মার্কিন শুল্ক কমতে পারে ২-৩ শতাংশ

সাদ্দিফ অভি
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:০০আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:২২

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলছে বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে অলোচনা হবে। বাংলাদেশি পণ্যের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত সর্বশেষ ২০ শতাংশ শুল্ক থেকে ২-৩ শতাংশ কমতে পারে। এই লক্ষ্যে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি পাল্টা শুল্কহার নিয়ে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি হবে। একটি নির্ধারিত শুল্ক স্থির করা হবে এই চুক্তিতে। পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২-৩ শতাংশ শুল্ক কমতে পারে, তবে তা এখনও নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। এটি সম্পূর্ণ মার্কিন প্রশাসন তথা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর নির্ভর করছে।

গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের ওপরে প্রথমে ৩৭ শতাংশ এবং পরে তা কমিয়ে ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করে। ওয়াশিংটনে তৃতীয় দফার আলোচনা শেষে গত বছরের ৩১ জুলাই পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। বিনিময়ে দিতে হয় বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশ কিছু পণ্য আমদানি বাড়ানোর এবং বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত হয়। একইসঙ্গে জ্বালানি, কৃষিপণ্য, বিশেষ করে তুলা ও গম আমদানি বৃদ্ধির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। এছাড়া মার্কিন ব্যবসায়ীদের জন্য বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করারও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কের প্রভাব অর্থনীতিতে কাজ করায়—তার বৈশ্বিক বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে মার্কিন ঘাটতি নভেম্বরে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পরিসংখ্যান ব্যুরো। ২০০৯ সালের গোড়ার দিকে বাণিজ্য ঘাটতি সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছানোর একমাস পর এটি ৫৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে—যা গত অক্টোবরের তুলনায় প্রায় ৯৫ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছ থেকে এসেছিল। যেখানে বাণিজ্য ঘাটতি ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য-ঘাটতি প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পেয়ে ১৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে নভেম্বরের মধ্যে ঘাটতি ৮৩৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে—যা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ বেশি।

মার্কিন সেন্সাসের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি এবং ২ দশমিক ২ বিলিয়ন রফতানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বাণিজ্য ঘাটতি রয়ে গেছে প্রায় সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলারের। ২০২৪ ও ২০২৩ সালে এই ঘাটতি ছিল ৬ বিলিয়ন ডলার। ২০২২ সালে ছিল ৮ বিলিয়ন ডলার।

গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশের পণ্যে পাল্টা শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় ৭ আগস্ট থেকে। নতুন করে ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক যুক্ত হলে—তা আগের ১৫ শতাংশের শুল্কের সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫ শতাংশে দাঁড়ায়।

মার্কিন পাল্টা শুল্ক কমার ইঙ্গিত দিয়ে সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী বলেছেন, ‘‘আশা করি (শুল্ক) বাড়াচ্ছে না। ২০ শতাংশের মধ্যেই থাকবে। এখন যেটা আছে, তার চেয়ে ভালো হবে। এমন খুব ‘স্ট্রং’ আশ্বাস আমাদের দেওয়া হয়েছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্র বলছে বিজনেস বাড়াতে হবে। আমাদের আশিক চৌধুরী, এনবিআর পোর্টের চেয়ারম্যান—সবাই কিন্তু একই জিনিস নিয়ে কাজ করছে। এ কারণে আমরা প্রোগ্রেস খুব তাড়াতাড়ি দেখাতে পেরেছি। যার কারণে তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বাংলাদেশ খুবই কনস্ট্রাক্টিভলি এই বিষয়টা ডিল করেছে। আমরা যে বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে শুরু করেছিলাম, ৬ বিলিয়ন ডলারের ডেফিসিট এখন অলরেডি অনেকটা কমে গেছে।’’

তার মতে, এখন মুশকিল হলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অ্যাটেনশনটা লাগবে। এখন মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে মিটিংয়ের পর আজ তার ডেপুটি তারপর আমাদের চিফ নেগোসিয়েটর—ওনাদের সঙ্গে আমার ই-মেইলে এক্সচেঞ্জ হওয়ার পর, একটু আমাদের আশ্বাস দিলো যে আমাদের যেটা এখন আছে ২০ শতাংশ রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ, এটা আমরা কিছু উন্নত করতে পারি। আর এটা ছাড়া আরও কয়েকটা সেক্টরে আরও কিছু উন্নতি পেতে পারে। আমি এর বেশি আর কিছু বলবো না। কারণ যখন আমরা সংবাদটা পাবো, আশা করছি এই সপ্তাহ শেষের থেকে বা আগামী সপ্তাহ থেকে হয়তো পাবো।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘যখন হবে তখন এটা আমরা আরেকটু পাবলিকলি বলবো। কিন্তু এতটুকু আমি বলবো, আমাদের সমন্বিত অর্থনৈতিক কূটনীতি মনে হচ্ছে কাজে দিচ্ছে।’’

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) জানান, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্কহার নিয়ে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি হবে।

বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘‘বাংলাদেশের রেসিপ্রোকাল শুল্কহার ২০ শতাংশ আছে। অন্যান্য দেশে একই আছে। আবার কিছু দেশে বেশি আছে। তবে আমরা আশা করছি, হয়তো আরও কিছু কমতেও পারে। সে ধরনের একটা ধারণা আছে। তবে নিশ্চিত করে বলতে পারবো না, এখনও নিশ্চিত হয়নি।’’

তিনি বলেন, ‘‘আমরা চুক্তির খসড়া করেছি, তবে চূড়ান্ত শুল্ক কত হবে, সেটা ৯ তারিখের আগ পর্যন্ত বলা যাবে না।’’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, আমাদের চেষ্টা ছিল ট্যারিফ কমিয়ে ১৫ শতাংশের নিয়ে আসার। তবে কতটুকু কমবে সেটি এখনই বলা সম্ভব নয়।

/আরকে/এপিএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
সর্বশেষ খবর
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম, খুশি ব্যবসায়ীরা
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম, খুশি ব্যবসায়ীরা
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: সোহেল রানার জবানবন্দিতে যা উঠে এলো
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: সোহেল রানার জবানবন্দিতে যা উঠে এলো
নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’
নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের