ডিপিডিসির ৮৭ পয়সা, ডেসকোর ৮১ পয়সা বিতরণ ব্যয় নির্ধারণের সুপারিশ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:০১, ডিসেম্বর ০২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৪১, ডিসেম্বর ০২, ২০১৯

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) জন্য ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের বিতরণ ব্যয় ৮৭ পয়সা এবং ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) জন্য ৮১ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গঠিত কারিগরি কমিটি। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের জন্য এই সুপারিশ করা হয়েছে। সোমবার (২ ডিসেম্বর) টিসিবি মিলনায়তনে বিদ্যুতের গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়ানোর শুনানিতে এই সুপারিশ করা হয়।

বর্তমানে ডিপিডিসির বিতরণ ব্যয় ইউনিটপ্রতি ৭৩ পয়সা এবং ডেসকোতে ৬৪ পয়সা।
ডিপিডিসি এবং ডেসকো—দুটি বিতরণ কোম্পানিই এখন বিদ্যুৎ বিক্রি করে লাভ করছে। এই পরিস্থিতিতে বিতরণ কোম্পানির দাম বৃদ্ধির যৌক্তিক কারণ নেই বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
শুনানিতে ডেসকোর ইউনিটপ্রতি বিতরণ ব্যয় ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং ডিপিডিসির বিতরণ ব্যয় ১ টাকা ২৪ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিইআরসি পাইকারি বিদ্যুতের দাম যতটা বাড়াবে তা ‘পাস থ্রু’ হিসেবে ধরে বিদ্যুতের খুচরা দাম বাড়াবে কমিশন। অর্থাৎ পাইকারি দাম বাড়ানোর সঙ্গে কমিশন বিতরণ ব্যয় যোগ করে খুচরা দাম নির্ধারণ করবে। কমিশনের কারিগরি কমিটি প্রতি ইউনিটে ৯৩ পয়সা দাম বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। তবে পিডিবি বলছে, তাদের আর্থিক ঘাটতি ৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকা পূরণের জন্যই কমিশনে এসেছে। এখানে সরকার প্রতি বছরের মতো এবার কতটা ভর্তুকি দেবে তার ওপর নির্ভর করছে বিদ্যুতের দাম কতটা বাড়ানো হবে। প্রসঙ্গত, সরকার গত অর্থবছরে ১০ হাজার কোটি টাকা উৎপাদনে ভর্তুকি দিয়েছিল।
বিতরণ কোম্পানিগুলো বলছে, সেবার মান বাড়াতে তাদের নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণ করতে হচ্ছে। এতে বিতরণ কোম্পানির ব্যয় বাড়ছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধি, জনবল, অফিস প্রশাসনিক ব্যয় বৃদ্ধির ফলে তাদের বিতরণ ব্যয় বৃদ্ধি করতে হবে।

শুনানিতে ডেসকোর পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহিদ সারোয়ার এবং ডিপিডিসির পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান প্রস্তাব দুটি উত্থাপন করেন।
ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, গ্রাহক সেবার মান বাড়াতে তারা কল সেন্টার চালু করেছেন। ভোক্তার বিল প্রদান আরও সহজ করার জন্য ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং মোবাইলের মাধ্যমে সেবা দেওয়া শুরু করেছেন তারা। মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিদ্যুৎ বন্ধ থাকলে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়ার পাশাপাশি গ্রাহককে এসএমএস-এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ বন্ধের খবর জানানো হয়।
ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘আমরা সাড়ে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিতরণ দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম। এখন আমাদের বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিমাণ ১ হাজার ৬৯ মেগাওয়াট। ঢাকার অভিজাত এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ করে ডেসকো।
তিনি বলেন, গ্রাহকের সমস্যা সমাধানে ডেসকোর এলাকাকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এখন আমাদের প্রধান লক্ষ গ্রাহককে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া।
ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা শামসুল আলম বলেন, ডিপিডিপি ও ডেসকো—দুই কোম্পানিই লাভজনক অবস্থানে আছে। এরা নানা রকম উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এতে তাদের ব্যয় বাড়ছে। বাড়ছে রাজস্ব ব্যয়ও। কিন্তু এই ব্যয়ের বোঝা কমাতে তারা দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব নিয়ে শুনানিতে এসেছেন। কিন্তু এসব ব্যয়ের অর্থ বিদ্যুতের দাম থেকে উঠিয়ে নেওয়ার এই পদ্ধতি অগ্রহণযোগ্য।
তিনি বলেন, বিদ্যুতের সেবার মান বৃদ্ধির বিষয়ে দুই কোম্পানির ঘাটতি আছে। নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগ আছে। সেসব আগে সমাধান করা দরকার। তিনি বলেন, সিস্টেম লস কমিয়ে আনা গেলে তো কোম্পানিগুলোর অর্থ অপচয় আরও কমে।
সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নুর বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে সাধারণ জনজীবনের ওপর কী প্রভাব পড়ে, সে বিষয়টিও কমিশনের বিবেচনায় আনা দরকার। শুধু বিতরণ কোম্পানিগুলোর নয়, সাধারণ মানুষের কথা শোনাও কমিশনের উচিত। প্রতিবারের মতো এবারও যেন একতরফা দাম না বাড়ানো হয়, সে বিষয়টি নিশ্চয় কমিশন বিবেচনা করবে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বিদ্যুতের দামের সঙ্গে সঙ্গে সেবার মানের বিষয়েও বিতরণ কোম্পানিগুলোতে জবাবদিহির আওতায় আনা দরকার। তারা একতরফা বারবার দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে কমিশনের কাছে আসেন। কিন্তু দাম বাড়ার পর সেবার ক্ষেত্রে কী কী করেছে, তার কোনও হিসাব থাকে না। সেই হিসাবও কমিশনেরও চাওয়া উচিত।

/এসএনএস/এইচআই/এমওএফ/

লাইভ

টপ