদ্যমান মূল ঋণের বিপরীতে ন্যূনতম ২.৫% এর সমপরিমাণ অর্থ ডাউন পেমেন্ট বাবদ নগদে আদায়ের পর এ সার্কুলারের আওতায় এক্সিট সুবিধা প্রদান করা যাবে। উল্লেখ্য, ডাউন পেমেন্ট বাবদ আদায়কৃত অর্থ সুদ মওকুফোত্তর দায়ের সাথে সমন্বয় করতে হবে।
(ঘ) রুগ্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের অনুকূলে সুদ মওকুফ সুবিধা প্রদানের বিষয়ে অর্থায়নকারী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ স্বীয় বিবেচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে।
(ঙ) সুদ মওকুফ (যদি থাকে) পরবর্তী ঋণ স্থিতির উপর ব্যাংক সর্বোচ্চ কস্ট অব ফান্ড হারে সুদারোপ করতে পারবে।
(চ) এ নীতিমালা জারির তারিখ হতে ৯০ দিনের মধ্যে ডাউন পেমেন্ট বাবদ ন্যূনতম ২.৫% অর্থ নগদে প্রদান করে গ্রাহক সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বরাবর আবেদন করবে। নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হলে এতদসংক্রান্ত আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
(ছ) আলোচ্য নীতিমালার আওতায় ঋণগ্রহীতার আবেদন প্রাপ্তির তারিখ হতে ৪৫ দিনের মধ্যে ব্যাংক কর্তৃক গ্রাহকের আবেদনে বর্ণিত/যাচিত বিষয় নিষ্পত্তি করতে হবে।
(জ) ব্যাংক, গ্রাহক ও ক্রেতা আগ্রহী হলে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে আলোচ্য ঋণের বিপরীতে বন্ধকী প্রদানকৃত সম্পত্তি বিক্রির মাধ্যমে ঋণ সমন্বয় করা যাবে।
(ঝ) ব্যাংক কর্তৃক এ সুবিধা প্রদানের তারিখ হতে ৯০ দিনের মধ্যে ব্যাংক ও গ্রাহক সোলেনামার মাধ্যমে চলমান মামলার কার্যক্রম স্থগিতের জন্য যথাযথ আইনানুগ পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে, প্রদত্ত সুবিধার কোনও শর্ত ভঙ্গ হলে গ্রাহকের অনুকূলে প্রদত্ত সকল সুবিধা বাতিল বলে গণ্য হবে এবং গ্রাহকের বিরুদ্ধে স্থগিত মামলা পুনরুজ্জীবিত করতে হবে।









