সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রবিবার (২৯ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বাড়লেও বাজারের সামগ্রিক চিত্র ছিল নেতিবাচক। বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর কমায় দিন শেষে কমেছে সবকটি প্রধান সূচক। তবে এই পতনের মধ্যেও কিছু কোম্পানির শেয়ারে উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে বাংলাদেশ অটোকারস লিমিটেডের শেয়ারের।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দিন শেষে বাজারে মোট লেনদেন হয়েছে ৬৪৬ কোটি ৪২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। আগের কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) লেনদেন হয়েছিল ৬০৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৪৩ কোটি টাকার বেশি। যদিও লেনদেন বাড়লেও বাজারে বিক্রির চাপ বেশি থাকায় সূচক কমেছে।
লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৪ দশমিক ১৭ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৭২ দশমিক ০৭ পয়েন্টে। শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ৭ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ কমে হয়েছে ১ হাজার ৬৬ দশমিক ১১ পয়েন্ট। আর শীর্ষ ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস৩০ সূচক ২১ দশমিক ৩২ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ০৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৯৮ দশমিক ৩৯ পয়েন্টে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, দিন শেষে ডিএসইতে মোট ৩৯৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১১৪টির দাম বেড়েছে, ২৫০টির দাম কমেছে এবং ৩০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ বাজারে দরপতন হওয়া কোম্পানির সংখ্যাই ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিক্রির চাপের ইঙ্গিত দেয়।
এদিন মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশ অটোকারস লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৯ দশমিক ৯১ শতাংশ বেড়ে আগের দিনের ১৬৮ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ১৮৫ টাকা ১০ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। তুলনামূলক বেশি চাহিদা থাকায় কোম্পানিটির শেয়ারে এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে বলে বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিডি থাইফুড। কোম্পানিটির ইউনিট মূল্য ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়ে ১৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১৮ টাকা ৮০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে পিএইচপি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। এ ফান্ডের ইউনিট মূল্য ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ বেড়ে ৩ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ৩ টাকা ৬০ পয়সায় উন্নীত হয়েছে।
চতুর্থ স্থানে রয়েছে টেকনো ড্রাগস লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৮ দশমিক ৯১ শতাংশ বেড়ে ৩০ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ৩৩ টাকায় পৌঁছেছে।
আর মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। এ ফান্ডের ইউনিট মূল্য ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে ৩ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ৩ টাকা ৯০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুরোপুরি ফিরে না আসায় সূচকের ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে বড় মূলধনী অনেক কোম্পানির শেয়ারে দরপতন হওয়ায় বাজারের প্রধান সূচকে চাপ তৈরি হচ্ছে। তবে কিছু নির্বাচিত কোম্পানির শেয়ারে ক্রয়চাপ থাকায় সেগুলোর দাম বাড়ছে।
তাদের মতে, বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নীতিগত স্থিরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।









