করোনার প্রভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না শেয়ারবাজার

Send
গোলাম মওলা
প্রকাশিত : ২১:২৮, মার্চ ০৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৩১, মার্চ ০৬, ২০২০

ডিএসই

শেয়ারবাজারের আরেকটি খারাপ সপ্তাহ পার হলো। গত সপ্তাহের পাঁচ দিনের লেনদেনের ৩ দিনই দরপতন হয়েছে। এতে তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। ফলে এক সপ্তাহে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের হাতছাড়া হলো ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। আগের সপ্তাহে বিনিয়োগকারীরা ১৬ হাজার কোটি টাকার ওপরে খুইয়েছিলেন। এ নিয়ে টানা দুই সপ্তাহের পতনে বিনিয়োগকারীরা ২২ হাজার কোটি টাকারও বেশি হারালেন।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভালো না। আমাদের দেশেও এর প্রভাব পড়ছে। শেয়ারবাজারে এর প্রভাব পড়ছে। কারণ, বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষ সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণের সুদ হার কমানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারও একটা প্রভাব পড়েছে দেশের শেয়ারবাজারে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এর তথ্য বলছে, সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ডিএসই’র প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৫ দশমিক ১৩ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৩৮৪ দশমিক ৪৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এদিন ৪১৫ কোটি ১৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।  বুধবার লেনদেন হয়েছিল ৫১০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সোম ও মঙ্গলবার—এই দুই দিনে ডিএসইএক্স যতটা উঠেছিল; বুধবার একদিনেই তা পড়ে যায়। টানা পতনের পর গত সোমবার ডিএসইএক্স ২৫ পয়েন্ট বেড়েছিল। মঙ্গলবার বেড়েছিল ৩১ পয়েন্ট। কিন্তু বুধবার ৫৬ পয়েন্টের বেশি কমে যায়। বৃহস্পতিবারও কমে ২৫ পয়েন্টের বেশি। সবমিলিয়ে সপ্তাহের পাঁচ দিনের লেনদেনে তিন দিনই সূচক পড়েছে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লেনদেনও কমেছে।

শুধু তাই নয়, সবকটি সূচকের পতনের মধ্যে ডিএসইতে লেনদেনের গতিও কমেছে। দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ চার’শ কোটি টাকার ঘরে নেমে এসেছে। গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪৮২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৬১৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

প্রসঙ্গত, জানুয়ারি মাসজুড়ে বড় ধসের পর গত ১০ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার আওতায় ব্যাংকগুলোকে ‘বিশেষ তহবিল’ গঠনের সুযোগ দেওয়ার পর থেকে বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। টানা কয়েক দিন লেনদেনের পাশাপাশি সূচকও বাড়ে। বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসতে শুরু করে। কিন্তু ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে বাজারে ফের লেনদেন ও সূচক কমতে শুরু করে।

দেখা যাচ্ছে, বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ করা অর্থের পরিমাণ কমার পাশাপাশি গত সপ্তাহজুড়ে কমেছে সবকটি মূল্যসূচক ও লেনদেনের পরিমাণ। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক কমেছে ২ শতাংশের ওপরে। আর লেনদেন কমেছে প্রায় ২২ শতাংশ।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৯৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। কমেছে ২৩৭টির। আর ২৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৩ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৬ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহে বাজার মূলধন কমেছিল ১৬ হাজার ২৭৯ কোটি। এই হিসাবে দুই সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন হারালো ২২ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা।

 

/এমআর/

লাইভ

টপ