অভিযানেও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ গ্যাসের ব্যবহার

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ২১:৩৯, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৪৬, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯

গ্যাসদেশে অবাধে চলছে উচ্চমূল্যের লিকুফায়েড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি)-এর  অবৈধ ব্যবহার। এলএনজি আমদানির আগে সরকার সব ধরনের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দিলেও এখনপর্যন্ত অবৈধ গ্যাসের ব্যবহার বন্ধ হয়নি। প্রতিমাসেই তিতাস অবৈধ পাইপ লাইন উচ্ছেদ করছে। খোদ সংসদীয় কমিটিতেই বিষয়টি নিয়ে উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে। বলা হচ্ছে, ঢাকার পাশের অবৈধ ব্যবহার বন্ধ হচ্ছে না স্থানীয় সংসদ সদস্যদের দাপটের কারণে। অন্যদিকে তিতাস বলছে, অবৈধ সংযোগ কাটতে গেলে বাধা আসছে ওপর মহল থেকে। তাদের নামও প্রকাশ করা দুঃসাধ্য বিষয়।এভাবে চলতে থাকলে অবৈধ গ্যাসের ব্যবহার আদৌ বন্ধ হবে না।

তিতাস সূত্র জানায়, ২০১৫ থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত—পাঁচ বছরে মোট ৮৬৪টি অভিযান চালিয়েছে তিতাস। এরমধ্যে ২০১৫ সালে ৮১ অভিযান চালানো হয়েছে। এই সব অভিযানের সময় ৮১ কিলোমিটার লাইন  ও ২৪ হাজার ৩০০টি চুলা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

২০১৬ সালে অভিযান ১৮৯টি চালানো হয়েছে। ওই সময় ৫৭০ কিলোমিটার লাইন এবং ৪ লাখ ২৭ হাজার ১৫৬টি চুলা বিচ্ছিন্ন করা হয়। ২০১৭ সালের ২২৯টি অভিযানে ৬১৯ কিলোমিটার লাইন এবং ৩ লাখ ২৩ হাজার ১৪৯টি চুলার লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়।

২০১৮ সালের ২৬৯টি অভিযানে ৭৩৭ কিলোমিটার লাইন ও ২ লাখ ৭৩ হাজার ৭৭১টি চুলা  এবং ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের ৯ তারিখ পযন্ত ৯৬টি অভিযানে ২৪২ কিলোমিটার লাইন এবং ৮৪ হাজার ৮৫৯টি চুলার গ্যাসের লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়।

এদিকে, আগস্টের দিকে তাকালে দেখা যায় যে, আবাসিকে মোট ৪ হাজার ৭৬৭টি, বাণিজ্যিকে ৯টি, শিল্পে ৬টি, ক্যাপটিভে ৪টি সংযোগ বিচিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এলাকাভিত্তিক ঢাকার দক্ষিণে আবাসিকের ৫টি, বাণিজ্যিকে ৩, শিল্পে ১ এবং ক্যাপটিভে ১টি লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

ঢাকার উত্তরে আবাসিকে ২০০, বাণিজ্যিকে ৩টি, নারায়ণগঞ্জের আবাসিকে ৪৯, বাণিজ্যিকে ১টি, গাজীপুর আবাসিকে ৪ হাজার ৬০৪টি, বাণিজ্যিকে ১, শিল্পে ৫ এবং ক্যাপটিভে ৩টি এবং ময়মনসিংহে আবাসিকে ৯ ও বাণিজ্যিকে ১টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

এরআগে এলএনজি গ্রিডে সরবরাহের আগেই সব অবৈধ লাইন উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছিল জ্বালানি বিভাগ। কিন্তু তিতাস সেই নির্দেশনা মেনে অবৈধ লাইন উচ্ছেদ করতে পারেনি। কর্মকর্তারা বলছেন, অবৈধ পাইপ লাইন না থাকলে এখন উচ্ছেদের প্রয়োজন হতো না। কেবল বাসা বাড়িতে নয়, শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতেও অবৈধ গ্যাস ব্যবহার চলছে।

তিতাসকে ২ ভাগ সিস্টেম লসের মাত্রা বেঁধে দিলেও তিতাসে সিস্টেম লস এখনও ৬ ভাগ।তিতাসের কর্মকর্তারা জানান, সিস্টেম লসের বেশিরভাগেই চুরি হচ্ছে। ঢাকার আশেপাশের এমন কিছু গ্রামে গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে সেখানে তিতাস এখনও যায়নি। ফলে শুধু শহরে নয় ঢাকার আশেপাশের গ্রামের মানুষও অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে।

তিতাসের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, ‘আমরা লাইন উচ্ছেদের পরপরই আবার সেখানে নতুন লাইন বসানো হচ্ছে। এই কাজে এক শ্রেণির ঠিকাদারের সঙ্গে তিতাসের কিছু কর্মীও জড়িত। এসব জায়গায় কার লাইন দিচ্ছে, কারা  বিল আদায় করছে সে বিষয়ে তদন্ত হওয়া উচিত। অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করার জন্য কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা না করা হলে এসব বন্ধ হবে না।’

এ বিষয়ে তিতাসের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পেট্রোবাংলার পরিচালক (প্রশাসন) মোস্তফা কামাল বলেন, ‘অবৈধ সংযোগ তো আমরা কেটে যাচ্ছি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা তো হবেই। যেমন কোনও কারখানায় যদি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়, তখন শ্রমিকরা বেকার হয়ে যায়। এসব বিষয় আমাদের বিবেচনা করতে হয়। চাইলে তো কেটে দেওয়া যায় না। শিল্প-কারখানার ক্ষেত্রে দেশের অর্থনৈতিক বিষয়ও চিন্তা করতে হয়।’ তিনি বলেন, ‘আবাসিকের ক্ষেত্রে যেখানে অবৈধ সংযোগের খবর পাচ্ছি, সেখানেই লাইন কেটে দিচ্ছি। লাইন কেটে দেওয়ার পর সেখানে নতুন সংযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। কারণে সেখানে আমরা ক্যাপিং করে দেই। ফলে নতুন সংযোগের জন্য নতুন পাইপ বসাতে হয়। পুরনো জায়গা খোলা সম্ভব নয়।’

এলএনজি আসার আগে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের বিষয়ে মোস্তফা কামাল বলেন, ‘টার্গেট করে অবৈধ সংযোগ শেষ করা সম্ভব নয়। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। দিনে দিনে এ সংখ্যা কমে আসছে। আগের মতো মানুষ সহজেই অবৈধ সংযোগ নেওয়ার সাহস করে না। আবার যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই সংযোগগুলো নিতেন, তারাও সাবধান হয়ে গেছে। মাত্রা কমছে।’ এক্ষেত্রে সবার সহযোগিতাও চান তিনি।

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ