বৈশ্বিক বিনিয়োগ টানতে প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট 
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৩৫আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৩৫

বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তুলনীয় ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে নীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত, সরবরাহ ব্যয় কমানো, কাস্টমস ব্যবস্থার অটোমেশন এবং ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সহজ করার ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) হংকংয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের আয়োজনে ‘বাংলাদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্যকালে এসব কথা বলেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির কারণে একজন বিনিয়োগকারী এখন বিশ্বের যেকোনও দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশ সহজেই যাচাই করতে পারেন। ফলে বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে অন্যান্য দেশের সঙ্গে ব্যবসায়িক পরিবেশ, নীতি ও সক্ষমতার তুলনীয় মান তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, ২০২৯ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সুবিধা ধরে রাখতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করা হচ্ছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের প্রায় ৯৭ শতাংশ পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে। আরও প্রায় ১৩টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনাও শিগগির শুরু হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এলডিসি উত্তরণের আগেই এ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা করছে বাংলাদেশ। তা সম্ভব না হলেও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে বর্তমান বাজারসুবিধা অব্যাহত রাখার উদ্যোগ থাকবে।

বিনিয়োগ পরিবেশের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বাংলাদেশের উচ্চ সরবরাহ ব্যয়ের কথা তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশে সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক গড় প্রায় ১০ শতাংশ। পরিবহন, উৎপাদন এবং আমদানি-রফতানি ব্যয় কমিয়ে এ ব্যবধান কমাতে হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক অপারেটরদের সম্পৃক্ততা এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। এসব অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন ও বন্দর ব্যবস্থাপনার ব্যয় কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঋণপত্র খোলার পর্যায়ে যেতে কয়েকশ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে নতুন একটি প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ১৪ দিনের মধ্যে ঋণপত্র খোলার পর্যায়ে যেতে পারবে।

ট্রেড লাইসেন্স ও শেয়ার হস্তান্তরসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রক্রিয়াও ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এর ফলে উদ্যোক্তাদের সরকারি দফতরে সরাসরি উপস্থিতির প্রয়োজন অনেকটাই কমবে।

কাস্টমস ব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অটোমেশনের মাধ্যমে আমদানিকারকদের পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমানো হবে। প্রতিষ্ঠিত ও নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় শারীরিক পরিদর্শন কমিয়ে ঝুঁকিভিত্তিক কাস্টমস ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ রয়েছে। আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে কাস্টমসের অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ ও প্রক্রিয়া অনেকটাই শিথিল হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরিতে নীতির ধারাবাহিকতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত। তাই কোনো নীতি প্রণয়নের পর অল্প সময়ের মধ্যে তা পরিবর্তন করা হলে বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। নীতিতে পরিবর্তন প্রয়োজন হলে তা নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কার্যকর করা উচিত, যাতে বিনিয়োগকারীরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পান।

সেমিনারে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বাংলাদেশ ও ভারত করে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে এ খাতে আরও বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, ব্যবসায়িক পরিবেশের দুর্বলতা কাটিয়ে বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ জন্য অবকাঠামো, নীতি, কাস্টমস ও ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিক সংস্কার করা হচ্ছে।

/জেইউ/আইএএম/
সম্পর্কিত
রফতানি কমছে, আমদানি বাড়ছেবড় বাণিজ্য ঘাটতির চাপ কীভাবে সামলাবে বাংলাদেশ 
ইরান যুদ্ধে মার্কিনিদের অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার
জিডিপির ২-৩ শতাংশে সৃজনশীল অর্থনীতির অবদান চান অর্থমন্ত্রী
সর্বশেষ খবর
রিক্রুটিং এজেন্সির অনিয়ম, কার্যালয় সিলগালা-জরিমানা
রিক্রুটিং এজেন্সির অনিয়ম, কার্যালয় সিলগালা-জরিমানা
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন: আলোচনা-সমালোচনার মাঝে কেমন হলো সংশোধনী
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন: আলোচনা-সমালোচনার মাঝে কেমন হলো সংশোধনী
চীনে কার্গো জাহাজে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৫
চীনে কার্গো জাহাজে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৫
মায়ের দাবি দাফন, বাবার চাওয়া দাহ: হিমঘরে গেলো ছেলের মরদেহ
মায়ের দাবি দাফন, বাবার চাওয়া দাহ: হিমঘরে গেলো ছেলের মরদেহ
সর্বাধিক পঠিত
ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক প্রধানের পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল
রয়টার্স এক্সক্লুসিভডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক প্রধানের পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল
কোথায় গেলো হাওরের মাছগুলো?
কোথায় গেলো হাওরের মাছগুলো?
এখন সুযোগ পেলে কাকে নায়িকা হিসেবে চান আলমগীর, জানালেন নিজেই
এখন সুযোগ পেলে কাকে নায়িকা হিসেবে চান আলমগীর, জানালেন নিজেই
মান্না-পূর্ণিমা জুটির প্রথম ও শেষ সিনেমা কোনটি
মান্না-পূর্ণিমা জুটির প্রথম ও শেষ সিনেমা কোনটি
কানাডায় ববিতার ৩৬ ঘণ্টার সড়ক ভ্রমণ, সঙ্গে ছিলেন রাজ্জাকের ছেলে
কানাডায় ববিতার ৩৬ ঘণ্টার সড়ক ভ্রমণ, সঙ্গে ছিলেন রাজ্জাকের ছেলে