সবুজ ব্যাংকিংয়ের শীর্ষে প্রাইম ব্যাংক

গোলাম মওলা
১০ আগস্ট ২০২৫, ১৮:২৯আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৫, ১৯:১১

সততা, স্বচ্ছতা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগিয়ে চলা প্রাইম ব্যাংক আজ দেশের অন্যতম পরিবেশবান্ধব আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স রিপোর্ট’-এ পরপর তিনবার শীর্ষ টেকসই ব্যাংক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। টেকসই অর্থায়ন, সবুজ ব্যাংকিং, জলবায়ু সহনশীল প্রকল্পে বিনিয়োগ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা— এসব ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকার জন্য দেশ-বিদেশে স্বীকৃতি অর্জন করেছে ব্যাংকটি। এই ধারাবাহিক অগ্রগতির নেপথ্যে রয়েছে সুদূরদর্শী পরিকল্পনা, নীতিগত অঙ্গীকার এবং কার্যকর বাস্তবায়ন কৌশল। এসব বিষয় নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন প্রাইম ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ রিস্ক অফিসার (সিআরও) মো. জিয়াউর রহমান। সাক্ষাৎকারে তিনি তুলে ধরেছেন ব্যাংকের টেকসই ব্যাংকিং দর্শন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং তরুণ ব্যাংকারদের জন্য বার্তা।

বাংলা ট্রিবিউন: সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স রিপোর্টে আপনার ব্যাংক শীর্ষ তালিকায় উঠে আসায় অভিনন্দন। প্রথমেই জানতে চাই, এই স্বীকৃতি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

মো. জিয়াউর রহমান: বাংলাদেশে শীর্ষ টেকসই ব্যাংকের স্বীকৃতি লাভ আমাদের জন্য এক গর্বের বিষয়। এই সম্মান আমাদের টিমের আন্তরিক প্রচেষ্টা, গ্রাহকদের নিরন্তর আস্থা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই আর্থিক ব্যবস্থার দিকে আমাদের অঙ্গীকারের স্বীকৃতি। আমাদের দৃষ্টিতে সাসটেইনিবিলিটি কেবল একটি মানদণ্ড নয়, বরং এটি আমাদের কৌশল, উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নির্ধারণে একটি মৌলিক নীতি। সমাজ, পরিবেশ এবং আগামী প্রজন্মের কল্যাণে দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ।

বাংলা ট্রিবিউন: এই অর্জনের পেছনে সবচেয়ে কোন উদ্যোগ বা কর্মসূচিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন?

মো. জিয়াউর রহমান: আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কোর ব্যাংকিংয়ে সাসটেইনিবিলিটি চর্চা এবং সর্বজনীন ব্যাংকিং-সেবার আওতা বৃদ্ধি প্রাইম ব্যাংকের অন্যতম প্রধান শক্তি ও বৈশিষ্ট্য। এই দুটি দিকই আমাদের গ্রাহককেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি, দায়িত্বশীল পরিচালনা এবং ভবিষ্যৎবান্ধব ব্যাংকিং মডেলের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। সময়ের পরিক্রমায় আমরা ধারাবাহিকভাবে আমাদের সবুজ ও টেকসই অর্থায়ন কার্যক্রমকে বিস্তৃত করেছি— যা পরিবেশবান্ধব ও সামাজিকভাবে ইতিবাচক প্রকল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ আর্থিক পরিবেশ গড়ে তুলছে। এই অগ্রগতি শুধু আমাদের টেকসই ব্যাংকিংয়ের প্রতিশ্রুতির প্রমাণই নয়, বরং এটি আমাদের দায়িত্বশীল করপোরেট আচরণ ও আগামীর প্রজন্মের জন্য একটি স্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব তৈরির অঙ্গীকারকেও দৃশ্যমান করে।

২০২৪ সালে প্রাইম ব্যাংকের সবুজ অর্থায়নের পরিমাণ ছিল ১২,২৬৭.৯৪ মিলিয়ন টাকা, যা মোট মেয়াদি ঋণ বিতরণের ৩৪.১১ শতাংশ। পূর্ববর্তী বছরে এই হার ছিল ১৯.৯৫ শতাংশ, যা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রতিফলন। ২০২৪ সালে আমাদের টেকসই অর্থায়ন দাঁড়ায় ২,৮০,৪১৬.৩৮ মিলিয়ন টাকা— যা মোট ঋণ বিতরণের ৮০.৪৮ শতাংশ, যেখানে পূর্ববর্তী বছরে এই হার ছিল ৩৭.৬৪ শতাংশ। পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় আমাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে অংশগ্রহণের পরিমাণ ও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি আমাদের স্থায়ী প্রভাব তৈরির লক্ষ্যে নেওয়া দৃঢ় পদক্ষেপগুলোর প্রতিচ্ছবি। বিশ্বব্যাপী প্রতিকূল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মাঝেও প্রাইম ব্যাংক তার নিজস্ব নেটওয়ার্ক ও প্রাইম ব্যাংক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সিএসআর কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ দিয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন: টেকসই অর্থায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব প্রকল্প বা গ্রাহকদের কীভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে?

মো. জিয়াউর রহমান: প্রাইম ব্যাংক টেকসই অর্থায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব প্রকল্প বা গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আসছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে মোট মেয়াদি ঋণের অন্তত ৫ শতাংশ পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে এবং ২০ শতাংশ টেকসই প্রকল্পে অর্থায়ন করতে বলা হয়েছে। যার বিপরীতে প্রাইম ব্যাংক এর যথাক্রমে ৩৪.১১ শতাংশ ও ৮০.৪৮ শতাংশ অর্থায়ন রয়েছে। পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে অর্থায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিম আওতায় সুবিধাজনক সুদের হার, দীর্ঘমেয়াদি ঋণ, এবং প্রযুক্তিগত ও পরামর্শমূলক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রাইম ব্যাংক তার রিলেশনশিপ ম্যানেজারদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করে থাকে— যা তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই অগ্রাধিকারমূলক অর্থায়ন শুধু পরিবেশ রক্ষা করছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করছে।

বাংলা ট্রিবিউন: ব্যাংকের সিএসআর বা সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমে সম্প্রতি কোনও বড় পরিবর্তন বা লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে কি?

মো. জিয়াউর রহমান: ২০০২ সালে প্রাইম ব্যাংকের করপোরেট পৃষ্ঠপোষকতায় প্রাইম ব্যাংক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। ফাউন্ডেশনটি সামাজিক দায়িত্ব ও কমিউনিটি উন্নয়নভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। ফাউন্ডেশনের পাশাপাশি প্রাইম ব্যাংক নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে, অথবা এনজিও, সরকারি সংস্থা ও অনুরূপ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব করে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে থাকে। গত দুই বছরে, ব্যাংকটি জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন ও প্রশমন-সংক্রান্ত প্রকল্পের দিকে সিএসআর কার্যক্রমের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছে। যেমন- দুর্গত ও জলবায়ু পরিবর্তনে প্রভাবিত অঞ্চলে বিশুদ্ধ খাবার পানির প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সরবরাহ।

বাংলা ট্রিবিউন: সবুজ ব্যাংকিং বাস্তবায়নে আপনার ব্যাংকের গ্রহণযোগ্য উদ্যোগগুলো কী?

মো. জিয়াউর রহমান: প্রাইম ব্যাংক সবুজ ব্যাংকিং বাস্তবায়নে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে— যা পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করে। প্রাইম ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে অর্থায়নের ব্যবস্থা করে থাকে, যা গ্রাহকদের জন্য কম সুদের সুবিধা নিশ্চিত করে। ২০১৪ সাল থেকে প্রাইম ব্যাংক আন্তর্জাতিক জিআরআই মান অনুযায়ী টেকসই কার্যক্রমের প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। ব্যাংকটি জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির আওতায় নেট জিরো ব্যাংকিং অ্যালায়েন্সের সদস্য, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আমাদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে। বিগত তিন বছর যাবত প্রাইম ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ টেকসই ব্যাংকের স্বীকৃতি পেয়ে আসছে, যা আমাদের সবুজ অর্থায়ন, সিএসআর এবং মূল ব্যাংকিং কার্যক্রমে টেকসই চর্চার স্বীকৃতি। এই উদ্যোগগুলো শুধু পরিবেশ রক্ষায় নয়, বরং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাংলা ট্রিবিউন: গ্রাহক বা ব্যবসায়িক অংশীদারদের টেকসই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে ব্যাংক কী ধরনের প্রণোদনা বা সুবিধা দিয়েছে?

মো. জিয়াউর রহমান: প্রাইম ব্যাংক শুধু আর্থিক সেবা নয়— পরিবেশ, সমাজ ও অর্থনীতিকে একত্রে এগিয়ে নিতে অগ্রগতির প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। গ্রাহক বা ব্যবসায়িক অংশীদারদের টেকসই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে প্রাইম ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য কম সুদের ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করে আসছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে অর্থায়নের ব্যবস্থা করে থাকে। আমাদের সব রিলেশনশিপ ম্যানেজার গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সহায়তা প্রদানে সুপ্রশিক্ষিত এবং জ্ঞানসম্পন্ন।

বাংলা ট্রিবিউন: বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা বা গাইডলাইন কতটা সহায়ক হয়েছে এই অর্জনে?

মো. জিয়াউর রহমান: শীর্ষ টেকসই ব্যাংক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা ও গাইডলাইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স পলিসি  প্রণয়ন, ব্যাংকগুলোকে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে এবং টেকসই প্রকল্পে অর্থায়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

উপরন্তু, বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য সাসটেইনেবল ব্যাংকিং-বিষয়ক প্রশিক্ষণ আয়োজন করে। এতে ব্যাংকগুলো টেকসই প্রকল্প মূল্যায়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, এবং রিপোর্টিংয়ে দক্ষতা অর্জন করে। ব্যাংকগুলোকে ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক সাসটেইনেবল ব্যাংকিং রিপোর্ট জমা দিতে হয়। এই রিপোর্টের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি বছর অডিট করে থাকে, যার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকে।

বাংলা ট্রিবিউন: এ ধরনের স্বীকৃতি ব্যাংকিং খাতে অন্যদের জন্য কী বার্তা দেয় বলে আপনি মনে করেন?

মো. জিয়াউর রহমান: এ ধরনের স্বীকৃতি ব্যাংকিং খাতের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানকে সম্মানিত করা নয়, বরং পুরো খাতকে একটি মানদণ্ডে পৌঁছানোর প্রেরণা দেয়। এতে প্রমাণিত হয়— গ্রাহকসেবা, নিরাপত্তা বা টেকসইতা নিয়ে কাজ করলে আন্তর্জাতিক বা জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি পাওয়া সম্ভব। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের স্বীকৃতিকে মানদণ্ড হিসেবে ধরে নিজেদের পরিষেবা, প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনাকে উন্নত করতে চায়। সাধারণ গ্রাহকের দৃষ্টিতে এটি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা গড়ে তোলে। ফলে খাতের প্রতি সামগ্রিক বিশ্বাসও বাড়ে। এমন স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি পজিটিভ-বার্তা হতে পারে। এসব বার্তা ব্যাংকিং খাতে শুধু প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং একটি জাতির আর্থিক ব্যবস্থার সক্ষমতাও তুলে ধরে।

বাংলা ট্রিবিউন:  আপনার প্রতিষ্ঠান আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে টেকসই ব্যাংকিং ক্ষেত্রে কী কী নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে?

মো. জিয়াউর রহমান: আপনার প্রশ্নটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যখন বিশ্বের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ক্রমশ পরিবেশবান্ধব, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের দিকে এগোচ্ছে। আধুনিক ব্যাংকিং খাতে যে ধরনের টেকসই উদ্যোগের দিকে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে এবং সামনের ১-২ বছরে আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে সেগুলো হলো— নবায়নযোগ্য শক্তি, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি বা জলবায়ু-সহনশীল প্রজেক্ট, পুনঃব্যবহারযোগ্য উৎপাদনের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা। গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাংকিং-সেবা পৌঁছে দেওয়া। এ ধরনের উদ্যোগ শুধু পরিবেশের জন্য ভালো নয়, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতার জন্যও অপরিহার্য।

বাংলা ট্রিবিউন: তরুণ প্রজন্মের ব্যাংকারদের এ ধরনের অর্জন সম্পর্কে কোনও বার্তা দিতে চান?

মো. জিয়াউর রহমান: এ ধরনের অর্জন তরুণ ব্যাংকারদের জন্য একটি সুদূরপ্রসারী বার্তা বহন করে। তারা সে সময়ের অংশ, যখন ব্যাংকিং অঙ্গনে টেকসইতা, অন্তর্ভুক্তি এবং প্রযুক্তিনির্ভরতা ভবিষ্যতের পথ নির্দেশ করছে। আজকের ব্যাংকারদের কাছে কেবল সংখ্যার বিশ্লেষণ নয়—মানুষ, তাদের প্রয়োজন এবং সামাজিক প্রভাব সম্পর্কে গভীর উপলব্ধিও অপরিহার্য। পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন , ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং টেকসই উদ্যোগের মাধ্যমে এ প্রভাব তৈরি করা সম্ভব। এই নতুন যুগে, তরুণদের দায়বদ্ধতা আর নেতৃত্ব অর্থনীতিকে সহমর্মিতা ও টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

বাংলা ট্রিবিউন:  প্রাইম ব্যাংকের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম কতটা প্রভাব ফেলেছে?

মো. জিয়াউর রহমান: ব্যাংকের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম বাংলাদেশের সমাজে একটি গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে। এটি শুধু দান বা সহায়তা নয়— একটি উন্নয়নমূলক দৃষ্টিভঙ্গি, যা সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায়িত করে। শিক্ষা খাতে এডুকেশন সাপোর্ট প্রোগ্রামের (ইএসপি) মাধ্যমে মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ প্রদান করা হয়, যা তাদের উচ্চশিক্ষা অর্জনে সহায়তা করে। প্রাইম কলেজ অব নার্সিংয়ের মাধ্যমে এ পেশার দক্ষতা বৃদ্ধি করে স্বাস্থ্যসেবায় মানবসম্পদ তৈরি করছে। স্বাস্থ্য খাতে প্রাইম ব্যাংক আাই হাসপাতাল সাশ্রয়ী মূল্যে চোখের চিকিৎসা প্রদান করে, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য। এটি শুধু চিকিৎসা নয়, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখে। সিএসআর কার্যক্রমগুলো প্রমাণ করে— ব্যাংকিং খাত শুধু আর্থিক নয়, সামাজিক উন্নয়নেরও অংশীদার। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে এই উদ্যোগগুলো জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) পূরণে সহায়ক। এই কার্যক্রমগুলো শুধু সুবিধাভোগীদের জীবন বদলে দেয় না, বরং একটি সামাজিক পরিবর্তনের ঢেউ তোলে— যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।

বাংলা ট্রিবিউন: সবুজ ব্যাংকিংয়ে বিশেষ অবদান কোন সেক্টরে?

মো. জিয়াউর রহমান: ২০২৩ সালের মে মাসে প্রাইম ব্যাংক জাতিসংঘ আয়োজিত এবং শিল্প-নেতৃত্বাধীন একটি বৈশ্বিক ব্যাংক জোট নেট জিরো ব্যাংকিং অ্যালায়েন্সে যোগ দেয়। এই জোটের সদস্য হিসেবে প্রাইম ব্যাংক ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাদের প্রথম জলবায়ু কৌশল প্রকাশ করে। ব্যাংকটি তাদের কার্বন নির্গমন পরিমাণ পরিমাপ করেছে স্কোপ ১, স্কোপ ২ এবং স্কোপ ৩ অনুযায়ী। এছাড়া, প্রাইম ব্যাংক বিদ্যুৎ, বস্ত্র এবং ইস্পাত খাতে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ২০২৩-২০২৪ সালের মধ্যে প্রাইম ব্যাংক শুধুমাত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে শীর্ষস্থানীয় টেকসই ব্যাংক হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি, বরং ইউরোমানি-সহ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছে।

/এপিএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
একান্ত সাক্ষাৎকারে মাহমুদুর রহমান মান্নাসরকারকে আরও অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে এগোতে হবে
সাক্ষাৎকারে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানমধ্যপ্রাচ্যের সংকট না কাটলে রফতানি ঘুরে দাঁড়ানো অনিশ্চিত
আমার আত্মার বয়স হাজার কোটি বছর: সূচনা শেলী
সর্বশেষ খবর
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
ছোট ছেলে শ্বশুরবাড়ি, বড় ছেলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার
ছোট ছেলে শ্বশুরবাড়ি, বড় ছেলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের