চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তবে পরবর্তী অর্থবছর ২০২৬-২৭ সালে এই প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিশ্বব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টসের জানুয়ারি সংস্করণে বাংলাদেশের অর্থনীতির এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতির চাপ ধীরে ধীরে কমা, মানুষের ভোগব্যয় বাড়া এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনার কারণে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ধারণা, ২০২৬ সালের শুরুতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং নতুন সরকার কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবে। এতে শিল্প খাত শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগ ও সরকারি ব্যয় উভয়ই বাড়তে পারে।
তবে চলতি অর্থবছরে অর্থনীতির ওপর একাধিক চাপের কথাও তুলে ধরেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি এখনো লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করায় ঋণপ্রবাহ কমেছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বাধা সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রবৃদ্ধির হিসাবে ভুটান শীর্ষে থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। দেশটিতে চলতি অর্থবছরে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। ভারতের প্রবৃদ্ধি হতে পারে সাড়ে ৬ শতাংশ। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, মালদ্বীপে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ এবং নেপালে ২ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির নির্দিষ্ট কোনো পূর্বাভাস দেয়নি বিশ্বব্যাংক।
এদিকে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ৪ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বৈশ্বিক অর্থনীতির চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাণিজ্য উত্তেজনা ও নীতিগত অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও বৈশ্বিক অর্থনীতি এখনো তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমে ২ দশমিক ৬ শতাংশে নামতে পারে, যা ২০২৭ সালে বেড়ে ২ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাবে। তবে চলমান দশকটি ১৯৬০–এর দশকের পর সবচেয়ে দুর্বল প্রবৃদ্ধির দশক হতে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্ডারমিত গিল বলেন, উচ্চমাত্রার সরকারি ও বেসরকারি ঋণের বোঝা নিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি ধীরগতিতে এগোচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বিনিয়োগবান্ধব সংস্কার, বাণিজ্য উদারীকরণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে জোর দিতে হবে।








