লাভে বেসরকারি পাটকল, লসে সরকারিগুলো

শফিকুল ইসলাম
২৮ মে ২০১৬, ১৬:১৩আপডেট : ২৮ মে ২০১৬, ১৬:৩৩

পাটকল

দেশের অর্থনীতি এগিয়ে গেলেও পিছিয়ে পড়েছে পাট খাত। এক সময় রফতানির প্রধান খাত থাকলে এখন খুঁড়িয়ে চলছে এই খাত। তবে এরইমধ্যে বেসরকারি পাটকলগুলো আশার আলো সঞ্চার করলেও তা আশাব্যঞ্জক নয়। এগুলোর মধ্যে বেসরকারিগুলো কিছুটা মুনাফার মুখ দেখলেও, লোকসানে সরকারিগুলো।

জানা যায়, দেশের পাটকলগুলো তদারক, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে গঠিত হয় বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি)। বিজেএমসি’র আওতায় ৮২টি পাটকল রাখা হলেও ১৯৭৭-৯৬ সালে ৪৪টি পাটকল বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে সরকারের হাতে ৩৮টি পাটকলের মধ্যে ১৯৯৩ সালে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে ১১টি এবং ২০০২ সালে আদমজী জুটমিল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে সরকারের হাতে বর্তমানে মাত্র ২৬টি পাটকল রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা, দলাদলি, সময়মতো কাঁচা পাট কিনতে ব্যর্থ হওয়া, অধিক জনবল, সিবিএ-র দৌরাত্ম, পুরাতন মেশিন ও দুর্নীতির কারণেই সরকারি পাটকলগুলো লোকসানে। এমনকি টাকার অভাবে অনেক পাটকল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। গত ৫ বছরে এ খাতে প্রায় হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে সরকার। সম্প্রতি বকেয়া পরিশোধে পাট মন্ত্রণালয়কে এক হাজার কোটি টাকা দিতে অর্থমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। যার ২শ’ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।
যশোর-খুলনা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত বেসরকারি পাটকল আলিসান মিলগেট। এ কারখানার বাইরে দায়িত্ব পালন করছেন নিরাপত্তারক্ষীরা, আর প্রবেশ পথেই সারি সারি ফুলগাছ। কারখানার ভেতরেও নান্দনিক পরিবেশ। কোথাও মিছিল মিটিং হচ্ছে না। শ্রমিকরা দায়িত্ব পালন শেষে সারিবদ্ধ হয়ে বের হচ্ছেন। এমন পরিবেশে কাজ করতে সবারই ভালো লাগে বলে জানালেন শ্রমিক আব্দুর রহমান। সম্প্রতি ব্যক্তিগত কাজে বিজিএমসি’র অফিসে আসলে এই শ্রমিকের সঙ্গে কথা হয় বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, দুই ছেলে-মেয়ে ও মাকে নিয়ে তার সংসার ভালোই চলছে। সপ্তাহ শেষে কারখানা থেকে যা পান, তা দিয়েই চলে সংসার। তবে কারখানায় পেনশন ও গ্র্যাচুইটির সুবিধা না থাকায় নিয়মিত মজুরি পাওয়ায় আক্ষেপ নেই তার। তিনি আরও বলেন, এখানে কোনও সিবিএ বা দলাদলি নেই। কাঁচা পাটের অভাবে পাটকল বন্ধও রাখতে হয় না। সব মিলিয়ে ভালোই চলছে শ্রমিকদের।

পাটকল

অন্যদিকে রাজধানীর ডেমরায় অবস্থিত সরকারি পাটকল লতিফ বাওয়ানি জুটমিল। গত ৭ মে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মিলের প্রধান ফটকেই পাওনার দাবিতে সমাবেশ করছেন শ্রমিকরা। ফলে কারখানার উৎপাদন বন্ধ।

হাসিবুল হক নামের এক শ্রমিক জানান, দীর্ঘদিন ধরে মজুরি না পাওয়ায় স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কষ্টে আছেন তারা। এমনকি অবসরে গিয়েও গ্র্যাচুইটি না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে আন্দোলন করছেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক হিসাব সহকারী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, কোষাগারে টাকা নেই। বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। পেলেই শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হবে। তিনি আরও জানান, সরকারি পাটকলে সিবিএ না থাকলে চলবে কিভাবে? রাজনৈতিক দলের কর্মীরাই এখানের শ্রমিক। তাদের আন্দোলনে বাধা দেওয়া যাবে না, এটি তাদের অধিকার।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো’র (ইপিবি) হিসেব মতে- স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে রফতানি আয়ের ৯০ শতাংশই ছিল পাটের অবদান। যা বর্তমানে ২ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রফতানি আয়ে পাটের অবদান মাত্র ৮৬ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। আগামী অর্থবছরে এর পরিমাণ বাড়ার আশা করছে ইপিবি।

পাট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারত, সিরিয়া, ইরান, মিসর, তিউনিসিয়া, তুরস্ক, সিরিয়া, ইরাক, থাইল্যান্ড, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাট ও পাটপণ্য রফতানি হয়। আর অভ্যন্তরীণ চাহিদার ২৪ শতাংশ সরকারি এবং ৭৬ শতাংশ পূরণ করে বেসরকারি পাটকলগুলো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সরকারি পাটকলগুলোকে লাভজনক করতে পাট পণ্য রফতানিতে ২০ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। আর শেখ হাসিনার সরকার কোনও অনিয়ম নৈরাজ্য ও দুর্নীতি প্রশ্রয় দেয় না। ফলে পাটকলগুলোতে আর দুর্নীতি থাকবে না।

এ বিষয়ে বেসরকারি পাটকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ জুট মিল অ্যাসোসিয়েশনের সচিব এ বারিক খান বলেন, বেসরকারি খাতে পাটকলগুলো খুব ভালো করছে। চলতি অর্থবছরে রফতানি আয় কয়েকগুন বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন: 
বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান

জামালপুরে ইউপি নির্বাচনি সংঘর্ষে নিহত চার!

প্রশাসনের পাহারায় জনগণের ভোট হরণ করা হয়েছে: বিএনপি

/এসআই /এএইচ/আপ- এপিএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মরার ওপর খাঁড়ার ঘা: জাসদ (ইনু)
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মরার ওপর খাঁড়ার ঘা: জাসদ (ইনু)
তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে: জামায়াত
তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে: জামায়াত
সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশ ম্যাচে প্রথমবার থাকছে ভিএআর 
সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশ ম্যাচে প্রথমবার থাকছে ভিএআর 
বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি