স্থানীয় উৎস থেকে বিনামূল্যে সংগ্রহ করা উপকরণ ব্যবহার করে উৎপাদিত তৈরি পোশাক সিএমটি (কাট, মেক অ্যান্ড ট্রিম) ভিত্তিতে রফতানির বিষয়ে নীতিগত স্পষ্টতা চেয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)।
এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। ৯ এপ্রিল পাঠানো ওই চিঠিতে বিদ্যমান এসআরও’র কিছু সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারির অনুরোধ জানানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ২৯ মে জারি করা এসআরও অনুযায়ী বিদেশ থেকে বিনামূল্যে আমদানিকৃত উপকরণ ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্য সিএমটি ভিত্তিতে রফতানির সুযোগ রয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতার সরবরাহকৃত কাঁচামাল ব্যবহার করে স্থানীয় প্রস্তুতকারকরা উৎপাদন ও রফতানি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন।
তবে বিদেশি ক্রেতার মনোনীত স্থানীয় সরবরাহকারীর কাছ থেকে বিনামূল্যে সংগৃহীত উপকরণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে একই ধরনের সুবিধা প্রযোজ্য হবে কি না— সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও নির্দেশনা নেই বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিকেএমইএ বলছে, তৈরি পোশাক খাতের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে দেশের পশ্চাৎপদ সংযোগ শিল্পও (ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ) উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। বর্তমানে এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী কাঁচামাল সরবরাহে সক্ষম। অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি ক্রেতা বা তাদের প্রতিনিধির নির্দেশনায় স্থানীয় সরবরাহকারীরা বিনামূল্যে উপকরণ সরবরাহ করে, যা পরবর্তীকালে রফতানিযোগ্য পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
কিন্তু এ ধরনের সরবরাহকে ‘প্রচ্ছন্ন রফতানি’ (ডিমড এক্সপোর্ট) হিসেবে গণ্য করা হবে কি না— সে বিষয়ে নীতিগত অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
এ অবস্থায় বিদেশ থেকে আমদানিকৃত উপকরণের ক্ষেত্রে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, একইভাবে স্থানীয় উৎস থেকে বিনামূল্যে সংগৃহীত উপকরণ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সিএমটি ভিত্তিতে রফতানির সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে বিকেএমইএ।
সংগঠনটির মতে, এ ধরনের নীতিগত স্পষ্টতা থাকলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের অর্ডার বাস্তবায়ন আরও সহজ হবে। একইসঙ্গে ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন (ইউডি) এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক মুদ্রা প্রাপ্তির প্রমাণের ভিত্তিতে অনুমোদনের ব্যবস্থা চালু করা হলে লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি কার্যক্রমও সহজ হবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন ব্যয় কমবে, লিড টাইম হ্রাস পাবে এবং স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি রফতানি কার্যক্রমে নমনীয়তা বৃদ্ধি পাবে, যা বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
এ প্রেক্ষাপটে বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় নীতিগত নির্দেশনা জারির জন্য এনবিআরের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।









