বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংক একীভূত করে একটি নতুন ব্যাংক গঠনের প্রক্রিয়া চললেও এর বিরোধিতা করেছে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের (এসআইবিএল) একটি অংশের উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডাররা। ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান পরিচালক মো. রেজাউল হকসহ ৯ জন শেয়ারহোল্ডার সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং অর্থ বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়ে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূতকরণ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার (২৫ আগস্ট) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংককে একীভূত করে একটি নতুন ব্যাংক গঠনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তবে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের দাবি, এ সিদ্ধান্ত ব্যাংকটির জন্য অনৈতিক ও আইনবহির্ভূত।
চিঠিতে তারা উল্লেখ করেন, ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটির উদ্যোক্তারা পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন। পরে এস আলম গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং ওই সময়ে নামমাত্র প্রতিষ্ঠান ও বেনামি কোম্পানির নামে জামানতবিহীন হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করে বিদেশে পাচার করা হয়। এতে ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
তাদের অভিযোগ, এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংক নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে, বরং অনেক ক্ষেত্রে সহায়তাও দিয়েছে। ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে কিছু পরিবর্তন এলেও প্রকৃত উদ্যোক্তাদের বঞ্চিত করা হয়। নতুন বোর্ডে মাত্র একজন উদ্যোক্তা পরিচালক ও চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক রাখা হয়, যা ব্যাংকের সংকট মোকাবিলায় কার্যকর হয়নি।
চিঠিতে আরও বলা হয়, প্রকৃত উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের হাতে দায়িত্ব ফিরিয়ে দিলে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক সহযোগিতা করলে এসআইবিএল দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে। একীভূতকরণ প্রক্রিয়া চালু হলে ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকের আস্থা আরও কমে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।









