তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশ এখন অভ্যন্তরীণ চাহিদার ৯৮ ভাগ ওষুধ তৈরি করছে। বিশ্বের ১০৭টি দেশে ওষুধ রফতানি করছে। উন্নত বিশ্বে বাংলাদেশের তৈরি ওষুধ গ্রহণ যোগ্যতা পেয়েছে। এ দেশের তৈরি ওষুধ নেদারল্যান্ডস আমদানি করতে আগ্রহী। ট্রিপস চুক্তির মেয়াদ ২০৩৩ সাল পর্যন্ত বর্ধিত হবার কারণে বাংলাদেশের সামনে সুযোগ এসেছে। নেদারল্যান্ডসের চাহিদা মোতাবেক মানসম্পন্ন ওষুধ রফতানি করতে বাংলাদেশ সক্ষম। উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা সফর বিনিময় করে এ সুযোগকে কাজে লাগাতে পারবে। সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী সোমবার সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে ঢাকায় নেদারল্যান্ডসের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত লিওনি কুয়েলিনেয়ারের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন।
এসময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনোজ কুমার রায় এবং অতিরিক্ত সচিব জহির উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, অপ্রত্যাশিত রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে অভূতপূর্ব উন্নতির প্রশংসা করেছেন নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত। তৈরি পোশাক কারখানাগুলো এখন নিরাপদ এবং কর্মবান্ধব। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর ক্রেতা গোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্তদের যে ক্ষতি পূরণ দিয়েছে, তার মধ্যে নেদারল্যান্ডস অন্যতম। এ দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার এবং শিল্প মালিকরা কারখানার কাজের পরিবেশ উন্নয়ন, ফায়ার সেফটি, বিল্ডিং সেফটি এবং কর্মবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেন নেদারল্যান্ডস রাষ্ট্রদূত।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বড় বাজার নেদারল্যান্ডস। গত বছর নেদারল্যান্ডসে ৮৪০ দশমিক ৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ, একই সময়ে আমদানি করা হয়েছে ১৪১ দশমিক ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। রফতানি বাণিজ্য বাংলাদেশের পক্ষে ৬৯৮ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চিংড়ি, তামাক, প্লাস্টিক, চামড়াজাত পণ্য এবং ওষুধের প্রচুর চাহিদা রয়েছে নেদারল্যান্ডসে। বাংলাদেশের এসব পণ্য বেশি করে আমদানি করতে নেদারল্যান্ডস আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের পরীক্ষিত ব্যবসায়ীক অংশীদার। ব্যবসার পাশাপাশি নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের অনেক উন্নয়ন কাজের সহযোগী। বাংলাদেশের ভোলায় নদী ভাঙনরোধে পাঁচশ’ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রথম ফেজের কাজ শেষ হয়েছে। বাংলাদেশের কৃষিজাত পণ্য যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সংরক্ষণাগার নির্মাণ ও বিদেশে রফতানির বিষয়ে কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। এছাড়া গ্রামীণ অবকাঠানো উন্নয়নে নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশকে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।
নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশ। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের উন্নয়ন, পানি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার, কৃষি পণ্যের নিরাপদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা এবং রফতানিতে সহযোগিতা করছে নেদারল্যান্ডস।
/এসআই / এএইচ /








