বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেছেন, বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে ৮ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। মঙ্গলবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এর নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
গভর্নর বলেন, বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের কোনও বিকল্প নেই। ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করা এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর সাইবার নিরাপত্তায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৈঠকে ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, বৈদেশিক বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করার পাশাপাশি দেশীয় বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন এখন সময়ে দাবি। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত করতে হলে বেসরকারি বিনিয়োগ ও জিডিপি এর অনুপাত ৩৫% উন্নীত করতে হবে। এসময় আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে এবং বিষয়টি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, ব্যাংক খাত হতে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ বর্তমানে কম, যা বেসরকারি খাতের জন্য আশাব্যঞ্জক বিষয়। খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক উদ্বিগ্ন, তবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে স্বল্প সুদে উদ্যোক্তাদের ঋণ সুবিধা প্রদান করা সম্ভব হবে।
বৈঠকে ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম এফসিএ হালকা প্রকৌশল খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে উদ্যোক্তাদের ঋণ সুবিধা বাড়ানোর জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা সমূহে নির্দেশনা প্রদানের আহ্বান জানান।
আলোচনায় আরও অংশ নেন ডিসিসিআই পরিচালক খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির, খ. আতিক-ই-রাব্বানী এফসিএ, কে এম এন মঞ্জুরুল হক, রিয়াদ হোসেন এবং মহাসচিব এ এইচ এম রেজাউল কবির।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিসিসিআই সহ-সভাপতি হোসেন এ সিকদার, পরিচালক ইমরান আহমেদ, খ. রাশেদুল আহসান, মো. আলাউদ্দিন মালিক সহ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ডিসিসিআই এর শীর্ষ কর্মকর্তারা।
/জিএম/এএআর/








