তিন হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে সময় ও সক্ষমতা বড় প্রতিবন্ধকতা: আইইইএফএ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৮ আগস্ট ২০২৫, ১৭:৩৯আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৫, ১৭:৩৯

বাংলাদেশের নতুন ছাদ-ভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি আরও জোরালো হলেও এ খাতে সাফল্য সীমিত। ২০২৫ সালের জুনে রেকর্ড করা ২৪৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার তুলনায় মাত্র ছয় মাসেরও কম সময়ে নতুন করে ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাদ-ভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য ১২ গুণেরও বেশি সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

সোমবার (১৮ অগাস্ট) আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যানশিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ) এর দক্ষিণ এশিয়ার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংস্থার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,  সরকারি অফিস, হাসপাতাল, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত বিদ্যুৎ চাহিদা ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটেরও কম। ফলে এ ভবনগুলোতে অনুমোদিত লোডের পরিমাণ ৩ হাজার মেগাওয়াটের তুলনায় অনেক কম হবে। কাজেই নেট মিটারিং নীতিমালার আওতায় এসব ভবনে ৩ হাজার  মেগাওয়াট ছাদ-ভিত্তিক সৌর বিদ্যুতের সক্ষমতা অর্জনের সম্ভাবনা সীমিত।

তারা আরও জানায়, ছাদ-ভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ ভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ছাদ-ভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের প্রকৃত সম্ভাবনা, ক্যাপেক্স মডেলে রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যাসহ আরও বেশকিছু বিষয় এখনও অজানা থাকায়, এ খাতের অংশীদারদের উদ্বেগ দূর করতে বাংলাদেশ সরকার প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।

বলা হয়, জ্বালানি খাতের সংকটের মাঝে বাংলাদেশ সরকার ডিসেম্বর ২০২৫ নাগাদ (প্রায় ছয় মাসে) ৩ হাজার মেগাওয়াট নতুন ছাদ-ভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে যা নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যানশিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ)।

তবে নানাবিধ চ্যালেঞ্জ থাকায় এ পরিকল্পনা উচ্চাভিলাসী কিনা তা পর্যালোচনা প্রয়োজন।

তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৮ থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ১৭ বছরে বাংলাদেশে মাত্র ২৪৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার ছাদ-ভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ স্থাপিত হয়েছে। অথচ ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে ৩ হাজাএ  মেগাওয়াট ছাদ-ভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে— যা অর্জনে পূর্বের তুলনায় ১২ গুণেরও বেশি দ্রুত উদ্যোগ প্রয়োজন।

আইইইএফএ-এর বাংলাদেশের প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক এবং প্রতিবেদনের লেখক শফিকুল আলম বলেন, সরকারি অফিস, হাসপাতাল, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত অনুমোদিত লোড না থাকায় ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাদ-ভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ অর্জন সম্ভব নয়। তাই টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) এসব ভবনে ছাদ-ভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের বাস্তব সম্ভাবনা যাচাই ও নথিভুক্ত করতে পারে। শফিকুল আলম আরও বলেন, তহবিল বরাদ্দ, দরপত্র আহ্বান, মূল্যায়ন, কার্যাদেশ প্রদান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে ডিসেম্বর ২০২৫-এর সময়সীমা বাড়ানো প্রয়োজন  হবে ।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে মাত্র ১৫-২০টি উচ্চমানের প্রকৌশল, ক্রয় ও নির্মাণ (ইপিসি) কোম্পানি রয়েছে, যারা ছয় মাসের কম সময়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাদ-ভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করতে সক্ষম নাও হতে পারে। নতুন কর্মসূচির আওতায় সরকারি অফিসগুলো সরকারি তহবিলের সহায়তায় ক্যাপেক্স মডেলে ছাদ-ভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করবে। অপরদিকে হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রাথমিক ব্যয় ছাড়াই ওপেক্স মডেলে পরিচালিত হবে। 

উভয় মডেলের সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, ক্যাপেক্স মডেলে দ্রুত বাস্তবায়ন ও আর্থিক সাশ্রয়ের সুযোগ বেশি থাকলেও সমন্বয়ে ঘাটতি, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং তড়িঘড়ি করে ডেভেলপার নির্বাচনের কারণে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ওপেক্স মডেল গুনগত মান নিশ্চিত করবে, তবে এতে সাশ্রয় কম হবে এবং গ্রামীণ এলাকায় অর্থায়নে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিতে পারে। লোডশেডিং এর সময় ছাদ-ভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ গ্রীডে সরবরাহ করা যাবে না বিধায় গ্রামীণ এলাকায় ওপেক্স মডেলে বিনিয়োগের ঝুঁকি রয়েছে। ছোট ও ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রকল্পেও বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ হারাতে পারেন।   

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ধুলাবালি বা ময়লা জমার কারণে বার্ষিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। তাই কাপেক্স মডেলের আওতায় বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর মাসিক সঞ্চয় থেকে একটি তহবিল তৈরি করে দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি করার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। একইসঙ্গে গ্রামীণ এলাকায় লোডশেডিং সমস্যা সমাধানে সরকারের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

আইইইএফএ প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় বাস্তবায়িত এবং চলমান প্রকল্পগুলো থেকে অভিজ্ঞতা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। এসব দেশে বিদ্যুৎ মিশ্রণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান ৪৭ শতাংশ থেকে ৬৩ শতাংশ। পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা দেখায়, জ্বালানি সংকট ও উচ্চ বিদ্যুতের ট্যারিফ ছাদ-ভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে । শ্রীলঙ্কায় বহুপাক্ষিক সংস্থার ঋণ এ খাতে অর্থায়নের বাধা মোকাবিলায় সহায়তা করে। পরে সরকারি ভবনে ছাদ-ভিত্তিক বিদ্যুতের জন্য শ্রীলঙ্কার সরকার নিজস্ব তহবিল প্রদান করেছে। অপরদিকে ভারতে ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত ছাদ-ভিত্তিক বিদ্যুতের সক্ষমতা ১৮ হাজার মেগাওয়াট অতিক্রম করেছে, যা ধারাবাহিক নীতি ও সরকারি সহায়তার ফল।   

শফিকুল আলম জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে ছাদ-সৌর বিদ্যুৎ খাত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তাই কর্মসূচির সফলতার জন্য সরকারি সংস্থা ও অংশীজনদের সক্ষমতা উন্নয়ন অপরিহার্য। পাশাপাশি প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে স্বাধীন মনিটরিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।  

/এসএনএস/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারে দিতে হবে না বাড়তি দাম
বিদ্যুতের দাম কমাতে রিভিউ আবেদন
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
সর্বশেষ খবর
বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু
বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু
মধ্যপ্রাচ্যের তিন যুদ্ধবিরতিকেই কেন যুদ্ধ মনে হচ্ছে
মধ্যপ্রাচ্যের তিন যুদ্ধবিরতিকেই কেন যুদ্ধ মনে হচ্ছে
কর্মসংস্থান রক্ষায় ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল আনলো বাংলাদেশ ব্যাংক
কর্মসংস্থান রক্ষায় ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল আনলো বাংলাদেশ ব্যাংক
মহাকাশ কম্পিউটিংয়ের প্রথম উদ্ভাবন কেন্দ্রের অনুমোদন চীনের
মহাকাশ কম্পিউটিংয়ের প্রথম উদ্ভাবন কেন্দ্রের অনুমোদন চীনের
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি