বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর পাওনা পরিশোধে ৭ ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মঙ্গলবার (৬ জুন) এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র আবুল বশর।
তিনি বলেন, জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এয়ারলাইন্সগুলোর ৪০ কোটি ২১ লাখ ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। তবে এয়ারলাইন্সগুলোর মোট পাওনা ১৭ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। আইএটিএ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে বলা হয়েছে— ২১ কোটি ৪১ লাখ ডলার। তিনি বলেন, দেশের ৭ ব্যাংক এসব অর্থ ডিউ (বকেয়া) রেখেছিল। এসব ব্যাংকের অর্থ পরিশোধের সামর্থ্য রয়েছে। তাই তাদের দ্রুত অর্থ পরিশোধ করতে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
যে সাত ব্যাংককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের মধ্যেও সেগুলোর ডলার পরিশোধের সক্ষমতা রয়েছে বলে জানান আবুল বশর। যদিও তিনি ব্যাংকগুলোর নাম প্রকাশ করেননি।
তিনি বলেন, গ্রাহক হিসেবে এয়ারলাইন্সগুলোর পাওনা অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক পরিশোধ করে থাকে। আমরা দেখেছি, এই সাত ব্যাংকের ডলার পরিশোধের সক্ষমতা রয়েছে। দেখা যাবে কয়েকটি ব্যাংক আগামীকালই তা পরিশোধ করে দেবে। তিনি বলেন, যেহেতু এটি বাংলাদেশের মর্যাদার সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমরা বলেছি— খুব দ্রুত তাদের অর্থ ছেড়ে দিতে।
বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো বাংলাদেশ থেকে জ্বালানি কিনতে চাইলে স্থানীয় মুদ্রায় বিল পরিশোধ করতে পারবে, এমন নির্দেশনা ব্যাংকগুলোকে আগেই দেওয়া রয়েছে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র।
গত রবিবার নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এয়ারলাইন্সের আন্তর্জাতিক সংগঠন দ্য ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ) জানায়, বিমান সংস্থাগুলোর পাওনার অধিকাংশই আটকে আছে বিশ্বের মাত্র পাঁচটি দেশে। নাইজেরিয়া, বাংলাদেশ, আলজেরিয়া, পাকিস্তান ও লেবানন। সবচেয়ে বেশি পাওনা রয়েছে নাইজেরিয়ার কাছে, দেশটির কাছে বিমান সংস্থাগুলোর পাওনা ৮১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি।
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের কাছে বিশ্বের বিভিন্ন বিমান সংস্থার পাওনা রয়েছে ২১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাকি তিনটি দেশ হলো আলজেরিয়া, পাকিস্তান ও লেবানন। এই পাঁচটি দেশের কাছে আটকে আছে মোট পাওনার ৬৮ শতাংশ। আইএটিএ জানায়, ২০২২-এর এপ্রিলের তুলনায় এ বছরের এপ্রিলে ৪৭ শতাংশ বেড়েছে।
আইএটিএ বলছে, বিশ্বের সরকারগুলোর কাছে বিপুল পরিমাণ পাওনা থাকায় নিরবচ্ছিন্ন উড়োজাহাজ কার্যক্রমের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হচ্ছে। বকেয়া না পেলে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক উইলি ওয়ালশ। একই সঙ্গে সেবা নেওয়া দেশকে আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং চুক্তির বাধ্যবাধকতাগুলো মেনে চলার আহ্বান জানান আইএটিএ মহাপরিচালক।









