দেশের ব্যাংকগুলোর চলমান ঋণ (কন্টিনিউয়াস লোন) নবায়নে বড় ধরনের শিথিলতা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ঋণটি খেলাপি (এনপিএল) হিসেবে শ্রেণিকৃত হওয়ার আগ পর্যন্ত তা নবায়ন করা যাবে।
সোমবার (২ মার্চ) জারি করা সার্কুলারে সব তফসিলি ব্যাংককে নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর করতে বলা হয়েছে। এ সুবিধা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বহাল থাকবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংকারদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকারদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক চাপে এ উদ্যোগ ব্যাংক ও গ্রাহক— উভয় পক্ষের জন্য স্বস্তির বার্তা। বিশেষ করে আমদানি-রফতানি ও বাণিজ্য খাতের স্বল্পমেয়াদি ঋণ নবায়নে যে দেরি ও জটিলতা তৈরি হচ্ছিল, তা কমবে।
কী পরিবর্তন এলো
কন্টিনিউয়াস ঋণ সাধারণত এক বছর মেয়াদি। আগে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ নবায়ন না করলে মূলধন ও সুদ সমন্বয় করে পুরো অর্থ পরিশোধ ছাড়া নবায়নের সুযোগ ছিল না।
নতুন নিয়মে, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গ্রাহক অতিরিক্ত তিন মাস সময় পাবেন। এ সময়ের মধ্যে বকেয়া সুদ পরিশোধ করা হলে ঋণটি নবায়ন করা যাবে এবং তা খেলাপি হিসেবে গণ্য হবে না। তবে তিন মাসের মধ্যেও সুদ পরিশোধ না করলে ঋণটি খেলাপি হিসেবে শ্রেণিকৃত হবে। সে ক্ষেত্রে মূলধন ও সুদ সমন্বয় না করা পর্যন্ত নবায়ন সম্ভব হবে না।
প্রক্রিয়াগত শর্ত
সার্কুলারে বলা হয়েছে, চলমান ঋণ বিদ্যমান মেয়াদের মধ্যেই নবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত দুই মাস আগে আবেদন গ্রহণ ও কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজ শুরু করতে হবে।
নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণে সময়মতো নবায়ন সম্ভব না হলে, খেলাপি হওয়ার আগ পর্যন্ত নবায়নের সুযোগ থাকবে—তবে দেরির কারণ লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
এছাড়া ঋণের সীমাতিরিক্ত অংশ থাকলে তা সমন্বয় করেই নবায়ন করতে হবে। অতিরিক্ত অংশ নতুন ঋণ হিসেবে দেখানো বা অন্য হিসাবে স্থানান্তর করা যাবে না।
সতর্কতার বার্তা
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ঋণ পরিশোধ ছাড়াই নিয়মিত রাখার সংস্কৃতি তৈরি হলে তা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই এ সুবিধা বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাময়িক স্বস্তি দিলেও এ নীতির সুফল নির্ভর করবে যথাযথ তদারকি ও শৃঙ্খলার ওপর।








