শেয়ারবাজার চাঙা করতে আইনের শাসন জরুরি

Send
গোলাম মওলা
প্রকাশিত : ২৩:০৩, ডিসেম্বর ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৪১, ডিসেম্বর ২০, ২০১৯

শেয়ারবাজারক্রমাগতভাবে পতন হচ্ছে দেশের শেয়ারবাজার। ক্রেতা না থাকায় লেনদেন তলানীতে নেমে এসেছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে চলে গেছেন। দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও শেয়ার কিনছে না। এতে একদিকে লেনদেন কমছে, অন্যদিকে পতন হচ্ছে সূচকের। বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের লাভজনক কয়েকটি কোম্পানি অংশ নিলে শেয়ারবাজার চাঙা হবে। একইসঙ্গে আইনের শাসন কঠোরভাবে প্রয়োগের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করছেন তারা।

গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ৫৮ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের মূল্য কমেছে। এই সময়ে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে গড়ে ১১ দশমিক ১৪ শতাংশ। শুধু তাই নয়, চলতি ডিসেম্বরে লেনদেন হওয়া ১৪ দিনের মধ্যে ১০ দিনই সূচকের বড় ধরনের পতন হয়েছে। যে চারদিন বেড়েছে তা খুবই সামান্য। সব মিলিয়ে ডিসেম্বর মাসে ডিএসইএক্স ২৭৪ পয়েন্ট হারিয়েছে। নভেম্বর শেষে এই সূচক ছিল ৪ হাজার ৭৩১ পয়েন্ট। শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) তা ৪ হাজার ৪৫৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মো. রকিবুর রহমান বলেন, ‘ক্রমাগত দরপতনের কারণে বিনিয়োগকারীরা এই বাজারের প্রতি আস্থা পাচ্ছেন না। ছোট-বড় কোনও বিনিয়োগকারীই এই বাজারে আস্থা পাচ্ছেন না। এ থেকে উত্তরণে ভালো কোম্পানি বাজারে আনতে হবে। এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে হবে নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি)।’ তিনি বলেন, ‘ভালো কয়েকটি কোম্পানি বাজারে আনার পাশাপাশি সরকারের লাভজনক কমপক্ষে ৬টি কোম্পানি বাজারে আনতে হবে। এর সঙ্গে যদি আইনের শাসন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হয়, তাহলে বাজার ঘুরে দাঁড়াতে বাধ্য।’

ডিএসই শেয়ারহোল্ডার পরিচালক উল্লেখ করেন, ‘গ্রামীণফোনের মতো ভালো শেয়ার বাজারে এলে তার সঙ্গে লাখ লাখ বিনিয়োগকারীও বাজারে আসবেন। লাভে থাকা সরকারি কোম্পানি বাজারে এলে মানুষ শেয়ার কেনার প্রতি আগ্রহী হবেই। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও তখন শেয়ার কেনার প্রতি আগ্রহী হবে।’

প্রসঙ্গত, গত কয়েক মাস ধরেই দেশের পুঁজিবাজারে ক্রমাগত দরপতন চলছে। লেনদেন শুরু হলেই পড়তে থাকে সূচক। আগের সপ্তাহের মতোই গত সপ্তাহেও বাজারে বড় দরপতন হয়। গত সপ্তাহ শুরু হয় পতনের মধ্য দিয়ে। সপ্তাহের প্রথম দিন রবিবার ডিএসইএক্স ১৬ পয়েন্ট পড়ে যায়। সোমবার বিজয় দিবসের ছুটি ছিল। মঙ্গলবার ৭৯ পয়েন্ট পড়ে যায়। বুধবার ডিএসইএক্স পড়েছে ২ পয়েন্টের মতো। তবে সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার ডিএসই প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বা প্রধান সূচক ৩৮ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৪৫৬ দশমিক ৮৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এদিকে, সূচক কমে যাওয়ার জন্য বিদেশিদের শেয়ার বিক্রয় এবং গ্রামীণফোনের ইস্যু বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) জীবন বীমা টাওয়ারে পুঁজিবাজার সাংবাদিকদের সংগঠন ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) কার্যালয় ও ওয়েবসাইট উদ্বোধনের সময় তিনি এ কথা বলেন।

ড. এম খায়রুল হোসেন বলেন, ‘গ্রামীণফোনের সঙ্গে বিটিআরসির সৃষ্ট ঝামেলা শুধু গ্রামীণফোনের ক্ষতি করেনি, মার্কেটের কাঠামোও ধ্বংস করেছে।’ তিনি বলেন, ‘বিদেশিরা যখন শেয়ার কেনেন তখন তারা মূল ভিত্তি দেখেন। যখন তারা শুনেছেন টাকার ডিভ্যালুয়েশন হবে, তখন তারা গ্রামীণফোনের সঙ্গে অলিম্পিক, স্কয়ার ফার্মা, ইউনাইটেড পাওয়ার, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো সব বিক্রি করে দিচ্ছে। শুধু এসব শেয়ার বিক্রি করে দেওয়ার ফলে গত দুই মাসে দেশের পুঁজিবাজারে অনেক সূচক কমেছে।’

গত সপ্তাহে ডিএসইতে ৪ কার্যদিবসে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ১১৮ কোটি ৯২ লাখ ২৫ হাজার ৬২৬ টাকা। আগের সপ্তাহে ৫ কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৭৩ কোটি ৯৮ লাখ ৭৯ হাজার ৭০৪ টাকা। ফলে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে শেয়ার বাজারে লেনদেন কমেছে ৪৫৫ কোটি ৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮ টাকা।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে ৫৮ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে। এই সময়ে ৩৫৮টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এরমধ্যে বেড়েছে ১১১টির, কমেছে ২০৮টির, অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৭টির। লেনদেন হয়নি ২টি কোম্পানির শেয়ারের।

/এমএনএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ