বুলবুলের আঘাতে ১৪ জেলা অন্ধকারে

Send
আমানুর রহমান রনি
প্রকাশিত : ২১:৫৪, নভেম্বর ১০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৫৯, নভেম্বর ১০, ২০১৯

দি্যুৎঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে দেশের ১৪টি জেলায় বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব জেলার অন্তত ৪০ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আছে। এসব লাইন মেরামত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে সোমবার পর্যন্ত সময় লাগবে। রবিবার (১০ নভেম্বর) বিকালে দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)-এর একজন প্রকৌশলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শনিবার রাতে বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, যশোর, সাতক্ষীরা ও ভোলায় বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর রবিবার বিকাল ৩টা থেকে মাদারীপুর, শরীয়তপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের কিছু লাইন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আরইবির ২২টি সমিতির রবিবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সব মিলিয়ে সারা দেশে ৮৫ হাজার কিলোমিটার পল্লী বিদ্যুৎলাইন বন্ধ রয়েছে। পাঁচটি জেলার লাইন আমরা ঠিক করার পরও বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পারছি না কারণ, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-এর  একটি ১৩২ কেভির সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত  হয়েছে। তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা যাচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো হলো—ভোলা, বরিশাল, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী ও খুলনার কিছু অংশ। অন্যদিকে ভোলার একটি পাওয়ার প্ল্যান্ট বন্ধ। সেজন্য ভোলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না।’  

আরইবি-এর ওই প্রকৌশলী আরও বলেন, ‘আমাদের ৮৫ হাজার কিলোমিটার লাইন বন্ধ থাকায় ৩৯ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ সেবা পাচ্ছে না। তবে দ্রুত ঠিক করার কাজ চলছে। অন্তত ১৪টি জেলায় নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। সেগুলো হলো—ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, যশোর, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, চাঁদপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা, বরগুনা, বাগেরহাট, শরীয়তপুর ও পিরোজপুর।’

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে পল্লী বিদ্যুতের প্রায় ২০ হাজার মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। এছাড়া, পোল (খুঁটি) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এককোটি ৮০ লাখ টাকার। পল্লী বিদ্যুতের মোট ক্ষতি প্রায় ৫ কোটি টাকা বলেও জানান তিনি।

জানতে চাইলে পল্লী বিদ্যুতের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী অঞ্জন কান্তি দাস বলেন, ‘রাত ১১ টার মধ্যে ৫০ শতাংশ লাইন সচল করা যাবে। তবে প্রচুর গাছ পড়ে যাওয়ার কারণে আরো কিছু সময় লাগবে ঠিক করতে। গাছ না সরিয়ে লাইন ঠিক করা যবে না। গাছ কাটার জন্য একটি সময় লাগবে। আমাদের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে।’

বর্তমানে পাঁচটি জেলা সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সেগুলো হলো—ঝালকাঠি, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল ও ভোলার কিছু অংশ।

এদিকে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)-এর অধীন কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ঘূর্ণিঝড়ে লাইনে ক্ষতি হওয়ায়। দেশের বিভিন্ন জেলায় তাদেরও প্রায় এক লাখের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎ পাচ্ছে না।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের লাইনের তেমন কোনও ক্ষতি হয়নি। কিছু ত্রুটির কারণে হয়তো কোথাও কোথাও সংযোগ দেওয়া যাচ্ছে না। তবে, তা দ্রুত ঠিক করা হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ শনিবার রাত ৯টার দিকে সুন্দরবন উপকূল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। প্রবেশের সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৪০ কিলোমিটার। পরে সুন্দরবনে প্রবেশ করার পর ধীরে ধীরে এর গতি কমতে থাকে। বরিশাল, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের বেশ কয়েকটি জেলা এতে আক্রান্ত হয়। ঝড়ে বিভিন্ন জেলায় পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে।

/এসএস/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ