বিতরণ ব্যয়: আরইবির ১.৪৫, ওজোপাডিকোর ১.০৭ টাকা করার সুপারিশ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:০৬, ডিসেম্বর ০৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:১৫, ডিসেম্বর ০৩, ২০১৯

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) জন্য ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের বিতরণ ব্যয় ১ টাকা ৪৫ পয়সা এবং ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) জন্য ইউনিটপ্রতি বিতরণ ব্যয় ১ টাকা ৭ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গঠিত কারিগরি কমিটি। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২০ সাল থেকে এই সুপারিশ কার্যকরের কথা বলা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) টিসিবি মিলনায়তনে বিদ্যুতের গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়ানোর শুনানিতে এই সুপারিশ করা হয়।
গত ২৮ নভেম্বর শুরু হওয়া শুনানির এদিন ছিল চতুর্থ ও শেষদিন।
আরইবি এবং ওজোপাডিকো—দুটি বিতরণ কোম্পানিই এখন বিদ্যুৎ বিক্রি করে লাভ করছে। এ পরিস্থিতিতে বিতরণ ব্যয় বাড়ানোর যৌক্তিক কোনও কারণ নেই বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
শুনানিতে আরইবি ইউনিটপ্রতি বিতরণ ব্যয় ১ টাকা ৫৩ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করে, আর ওজোপাডিকো ১ টাকা ৪০ পয়সা করার প্রস্তাব দেয়। বিইআরসি পাইকারি বিদ্যুতের দাম যতটা বাড়াবে তা ‘পাস থ্রু’ হিসেবে ধরে বিদ্যুতের খুচরা দাম বাড়াবে কমিশন। অর্থাৎ পাইকারি দাম বাড়ানোর সঙ্গে কমিশন বিতরণ ব্যয় যোগ করে খুচরা দাম নির্ধারণ করবে। কমিশনের কারিগরি কমিটি প্রতি ইউনিটে ৯৩ পয়সা দাম বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। তবে পিডিবি বলছে, তাদের আর্থিক ঘাটতি ৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকা পূরণের জন্যই কমিশনে এসেছে। এখানে সরকার প্রতি বছরের মতো এবার কতটা ভর্তুকি দেবে, তার ওপর নির্ভর করছে বিদ্যুতের দাম কতটা বাড়ানো হবে। প্রসঙ্গত, সরকার গত অর্থবছরে ১০ হাজার কোটি টাকা উৎপাদনে ভর্তুকি দিয়েছিল।
বিতরণ কোম্পানিগুলো বলছে, সেবার মান বাড়াতে তাদের নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হচ্ছে। এতে বিতরণ কোম্পানির ব্যয় বাড়ছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধি, জনবল, অফিস প্রশাসনিক ব্যয় বৃদ্ধির ফলে তাদের বিতরণ ব্যয় বৃদ্ধি করা দরকার।
এদিন শুনানিতে আরইবির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মুঈন উদ্দিন এবং ওজোপাডিকোর পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শফিক উদ্দিন প্রস্তাব দুটি উত্থাপন করেন।
আরইবির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মুঈন উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের লাভও হচ্ছে না, আবার লোকসানও হচ্ছে না। তবে পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে আমরা লোকসানে পড়বো। অন্যদিকে আমরা গ্রাম এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বেশকিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছি। পাশাপাশি প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নেওয়া হচ্ছে নানা পদক্ষেপ।’
তিনি বলেন, ‘আমরা গ্রাহকের হয়রানি কমাতে প্রতিটি সমিতির অধীনে প্রতিমাসেই উঠান বৈঠকের আয়োজন করছি, যার মাধ্যমে গ্রাহক তাদের অভিযোগ সরাসরি আমাদের জানাতে পারে। অন্যদিকে, প্রকল্পগুলো হাতে নেওয়ার ফলে আমাদের ব্যয় বেড়ে গেছে। এই বিতরণ ব্যয় বাড়ানোরও আবেদন করেছি আমরা।’
ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিক উদ্দিন বলেন, ‘পশ্চিমাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এজন্য সরকার বেশকিছু পরিকল্পনা করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছি। কিন্তু সেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে বেশি অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে। অন্যদিকে কোম্পানির কাজের পরিধি বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে এর ব্যয়ও। এসব খরচ মেটাতে কোম্পানির আয়ও বৃদ্ধি করা দরকার।’ এ অবস্থায় পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে তাদের বিতরণ ব্যয়ও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।
শুনানি শেষে বিইআরসির চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম বলেন, “বিতরণ কোম্পানিগুলোর অবস্থা আগের চেয়ে ভালো হয়েছে। তবে ভোক্তাদের স্বার্থ দেখতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে হবে।”
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছেন। বিতরণ কোম্পানিসহ বিদ্যুৎ খাতের কোনও বিভাগেই দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’ দুর্নীতির কারণে অনেক খাত পিছিয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে পিছিয়ে দেওয়া চলবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা গত চার দিন পিডিবিসহ ছয়টি বিতরণ কোম্পানি এবং একটি সঞ্চালন কোম্পানির প্রস্তাবিত দামের ওপর শুনানি করেছি। গত চার দিন অনেক অভিমত আমরা পেয়েছি। তাদের প্রস্তাব ও মতামত আমরা এখন যাচাইবাছাই করবো।’ নিয়ম অনুযায়ী শুনানির শেষদিন থেকে ৯০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে কমিশন একটি আদেশ দেবে বলে জানান তিনি।
শুনানিতে কমিশনের সদস্য মিজানুর রহমান, সদস্য রহমান মুর্শেদ, সদস্য মাহমুদ উল হক ভুইয়া উপস্থিত ছিলেন।

/এসএনএস/এইচআই/

লাইভ

টপ