শর্তের জালেই থাকলো শেয়ারবাজারে কালো টাকার বিনিয়োগ

Send
গোলাম মওলা
প্রকাশিত : ২২:০৮, জুলাই ০৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৪১, জুলাই ০৪, ২০২০

 

ডিএসই

কালো টাকা বিনিয়োগে শর্ত শিথিল করা হলেও একবছরের শর্তের জাল থেকে বেরুতে পারলো না দেশের শেয়ারবাজার। ফলে অচিরেই যে বাজার স্বাভাবিক হবে— এমন ধারণা করছেন না বিশ্লেষকরা। তবে সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে ধীরে ধীরে বাজার স্বাভাবিক হবে বলে মনে করেন তারা।

এদিকে গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনে বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে। গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে  গড়ে লেনদেন হয়েছে ৮৩৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৫৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ৭৭৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এছাড়া, গত এক সপ্তাহে ডিএসই’র বাজার মূলধন বেড়েছে ৯৪১ কোটি টাকা। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসই’র বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১১ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা, যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৩ লাখ ১০ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা।

এদিকে কালো টাকা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করাকে মন্দের ভালো বলে মন্তব্য করেছেন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক রকিবুর রহমান। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তিন থেকে কমিয়ে এক বছরের শর্ত মন্দের ভালো। তবে এই সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোনও উচ্ছ্বাস নেই। কারণ, বিনা শর্তে অন্য জায়গায় বিনিয়োগ করার যেখানে  সুযোগ আছে, সেখানে না গিয়ে কেউ শেয়ারবাজারে শর্তের বেড়াজালে পড়তে আসবেন না।’

তিনি উল্লেখ করেন, আমরা আশাবাদী, সরকার বিষয়টি বুঝবে। প্রয়োজনে এসআরও  জারি করে শর্ত তুলে দেওয়ার মাধ্যমে বাজার স্বাভাবিক হওয়ার পথ সুগম করে দেবে।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে যে অর্থবিল পাস হয়েছে, তাতে শেয়ারবাজারে কমপক্ষে একবছরের জন্য কালো টাকা বিনিয়োগ করলে তা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে এই সুযোগ তিন বছর করা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কর দিতে হবে। কিন্তু শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টদের দাবি ছিল— এত লম্বা সময় বিনিয়োগ ধরে রাখার শর্ত দিলে কেউ বিনিয়োগে আসবে না। এতে শেয়ারবাজারেও তারল্যপ্রবাহ বাড়বে না। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। দুই স্টক, মার্চেন্ট এবং অন্যান্য সংস্থার পক্ষ থেকে এই শর্ত শিথিলের দাবি করা হয়। এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই বিনিয়োগের শর্ত তিন বছর থেকে কমিয়ে এক বছর করা হয়েছে।

এদিকে ডিএসই’র তথ্য বলছে, সপ্তাহজুড়ে ডিএসই-তে মোট লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৩৩৪ কোটি ৮১ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ২৮৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। সেই হিসাবে মোট লেনদেন বেড়েছে ৩ হাজার ৫০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

লেনদেনে উত্থানের মূল কারণ, গত ২৮ জুন ডিএসই’র ব্লক মার্কেটে গ্লাক্সোস্মিথক্লাইনের এককোটি ৮ লাখ ৭৫ হাজার ১৪৪টি শেয়ার লেনদেন হয়, যার মূল্য ২ হাজার ২২৫ কোটি ৩৮ লাখ ৭ হাজার টাকা। এর ফলে লেনদেনে উল্লম্ফন ঘটে।

লেনদেনে বড় উত্থানের সপ্তাহে বেড়েছে মূল্য সূচকও। সেই সঙ্গে যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে, তার দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। ফলে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ফিরে পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসই-তে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৪৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৮টির। আর ২৮১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

/এপিএইচ/

লাইভ

টপ
X