শুল্ক কাঠামোর আমূল সংস্কার জরুরি: ডিসিসিআই

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৬ অক্টোবর ২০২২, ১৬:৪৪আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২২, ১৬:৪৪

এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের রাজস্ব ও শুল্ক কাঠামোর আমূল সংস্কার, নীতিমালা সহজীকরণ, দক্ষতা উন্নয়ন, বাণিজ্য সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে পিটিএ এবং এফটিএ সইয়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংস্থাগুলোতে নিজেদের অন্তর্ভুক্তি একান্ত অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি- ডিসিসিআই’র সভাপতি রিজওয়ান রাহমান।

বুধবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকা চেম্বার আয়োজিত ‘প্রতিযোগিতামূলক শুল্ক কাঠামো:প্রেক্ষিত স্বল্পোন্নত দেশের উত্তরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের যুগ্ম প্রধান মো. মশিউল ইসলাম। নির্ধারিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সদস্য শীষ হায়দার চৌধুরী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (ডব্লিউটিও সেল, পরিচালক-৩) ফারহানা আইরিছ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরের প্রথম সচিব (শুল্ক রেয়াত ও প্রকল্প সুবিধা) ড. মো. নিয়োমুল ইসলাম।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত সুবিধা হারাবে এবং দেশে উৎপাদিত পণ্য বহির্বিশ্বে রফতানির ক্ষেত্রে প্রায় ৮.১৬ শতাংশ শুল্ক প্রদান করতে হবে, যা আমাদের রফতানির সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে।’

তিনি বলেন, স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষায় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বর্তমানে চলমান নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক কাঠামোতে উল্লেখজনক হারে পরিবর্তন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের স্থানীয় উদ্যোক্তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পণ্য বহুমুখীরণের মাধ্যমে ভ্যালু অ্যাডিশন নিশ্চিত করার কোনও বিকল্প নেই। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, দেশের রাজস্ব ও শুল্ক কাঠামোর আমূল সংস্কার ও অটোমেশন নিশ্চিতকরণ, নীতিমালা সহজীকরণ, দ্রুততম সময়ে ও হয়রানিমুক্তভাবে উদ্যোক্তাদের সরকারি সেবাপ্রাপ্তি, শ্রমিক ও উদ্যোক্তাদের দক্ষতা এবং সক্ষমতা উন্নয়ন, বাণিজ্য সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে পিটিএ এবং এফটিএ সইয়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংস্থায় নিজেদের অন্তর্ভুক্তিতে উদ্যোগ গ্রহণ একান্ত অপরিহার্য বলে মত প্রকাশ করেন ডিসিসিআই সভাপতি।  

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে মো. মশিউল ইসলাম বলেন, ‘গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ৫২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি করেছে এবং সর্বোচ্চ রফতানিকৃত ২০টি পণ্যের মধ্যে ১৮টিই শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা ভোগ করেছে। এলডিসি উত্তরণের পর আমাদের উদ্যোক্তারা এ সুবিধাপ্রাপ্তি হতে বঞ্চিত হবেন। এমতাবস্থায় বৈশ্বিক বাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেসরকারি খাতকে দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’ এলক্ষ্যে বাণিজ্য সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে দ্রুততম সময়ে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই (এফটিএ) এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ব্লকগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণ একান্ত অপরিহার্য বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ ও স্থানীয় শিল্পায়নকে বেগবান করতে দেশের সার্বিক রাজস্ব এবং শুল্ক কাঠামোর আমূল সংস্কার ও অটোমেশন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের ওপর তিনি জোরারোপ করেন। এছাড়া পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাণিজ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশে একটি ‘ন্যাশনাল ট্যারিফ পলিসি’ প্রণয়ন করার প্রয়োজন রয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন মশিউল ইসলাম। একই সঙ্গে আমাদের রফতানিকৃত পণ্যের বহুমুখীকরণের মাধ্যমে ভ্যালু অ্যাডিশনের ওপর আরও বেশিহারে মনোনিবেশ করার জন্য উদ্যোক্তাদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।        

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সদস্য শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘বাস্তবভিত্তিক শুল্ক কাঠামো প্রণয়নে দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতকে একযোগে কাজ করতে হবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, কোভিড মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দূর্যোগ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা অবস্থা বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের পরিস্থিতিতে জটিল করেছে। তিনি জানান, বাণিজ্য সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে এফটিএ এবং পিটিএ সইয়ের লক্ষ্যে সরকার বেশ কিছু গবেষণা পরিচালনা করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক মনোভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, আমাদের জিডিপিতে করের অবদান মাত্র ৭.৯ শতাংশ, যা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এলডিসি উত্তরণের পর রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সরকারকে আরও অধিকহারে ভ্যাট ও কর আহরণের ওপর নজর দিতে হবে, তিনি মত প্রকাশ করেন।   

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ফারহানা আইরিছ বলেন, শুল্ক কাঠামো সহজীকরণের পাশাপাশি আমাদেরকে রফতানির পরিমাণ বাড়ানো ও পণ্য বহুমুখীকরণের ওপর নজর দিতে হবে। কারণ, বর্তমানে আমাদের রফতানি ও আমদানির মধ্যে বিশাল ঘাটতি রয়েছে। তিনি জানান, ভুটান, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কার সঙ্গে এফটিএ সইয়ের লক্ষ্যে সরকার গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।  

এনবিআরের প্রথম সচিব ড. মো. নিয়োমুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে দেশের মোট রাজস্বের ৩৪ শতাংশ আসে আমদানি শুল্ক হতে এবং এলডিসি’র চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে আমদানি শুল্ক হারে উল্লেখজনক হ্রাস করতে হবে। সেক্ষেত্রে ভ্যাট ও আয়করের ওপর বেশিহারে প্রাধান্য দিতে হবে। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৬টি পণ্যের আমদানি শুল্ক হার কমানো হয়েছে এবং আরও ৬০টি পণ্যের আমদানি শুল্ক হ্রাসের লক্ষ্যে এনবিআর কাজ করছে। তবে এক্ষেত্রে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। এলডিসি’র চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় শিল্পের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কোনও বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।  

/জিএম/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে জোর দেবে নতুন বিএসইসি
ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে জোর দেবে নতুন বিএসইসি
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী