স্বর্ণ চুরি-ঘুষ লেনদেনের দায়ে চাকরি গেলো এনবিআরের ৩ কর্মকর্তার

গোলাম মওলা
১১ জানুয়ারি ২০১৭, ২০:৪৩আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৭, ২০:৪৬

এনবিআর সরকারি কোষাগার থেকে স্বর্ণ চুরি ও  ঘুষ লেনদেনের দায়ে চাকরি হারালেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তিন কর্মকর্তা। তারা হলেন, রাজস্ব কর্মকর্তা গোলামুর রহমান, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা জি এম শাহজাহান ও মজিবুর রহমান সরকার। বুধবার এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান ওই তিন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতির আদেশ দেন।

সূত্র জানিয়েছে, ওই তিন কর্মকর্তার অব্যাহতিপত্র বুধবারই তাদের ঠিকানায় পাঠিয়ে দিয়েছে এনবিআর।

এ প্রসঙ্গে এনবিআরের চেয়ারম্যান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের জিরো টলারেন্সনীতির আওতায় যে সব কর্মকর্তা অনৈতিক কোনও ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়বেন, তাকে শাস্তি পেতেই হবে।’ তিনি বলেন, ‘সুশাসন ও উন্নততর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এনবিআরকে ঠেলে সাজানো হয়েছে। এখানে যারাই দোষী প্রমাণিত হবেন, তাদেরই শাস্তি পেতে হবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘যে সব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠবে, যথারীতি তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। এক্ষেত্রে যদি কেউ দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। কোনও ক্ষমা হবে না।’

জানা গেছে, গোলামুর রহমান ও জি এম শাহজাহানকে ২০০৮ সালে এবং মজিবুর রহমান সরকারকে ২০১০ সালে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

নজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, ২০১০ সালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবস্থিত সরকারি মূল্যবান গুদামের কর্মকর্তা ছিলেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মজিবুর রহমান সরকার। ওই সময় তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে স্বর্ণবার, স্বর্ণের চেইন ও স্বর্ণের অলঙ্কার সরানোর অভিযোগ ওঠে। পরবর্তী সময়ে তার বিষয়ে তদন্ত হয়। শুনানি হয়। এনবিআরের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, মজিবুর রহমান সরকারের দেওয়া বক্তব্য সন্তোষজনক বিবেচিত না হওয়ায় তাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায় দোষী সাব্যস্ত হন। এ কারণে গুরুদণ্ড হিসেবে তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হলো।

আরেক আদেশে বলা হয়েছে, রাজস্ব কর্মকর্তা গোলামুর রহমান এক্সাইজ ও ভ্যাট ফেনী বিভাগীয় দফতরে কর্মরত থাকার সময় ২০০৮ সালে অবৈধভাবে ৬০ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণকালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তারা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। এরপর তার দেহ তল্লাশি করে আরও ১৬ হাজার ২শ টাকা পাওয়া যায়। যার উৎস সম্পর্কে তিনি কোনও সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। পরে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও শুনানিতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এ কারণে গোলামুর রহমানকে চাকরি থেকে গুরুদণ্ড হিসেবে বরখাস্ত করা হলো।

আরেক আদেশে বলা হয়েছে, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা জি এম শাহজাহান এক্সাইজ ও ভ্যাট ফেনী বিভাগীয় দফতরে কর্মরত থাকাকালীন ২০০৮ সালে অবৈধভাবে ৬০ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণকালে দুদকের কর্মকর্তারা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। এরপর তার দেহ তল্লাশি করে আরও ৩১ হাজার টাকা পাওয়া যায়। যার উৎস সম্পর্কে তিনি কোনও সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। পরে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও শুনানিতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এ কারণে জি এম শাহজাহানকে চাকরি থেকে গুরুদণ্ড হিসেবে বরখাস্ত করা হলো।

আরও পড়ুন: পঙ্গু হাসপাতালের ২ কর্মচারীসহ ২৪ দালালকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

/এমএনএইচ/

 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ইরানি ইসলামি শাসনবিরোধী শিল্পী মারজান সাত্রাপির প্রয়াণ
ইরানি ইসলামি শাসনবিরোধী শিল্পী মারজান সাত্রাপির প্রয়াণ
হজে গিয়ে পাসপোর্ট হারালে যা করবেন
হজে গিয়ে পাসপোর্ট হারালে যা করবেন
রাস্তায় তোশক আর মুখে মুখ, দিল্লির আগুনে যেভাবে ‘হিরো’ হলেন স্থানীয়রা
রাস্তায় তোশক আর মুখে মুখ, দিল্লির আগুনে যেভাবে ‘হিরো’ হলেন স্থানীয়রা
সান মারিনোর বিপক্ষে জয় ছিনিয়ে আনতে চায় বাংলাদেশ 
সান মারিনোর বিপক্ষে জয় ছিনিয়ে আনতে চায় বাংলাদেশ 
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী