বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও রবীন্দ্রনাথের ওপর প্রবন্ধ রচনায় অনন্য অবদান রাখার জন্য তাকে ‘সাহিত্য পুরস্কার ২০১৫’-তে ভূষিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন। একুশের বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কার বিতরণ করবেন। ড. আতিউর রহমান দেশের খ্যাতনামা উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি প্রচলিত ধারার ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি উন্নয়নমুখী ও মানবিক ব্যাংকিং ধারণা প্রবর্তনে জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করেন। দেশের আর্থসামাজিক ও মানবিক উন্নয়নে তিনি গবেষণা, লেখালেখি, নীতি-কৌশল গ্রহণ ও তা রূপায়ণে নিরন্তর কাজ করে চলেছেন। নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে আর্থিক সেবা ও সামাজিক দায়বোধ প্রণোদিত অর্থায়ন পৌঁছানোর লক্ষ্যে তিনি ‘ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন’ অভিযানে নেমে পড়েন। তার এ উদ্যোগ দেশে-বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এর আগে তিনি বাংলাদেশের আর্থিক খাতের উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য শেলটেক পুরস্কার (২০১০); মানবিক উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদানের জন্য ভারতের এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক ইন্দিরা গান্ধী স্বর্ণস্মারক পুরস্কার (২০১১); আর্থিক খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য নওয়াব বাহাদুর সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড (২০১২); তামাকবিরোধী আন্দোলনে তাৎপর্যপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক ‘ওয়ার্ল্ড নো-টোব্যাকো ডে অ্যাওয়ার্ড ২০১২’ পুরস্কারে ভূষিত হন। গবেষণা ও বুদ্ধিভিত্তিক চর্চার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলা একাডেমি তাকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ (২০১২) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ‘মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির রেগুলেটর’ হিসেবে সম্মাননা (২০১৪) প্রদান করে। গরিব মানুষের জন্য কাজ করার সুবাদে তিনি ফিলিপাইনের গুসি ফাউন্ডেশন কর্তৃক (২০১৪) ‘গুসি শান্তি পদক’-এ ভূষিত হন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সমাজ ও পরিবেশ সচেতন অর্থায়নের কৌশল গ্রহণের জন্য লন্ডনভিত্তিক ‘দি ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’ এর সহযোগী অর্থবিষয়ক সাময়িকী ‘দি ব্যাংকার’ তাকে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ‘শ্রেষ্ঠ গভর্নর’ (২০১৫) এবং যুক্তরাজ্য ভিত্তিক বাণিজ্য সাময়িকী ‘দি ইমার্জিং মার্কেটস’ ‘এশিয়ার শ্রেষ্ঠ কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর’ (২০১৫) নির্বাচিত করে। তার নেতৃত্বে মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় বিডিজবস ডটকম বাংলাদেশ ব্যাংককে সেরা নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান (২০১৪) হিসেবে নির্বাচিত করে। প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ধরিত্রী সম্মাননা (১৪২১) পদকে ভূষিত হন। বিআইডিএস’র সাবেক এই সিনিয়র গবেষক এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্ট্যাডিজ বিভাগে অধ্যাপনা করেন। দেশ-বিদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ভিজিটিং প্রফেসর/ফেলো হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত তার 'Peasants and Classes' একটি রেফারেন্স গ্রন্থ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। উন্নয়ন অর্থনীতি ছাড়াও ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, রবীন্দ্রনাথ বিষয়ে তার অসংখ্য বই পাঠক সমাজে সমাদৃত হয়েছে। প্রশাসনিক কর্মব্যস্ততার মাঝেও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের ওপর লেখা তার অনেক নিবন্ধ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। ইউপিএল থেকে প্রকাশিত তার ভাষা আন্দোলনের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট বিষয়ে গবেষণাধর্মী চার খণ্ডের বই মৌলিক গবেষণা হিসেবে স্বীকৃত। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু বিষয়ে তার গবেষণাধর্মী বইগুলোও মৌলিক গ্রন্থ হিসেবে গবেষক ও পাঠকদের কাছে বহুল সমাদৃত এবং রবীন্দ্রনাথের আর্থসামাজিক ভাবনা বিষয়ক বইগুলো দুই বাংলায় মৌলিক ও সৃজনশীল গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত। গভর্নর ড. রহমান তার এই পুরস্কার মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা শহীদ হয়েছেন এবং এ বিষয়ে যারা গবেষণা ও লেখালেখি করেছেন এবং এখনো করে যাচ্ছেন তাদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন।
/জিএম/এএইচ /







